সিলেট অঞ্চলের তিন জেলায় মন্ত্রী না থাকায় হতাশা

ফন্ট সাইজ:

অতীতে এমন ঘটনা ঘটেনি। যেটি এবারই ঘটলো সিলেট অঞ্চলে। এক জেলা দুই মন্ত্রী। বাকি তিন জেলাই মন্ত্রীশূন্য। অথচ আলোচনায় ছিলেন অনেকেই। এমন ঘটনায় হতাশা বিরাজ করছে সিলেট অঞ্চলে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও প্রশ্ন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকেরই। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রধান তারেক রহমানকে হতাশ করেননি সিলেটের মানুষ। মন-প্রাণ উজাড় করে ভোট দিয়েছেন। বিভাগের চার জেলার ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিই আসনই তারা ভোট দিয়ে বিএনপি’র প্রার্থীদের জয়লাভ করিয়েছেন। ভোটেও সিলেট অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এমন বিজয় সিলেট অঞ্চল থেকে পায়নি বিএনপি। এজন্য বাহ্বা কুড়াচ্ছেন বিএনপি’র নেতৃত্বরা। সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জের বিএনপি’র নেতারা চরম দুর্দিনেও দল ও জনগণকে নেতৃত্ব দিয়ে আগলে রেখেছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি ছিলেন জনগণের কাছাকাছি।

সর্বশেষ দলীয় প্রধানের সিলেট সফরে পাল্টে যায় ভোটের পরিবেশ। নির্বাচনী মাঠে ধোপেও টেকেনি প্রতিপক্ষের নানা চক্রান্ত। মানুষই ভোট দিয়ে একেক করে সব আসনেই পাস করিয়ে দেয় বিএনপি’র প্রার্থীদের। কোনো আসনেই হারেনি বিএনপি। একমাত্র সিলেট-৫ আসনটি গিয়েছিলো শরিক দল জমিয়তের ঘরে। কেবল ওই আসনটি হাতছাড়া হয়। সিলেট অঞ্চলের বিএনপি’র নেতারা জানিয়েছেন- নির্বাচনে তারা দলের হাইকমান্ডের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেটি পালন করেছেন। জনগণই আস্থা রেখেছে বিএনপি’র উপর। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে- বিগত ১৭ বছর উন্নয়নে পিছিয়ে ছিল সিলেট। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে কিছু কিছু উন্নয়ন হয়েছে। অন্য তিনটি জেলাই ছিল বঞ্চিত। এ কারণে সিলেটের মানুষ এবার উন্নয়নের জন্যই বিএনপিকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে। এদিকে- মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হয়েছে। এবার সিলেট অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু ৫০ জনের মতো মন্ত্রী পরিষদের বহরে সিলেট অঞ্চল থেকে জায়গা পেলেন মাত্র দু’জন। এরা হলেন- সিলেট-১ আসনের এমপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-৪ আসনের এমপি আরিফুল হক চৌধুরী।

সিলেট জেলারই দু’জন মন্ত্রী। অপর তিন জেলা মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের খাতা শূন্যই থাকলো। হবিগঞ্জ থেকে আলোচনায় ছিলেন রেজা কিবরিয়া, ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন ও সাংগঠনিক সম্পাদক জি.কে. গউছ। তাদের ঘিরে গুঞ্জন ছিল বেশি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ছিটকে গেলেন তারা। রেজা কিবরিয়া বরেণ্য অর্থনীতিবিদ। সিলেটবাসী আগামীর মন্ত্রী হিসেবে তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন। আর জি. কে. গউছ পৌর মেয়র থেকে এমপি হয়েছেন। তার নেতৃত্বে সিলেট বিভাগে বিএনপি এখন শক্তিশালী সংগঠন। তাকে নিয়েও আলোচনা ছিল হবিগঞ্জে। মন্ত্রিপরিষদ থেকে বাদ পড়ায় হতাশ হয়েছেন হবিগঞ্জের মানুষ। মৌলভীবাজার জেলা দীর্ঘদিন পর মন্ত্রিশূন্য হলো। এ আসন থেকে এবার আলোচনায় ছিলেন সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর ছেলে এম. নাসের রহমান। তিনি পুরনো পার্লামেন্টারিয়ান। মৌলভীবাজারের উন্নয়নে এক সময় সাইফুর রহমান ছিলেন কাণ্ডারী। এবার নাসের রহমানকে নিয়ে সেই স্বপ্ন বুনছিলেন জেলার মানুষ। হতাশ হলেন তারাও।

মন্ত্রিত্ব না আসায় জেলার উন্নয়ন নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মেগা উন্নয়নে মৌলভীবাজার পিছিয়ে থাকার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুনামগঞ্জের প্রবীণ সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলন। একাধিকবার তিনি এমপি হয়েছেন। এবারো ভোটের মাঠে চমক দেখিয়ে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। সুনামগঞ্জের উন্নয়নের অনেক কাজ বাকি। হাওর জনপদের মানুষ এবার তাকে ঘিরে স্বপ্ন বুনছিলেন। মন্ত্রিপরিষদে জায়গা হলো না সুনামগঞ্জের কারও। অথচ সুনামঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের সবক’টি আসনই এবার তারেক রহমানকে উপহার দিয়েছেন তিন জেলার মানুষ। বিএনপি’র নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন- তারা আশায় বুক বেঁধে ছিলেন। হতাশ হবেন না এমন আশাও ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্র্তে তিন জেলা থেকে মন্ত্রিপরিষদে কারও নাম না থাকায় তারা হতাশ-ই হলেন।

মুজাহিদ

৫ মাস আগে

আমরা হবিগঞ্জ বাসি বেশি আশা করেছিল এবার আমরা একজন মন্ত্রী পাব বিশেষ করে বাহুবল নবিগন্জ রেজা সাহেব মন্ত্রী হবেন কিন্তুু তাও হলনা পতিবারের মতো আমাদের কে সব সরকার টকায় আমরা অবহেলিত জনপদ কিন্তুু আমাদের রয়েছে বিশাল প্রাকিতিক সম্পদ বাংলাদেশের অন্যতমগুরুত্বপূর্ণ জেলা তারেক রহমান আমাদের মূল্যয়ন করেন নাই জানিনা কি জন্য

মন্তব্য করুন