ইরানের দেয়া সর্বশেষ জবাব প্রত্যাখ্যানের পর এবার দেশটির সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক মাসের যুদ্ধবিরতি এখন ‘বিশাল লাইফ সাপোর্টে’ আছে।
দেশটির স্থানীয় সময় সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর থাকলেও এটি অবিশ্বাস্য রকম দুর্বল।
ইরানের পাঠানো প্রস্তাবের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ওরা আমাদের যে আবর্জনাটা পাঠিয়েছে, সেটা আমি পড়ে শেষও করিনি। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরান যতটুকু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, সেটি সরিয়ে নেয়ার অনুমতি দিচ্ছে না তেহরান।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।
তেহরানের সরকার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা তাসনিম বলেছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের জন্য যে প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে, সেটি মেনে নেয়ার কোনো ইঙ্গিত ইরানের পাঠানো ১৪ দফা প্রস্তাবে নেই।
এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে এবং শিক্ষা দিতে প্রস্তুত।
ফলে ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা নিভে এলেও বার বার তা জ্বলে উঠছে। আবার আতঙ্ক দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইরানি হামলার ফলে অঞ্চলটিতে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার ট্রাম্প তার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দুইটি ছবি পোস্ট করেছেন। এসব ছবিতে ইরানের সামরিক সম্পদের ওপর হামলার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইরানের পতাকাবাহী একটি বিস্ফোরিত বিমান এবং সমুদ্রে আক্রান্ত হওয়া কয়েকটি ইরানি দ্রুতগামী নৌযান। একটি ছবির ক্যাপশনে ট্রাম্প লিখেন, বিদায় দ্রুতগামী নৌযান। আরেক ছবিতে লিখেছেন, লেজার বিং, বিং, উধাও।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই বলেন, আবারো হামলার শিকার হলে ইরান ৯০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ. আর. ম্যাকমাস্টার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হবে।
তিনি বলেন, আমার মনে হয় ইরানের শাসকগোষ্ঠী আরও একটি বিরাট ভুল করছে, তারা আরেকটি বিকল্প পথ এড়িয়ে যাচ্ছে।
সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার আলোচনায় ইরান যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে তা নিয়ে ট্রাম্প ক্রমশ ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন।
ট্রাম্পের কিছু সহযোগী বলেন, সামপ্রতিক সপ্তাহগুলোর তুলনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি টানা বন্ধ থাকায় ট্রাম্প অধৈর্য হয়ে পড়েছেন। সেই সঙ্গে ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে যে বিভাজন, তা তেহরানকে পারমাণবিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য ছাড় দিতে বাধা দিচ্ছে বলে মনে করছেন ট্রাম্প।
পেন্টাগনের কর্মকর্তাসহ অনেকে ইরানকে আলোচনায় বসতে চাপ দেয়ার জন্য দেশটির বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক পন্থা অবলম্বনের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তারা দেশটিতে লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক হামলা চালাতে পরামর্শ দিয়েছেন।
পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে- তা নিয়ে সোমবার ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে আবারো বৈঠক করেছেন।

no need, i am man.
২ মাস আগেKhristaan , Ihudi , Boddho , Hindu Ra kanoo Muslim Manush kea ''Hotta'' korea ?