‘আমি তখন হজে ছিলাম’

ফন্ট সাইজ:

গত ৭ই মে দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত ‘অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য- তারেক রহমানকে কীভাবে গ্রেপ্তার এবং অমানুষিক নির্যাতন করা হয়’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন লে. কর্নেল (অব.) জাহিদ হোসেন।

প্রতিবাদপত্রে তিনি বলেন, কথিত ঘটনার সময়ের আগেই আমি মধ্য নভেম্বর থেকে আমার দায়িত্ব হস্তান্তর করি। কারণ জরুরি অবস্থাকালীন ডিজিএফআইয়ের ম্যান্ডেটেড বহির্ভূত কাজের ক্ষেত্রে অথরিটির প্রশ্ন তোলায় অনেকেরই বিরাগভাজন হতে হয়েছে এবং এরই প্রেক্ষিতে আমাকে সরিয়ে দেয়ার জন্য কৌশলে আমার নাম মিশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেহেতু আমি ইতিমধ্যেই হজ করার অনুমতি প্রাপ্ত হই, তাই ২০০৭ সালের ২৩শে নভেম্বর থেকে ২৫শে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমি পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য সৌদি আরবে ছিলাম।

তিনি বলেন, সংবাদে উল্লিখিত মেজর (অব.) মনিরও সে সময় একই হজ কাফেলায় হজ পালন করেছেন। ফলে আমাদের উপস্থিতিতে নির্যাতন চালিয়ে তারেক রহমানের জবানবন্দি আদায় এবং তাকে অনেকটা পঙ্গু করে ফেলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য।

তিনি বলেন, আমি ডিজিএফআই’র কাউন্টার টেরোরিজম (সিটি) ব্যুরোতে কখনোই চাকরি করিনি। ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (এফআইবি) এর জি-১ (মিলিটারি) হিসেবে চাকরিকালে আমি বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাদের সঙ্গে কাজ করেছি। পাশাপাশি, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিদেশ গমন ও ফেরতকালীন ছাড়পত্র প্রদান এবং ভিভিআইপিদের বিদেশ গমনের নিরাপত্তা বিশ্লেষণ এর রিপোর্ট তৈরির দায়িত্ব পালন করেছি। ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থা জারির সময় আমি ঢাকার বাইরে ছিলাম।

পরে ঢাকায় ফেরত আসার মাসাধিককাল বাদে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় জরুরি অবস্থায় কাজের ক্ষেত্রে সরকারি আদেশ/প্রজ্ঞাপন জারির কথা বলায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরাগভাজন হই। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমাকে সেনাপ্রধানের নিরাপত্তা সেলের প্রধান করা হলে আমি বিভিন্ন স্থানে তার সফরসঙ্গী হই যার ফলে সকাল থেকে রাত অবধি এই কাজেই আমাকে ব্যস্ত থাকতে হতো। এর বাইরে সে সময় বিভিন্ন সভা, সেমিনার যেমন- বেটার বিজনেস ফোরাম, গুড গভর্নেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ সেমিনার ইত্যাদি আয়োজনসহ বিভিন্ন সভা-সেমিনার আয়োজনের কো-অর্ডিনেটর করা হয়।

ফলে জিএসও-১ (মিলিটারি) এর বাইরে ডিজিএফআই’র অন্য কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার সময় এবং সুযোগ ছিল না।
প্রতিবাদের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, আমার শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা কমান্ড চ্যানেলকে অমান্য করার কোনো রেকর্ড না থাকলেও কোনো কারণ দর্শানো, শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বা আইনি পদক্ষেপ না নিয়েই ২০০৯ সালে আমাকে অপ্রত্যাশিতভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।

পরে অনুসন্ধান করে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় আমার বিষয়টি রিভিউ করে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে অকালীন অবসর দেয়া হলেও বেশ কিছু আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। ২০২৪ এর পট পরিবর্তনের পর বঞ্চিত অফিসারদের কেস রিভিউর দুটি কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে তাকে ভূতাপেক্ষ কর্নেল পদে পদোন্নতি দিয়ে গেজেট প্রকাশের বিষয়টিও উল্লেখ করেন জাহিদ হোসেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন