মন্ত্রিসভার শপথে যোগ দেয়নি বিরোধী জোট

মন্ত্রিসভার শপথে যোগ দেয়নি বিরোধী জোট

ফন্ট সাইজ:

গণপরিষদ সদস্য হিসেবে বিএনপি’র এমপিরা শপথ না নেয়ায় শুরুতে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও পরে শপথ নিয়েছে জামায়াতসহ বিরোধী দলের এমপিরা। গতকাল জাতীয় সংসদে তাদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। এমপি হিসেবে শপথ নিলেও ‘গণ পরিষদ’ ইস্যু সামনে রেখে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেননি বিরোধী দলের কেউ। এ নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কিছু বলা হয়নি। তবে জোটের শরিক এনসিপি’র ফেসবুক পেজে জানানো হয় মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে তারা যাবে না।

ওদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এবং উপনেতা হিসেবে দলটির নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের দায়িত্বে থাকবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শেষে জামায়াতের সংসদীয় দলের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি এবং পটুয়াখালীর বাউফল থেকে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সর্বসম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। এ সময় বরগুনা-১ থেকে নির্বাচিত ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান ওয়ালী উল্লাহও শপথ গ্রহণ করেন। পরে শপথ নেন এনসিপি’র সংসদ সদস্যরা। জামায়াত ও এনসিপিসহ ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংসদ সদস্যরা এদিন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার সকালে বিএনপি’র সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। বিকালে দলের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয়। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি বিএনপি।
শপথ অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দলের কক্ষে জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন- জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান। অতঃপর ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ৭৭ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ: এদিকে জামায়াত আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ নিজ নিজ সরকারের পক্ষ থেকে ডা. শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে তার নেতৃত্বে দল ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে। যেসব দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, তাদের মধ্যে ছিলেন-ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে, যুক্তরাজ্যের ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক মন্ত্রী সীমা মালহোত্রা, ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক সচিব বিক্রম মিশ্রি, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. বেরিস একিনচির, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরী, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল বালা নন্দ শর্মা। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম; সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিরোধী দলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং জামায়াত আমীরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
‘অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ সরকারে যাওয়া ন্যায় সঙ্গত নয়’

অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ এই সরকারে যাওয়া ফেয়ার নয় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার দেশ ও জনগণের স্বার্থের পক্ষে উদ্যোগ নিলে আমাদের সহযোগিতা পাবে। জনস্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে প্রতিবাদ- প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।

গতকাল মঙ্গলবার শপথের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াত আমীর। তিনি বলেন, আমরা জুলাই শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারি নাই। সরকারি দল হতে পারি নাই, আফসোস নাই। ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনের উৎসব মিলিয়ে গেছে। দেশের মানুষ পরিপূর্ণভাবে তাদের আমানত পূরণ করতে পারেনি। গভীর রাতে শপথের চিঠি দিয়েছে। এটি অস্বস্তিকর।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা, গণভোটের রায়কে সম্মান দেখিয়েছি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেয়া জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীত। এটা সংস্কারের বিরোধী। বিএনপি জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবে। জুলাইকে অসম্মান করে সংসদে গৌরবের আসনে বসতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাক- এটা আমাদের চাওয়া। প্রত্যেক নাগরিক যেন নিরাপত্তা পায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক, এটি আমরা চাই। নির্বাচনের রাত থেকে বিভিন্ন এলাকায় আমাদের ভোট দেয়ার কারণে নারী-পুরুষের ওপর হামলা হচ্ছে। এটা বন্ধ হোক, এটা আমরা চাই। ইতিবাচক ভূমিকা হলে সহযোগিতা পাবে সরকার।

সিরু

৫ মাস আগে

স্বাধীনতা বিরোধী জঙ্গি রাজাকার আর জুলাই বাটপার গুলো বাংলাদেশীদের আনন্দঘন যে কোন আয়োজনে না গেলেই উত্তম।

এম.টি রক্সি

৫ মাস আগে

আপনারা মন্ত্রী শপথে গেলেন না কেন? কারণ কি সংবিধান পরিষদ শপথ নেননি তাই ? বর্তমান সংবিধানে তো সংবিধান পরিষদ নেই। তাহলে তো তারা ঠিক কাজটিই করেছেন। আপনারা নাকি নতুন নিয়ম চালু করতে চান? তারেক রহমান তো আপনাদের সাথে দেখা করে নতুন নিয়ম চালু করলেন। আপনারা গেলে কি হতো? এই কি নতুন রাজনীতির সংস্কৃতি ?

সিরু

৫ মাস আগে

এসব জঙ্গি রাজাকার জুলাই বাটপার গুলো সংসদে গেলে সংসদের মর্যাদার হানি ঘটবে।

সৈয়দ নজরুল হুদা

৫ মাস আগে

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ইউটার্ন নেয়াটা বিএনপির জাতির সাথে ও জুলাইয়ের শহীদের বিরুদ্ধে নিদারুণ ওপর বিশ্বাসঘাতকতা।আমরা আশাবাদী,ক্ষমতাসীন বিএনপি এপথ থেকে সরে এসে শপথ নেবে।

মন্তব্য করুন