চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের শপথ ও ফলাফল প্রকাশের অনুমতি চেয়ে করা আবেদনের আদেশের জন্য আজ দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বুধবার আসন দু’টির নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ ও শপথ স্থগিতের বিরুদ্ধে আংশিক শুনানি শেষ হয়েছে। পরে আদেশের জন্য এ দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ।
শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, এই দুটো আসনে নির্বাচন হয়েছে কিন্তু রেজাল্ট পাবলিকেশন এবং শপথ আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী স্থগিত আছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত আপিল নিষ্পত্তি না হয়েছে। এই দুটো মামলায় এই দুইজন ব্যক্তির পক্ষে মোডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন দায়ের করা হয়েছিল। তাদেরকে শপথ নেয়ার সুযোগ করে দেয়ার আবেদন জানানো হয়। একইসঙ্গে একটা উইথড্রয়াল অ্যাপ্লিকেশন দায়ের করেছিলাম। এই দুটোর ওপরই আংশিক শুনানি হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ এই দুটো অ্যাপ্লিকেশনের ওপর আদেশ দেবেন।
তিনি বলেন, এই দু’টি মামলায় দু’জনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচন অফিস এবং আপিলেও অনুমতি দেয়া হয়েছিল। হাইকোর্টে এসে কন্টেস্টিং পার্টির রিট পিটিশন করেছিলেন, সেখানে এটি খারিজ হয়ে গিয়েছিল। তারপরও এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে লিভ গ্রান্ড হওয়ার পর সেখানে বলা হয়েছিল, যেহেতু ঋণখেলাপির অভিযোগ আছে এবং যেদিন এটি (নমিনেশন পেপার) সাবমিট করার কথা, সেইদিন ঋণখেলাপি কিনা- এই প্রশ্নে তাদের শপথ স্থগিত করে রাখা হয়েছিল।
এ ছাড়া, সারোয়ার আলমগীরকে ইসি অফিস অ্যালাউ করেছিল। আপিলে গিয়ে চিফ ইলেকশন কমিশনের নেতৃত্বে যে আপিল হয়, সেই আপিলে তিনি ডিফল্টার হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে তিনি রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। রিটে তার পক্ষে নমিনেশন পেপার নেয়ার জন্য ডিরেকশন দেয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন বিবদমান পক্ষ। সেখানেও লিভ দিয়ে বলা হয়েছিল যে, ইলেকশনে পার্টিসিপেট করবেন কিন্তু রেজাল্ট পাবলিকেশন স্থগিত থাকবে এবং তাদের শপথ গ্রহণ স্থগিত থাকবে, যতক্ষণ এই লিভ পিটিশনটা নিষ্পত্তি না হয়েছে। আপিলটা নিষ্পত্তি না হয়েছে।
শিশির মনির আরও বলেন, আজকে তারা দু’টি দরখাস্ত করে বলেছেন, যেহেতু ইলেকশন হয়ে গেছে এখন তাদেরকে রেজাল্ট পাবলিকেশন এবং শপথ নেয়ার সুযোগ দেয়া হোক। কিন্তু আমরা বলেছি মূল আপিল তো এখনো শুনানি হয়নি। মূল আপিল শুনানি না হয়ে এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশন যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে মূল আপিল শুনানির আর কোনো প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। এজন্য তারা প্রকৃত অর্থে ডিফল্টার কিনা, ঋণখেলাপি কিনা এবং তাদের জন্য কোন আইন অ্যাপ্লিকেবল হবে- এটা দেখার জন্যই পরিপূর্ণ আপিল শুনানি হতে হবে। তাই আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার এই দু’টি দরখাস্তের ওপর আদেশ দেবেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই দুই প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হলেও ঋণখেলাপির আইনি জটিলতায় তাদের গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ স্থগিত রয়েছে। পূর্বে এই মামলার শুনানির জন্য গত ২৮শে এপ্রিল এবং পরবর্তীতে ৫ই মে তারিখ নির্ধারিত থাকলেও সর্বশেষ আপিল শুনানির দিন ধার্য করা হয় ১২ই মে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এই সংক্রান্ত আপিল ও আবেদনটির ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) দিন নির্ধারণ করেছেন।
