হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে এক মণ ধানেও মিলছে না একজন শ্রমিক। শ্রমিক সংকটে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে কৃষকরা। শায়েস্তাগঞ্জে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি বছরে ২২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ব্রি ধানের আবাদ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে নিচু জমির প্রায় ৬০ শতাংশ ধান নুয়ে পড়েছে। জমিতে পানি জমে থাকায় এসব ধান দ্রুত কাটতে না পারলে পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার শাহজাহান জানান, জমিতে ধান নুুয়ে পড়েছে, আবার পুরোপুরি পাকেনি। এখন কাটতে পারছি না, আবার অপেক্ষা করলে পচে যাবে। এতে অর্ধেক ফসলও ঘরে তুলতে পারবো না।
অপরদিকে শ্রমিক সংকট, কোথাও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও স্থানীয় শ্রমিক পাওয়া যায়, তাদেরকে মজুরি হিসেবে ১ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। আর ১ মণ ধান বিক্রি করা হচ্ছে ১০৫০ টাকা থেকে ১১শ’ টাকা। কৃষকরা জানান, এলাকায় ধান কাটা শ্রমিকের বড় অংশ আসে আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে। তবে বর্তমানে বিকল্প কর্মসংস্থান বেড়ে যাওয়ায় অনেক শ্রমিক আর ধান কাটার মতো কষ্টসাধ্য কাজে আসছেন না। উপজেলার পূর্ব বড়চর আলাউদ্দিন ও সুরাব মিয়া জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ফসলি জমিতে পানি জমে ধান নুয়ে পড়েছে আবার হাঁটু পর্যন্ত পানি থাকায় শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে বেশি। এ ছাড়া, হারভেস্টার দিয়ে বিঘাপ্রতি ধান কাটতে গত বছর যেখানে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা লাগতো, সেখানে এবার ৭ হাজার টাকার বেশি খরচ হচ্ছে।
তবে জমিতে পানি থাকলে হারভেস্টার ব্যবহার করা সম্ভব না। সেইসঙ্গে শ্রমিক সংকট নিরসন না হলে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ধান কাটার ব্যবস্থা না হলে, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এ বছর ধান কাটার খরচ বেড়েছে। এ ছাড়া, বৃষ্টির কারণে বাইরের শ্রমিকরা না আসায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, যেসব জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ফেলতে। অপরদিকে, উপজেলাতে এখন পর্যন্ত ২০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
