যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব রোববার (১০ই মে) মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানকে পাঠিয়েছে ইরান। এরপর পাকিস্তানের কর্মকর্তারা সেটি যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তান্তর করেছে। ইরানের এই প্রস্তাব পাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি বলেছেন, তেহরানের শর্তগুলো ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। ফলে কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর আবারো সংঘাত শুরুর আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে সংক্ষিপ্ত এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছেন। তিনি বলেন, আমি ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের জবাব পড়েছি। আমার এটা পছন্দ হয়নি- সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য!
এমন পরিস্থিতিতে সোমবার (১১ই মে) ইরানের বিভিন্ন পত্রিকার প্রথম পাতায় দেশটির ফের যুদ্ধে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সংবাদ মাধ্যমগুলোর শিরোনামেগুলোতে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে ওয়াশিংটনকে চড়া মূল্য দিতে হবে এমন সতর্কবার্তা এবং চাপের মুখে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না- এমন বিষয়গুলোই প্রাধান্য পেয়েছে।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অনুগত হিসেবে পরিচিত দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী রক্ষণশীল সংবাদপত্র কায়হান তাদের প্রথম পাতার শিরোনামে লিখেছে, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শত্রুপক্ষের জাহাজ ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে তাক করা আছে।
খামেনিপন্থি রক্ষণশীল ইসলামপন্থি সংবাদপত্র রেসালাত এই শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে যে, ‘আমেরিকার যুদ্ধযন্ত্র’ ‘পারস্য উপসাগরে ইরানের আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষার শক্তিশালী ঢেউ’ সহ্য করতে পারবে না।
এ ছাড়া সংবাদপত্রটি ‘বৈরুতের প্রতিশোধ’ শিরোনামে একটি কলামও ছেপেছে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও বৈরুতে ইসরাইল ও ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ’র পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। কলামটি এই হামলা ও হিজবুল্লাহ’র প্রতিশোধ নিয়ে লেখা।
দেশটির সরকারি সংবাদপত্র ‘ইরান’ তাদের শিরোনামে জোর দিয়ে বলেছে, আলোচনা মানে আত্মসমর্পণ নয়, শিরোনামে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরান তার জবাব পাঠিয়েছে, ‘এখন বল ওয়াশিংটনের কোর্টে।’
ইরানের রক্ষণশীল ভাবধারার ‘হামশাহরি তেহরান’ পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ছিল ‘ইরানের যুদ্ধক্ষেত্র’, এ ছাড়া উপ-শিরোনামে ‘দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌযান’, ‘নৌ মাইন’ এবং ‘ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র নগরী’ দেখানো হয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সমপ্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-এর সহযোগী চ্যানেল জাম-ই জাম-এর একটি শিরোনাম ছিল- ‘কমান্ডারের নির্দেশনা’। এতে উল্লেখ করা হয়, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি শত্রুদের সঙ্গে শক্তিশালী মোকাবিলার জন্য নতুন সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সশস্ত্রবাহিনী গুলি চালানোর আদেশের অপেক্ষায়।
ট্রাম্প তেহরানের দেয়া সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, প্রস্তাবটি যুক্তিসঙ্গত ও উদার ছিল।
সোমবার ইসমাইল বাঘেই বলেন, আমাদের খসড়া প্রস্তাবে আমরা যা কিছু প্রস্তাব করেছি, তার সবই যুক্তিসঙ্গত দাবি, দায়িত্বশীল অনুরোধ এবং উদার ছিল।
তিনি দাবি করেছেন যে, এই প্রস্তাব শুধু ইরানের জাতীয় স্বার্থের জন্যই নয়, বরং সমগ্র অঞ্চল ও বিশ্বের মঙ্গল, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার জন্য।
এদিকে ইরানের এপ্লাইড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মোস্তফা খোশচেশম বলেন, তেহরান মনে করে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা নিয়ে আন্তরিক নয় এবং যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি হিসেবে শুধু সময়ক্ষেপণ করছে।
আল জাজিরাকে তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের দাবিগুলো এতটাই অবাস্তব যে, তারা আলোচনা থেকে এমন কিছু অর্জন করতে চায় যা তারা যুদ্ধে পারেনি।
মোস্তফাও দাবি করেছেন যে, তেহরানের ওপর ফের সংঘাত চাপিয়ে দিলে ইরান যুদ্ধে ফিরতে প্রস্তুত।
