অন্তর্ববর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। তিনিই ব্যতিক্রম। আর কোনো উপদেষ্টা মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। ঝানু কূটনীতিক ড. খলিল, যার আন্তর্জাতিক খ্যাতি রয়েছে। তিনি আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় সে রকম দায়িত্ব পালন করবেন- এমনটাই আশা করা হচ্ছে। ড. খলিল সম্ভবত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন।
নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছাড়াও রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এই কূটনীতিক।
তিনি ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) নিয়মিত পরীক্ষায় (১৯৭৭) প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে কূটনৈতিক ক্যাডারে যোগদান করেন। একই বছরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্লেচার স্কুল অব ল’ অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি আইন ও কূটনীতিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে ঢাকা বোর্ড থেকে ছয়টি বিষয়ে লেটার মার্কসহ এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে বাংলা বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৭০ সালে তিনি কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার আসরের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এবং নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং স্বল্পোন্নত দেশসমূহের (এলডিসি) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জেনেভায় জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন (আঙ্কটাড)-এ বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘ সচিবালয়ে ১৯৯১ সালে যোগ দেন ড. রহমান। পরবর্তী ২৫ বছর তিনি নিউ ইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন জ্যেষ্ঠ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদসমূহ হলো- জাতিসংঘ মহাসচিবের কার্যালয়ে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রধান। জাতিসংঘ মহাসচিবের উচ্চপর্যায়ের টেকনোলজি ব্যাংক গ্রুপের এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি। আঙ্কটাডের প্রযুক্তি বিভাগ, ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বাণিজ্য নীতি বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আঙ্কটাডের ব্যুরো প্রধান। জাতিসংঘ সচিবালয়ে এলডিসি কর্মসূচির প্রধান। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অশুল্ক বাধা বিষয়ক জাতিসংঘ আন্তঃসংস্থাগত গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং বিশ্ব বাণিজ্যের নতুন ও গতিশীল খাত বিষয়ক কর্মসূচির সমন্বয়কারী প্রভৃতি দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
ড. রহমান জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রকাশনার প্রধান লেখক ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারী। এর মধ্যে রয়েছে ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ইন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড, স্টেট অব দ্য এলডিসি’স’ বার্ষিক প্রতিবেদন এবং ‘ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’- রিপোর্ট। তিনি বাণিজ্য, অর্থায়ন ও উন্নয়ন বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব ও আঙ্কটাড মহাসচিবের অসংখ্য প্রতিবেদন প্রণয়ন করেন। ২০০১ সালে ব্রাসেলস এলডিসি সম্মেলনের কর্মপরিকল্পনা (প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন) প্রণয়নে খসড়ায় তিনি নেতৃত্ব দেন এবং এলডিসি দেশগুলোর রপ্তানির জন্য শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০১ সালে তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেশে ফিরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির দিক-নির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টায় অবদান রাখেন। ২০২৬ সালে সম্পাদিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির প্রধান আলোচক ছিলেন তিনি। ড. রহমান ঢাকা শহরে ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিবাহিত। তার দুইকন্যা ও চারজন নাতি-নাতনি রয়েছে।

Sahil
৫ মাস আগেমানুষ জমিনের সব বিরোধী মন্তব্য। ডক্টর ইউনূসের ত সমালোচনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে বিদেশী কূটনীতিক সম্পর্কের বিষয়গুলাই তেমন কিছুই যিনি করতে পারেননি। আবার এখন খলিলুর রহমান এসে সম্বন্ধে বলা হচ্ছে তিনি অত্যন্ত সক্রিয় একটি বিদেশী কূটনীতিক ব্যবস্থা সফল করেছেন অন্তর্বর্তী সরকার এর সময়।