কাপাসিয়ায় পাঁচ খুন, নানা প্রশ্ন

ফন্ট সাইজ:

কাপাসিয়ায় শুক্রবারের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো আতঙ্ক কাটেনি এলাকাবাসীর। সর্বত্রই আলোচনা এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে। কেন সবাইকে খুন হতে হলো, কীভাবে মারলো, আসলেই কি ফোরকান পিতা হয়ে সন্তানদের মেরেছেন? না সঙ্গে অন্য কেউ ছিল- এসব বিষয় নিয়ে নানানজনে নানা মন্তব্য করছে। এই হত্যার ঘটনায় শনিবার রাতেই নিহত শারমিনের পিতা শাহাদত মোল্লা বাদী হয়ে ফোরকান মিয়াসহ ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন। রোববার সকালে গোপালগঞ্জ সদর পাইককান্দি গ্রামে তাদের জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

গতকাল সরজমিন ঘুরে জানা যায়, হত্যার দিন রাতে সন্তানদের নিয়ে ফোরকান পাশের দোকানে গিয়েছিলেন। যেখানে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তার পাশেই আব্দুর রশিদের ছোট্ট একটি দোকান রয়েছে। তিনি জানান, শনিবার ভোরে লাশ পাওয়া যায়। এর আগে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ছোট মেয়ে ফারিয়াকে কোলে নিয়ে ও উম্মে হাবিবার হাত ধরে তার দোকানে এসেছিলেন ফোরকান মিয়া। শিশুদের জন্য দোকান থেকে চকলেট, চিপস কিনেন। তার দোকান থেকে প্রায়ই মজা কিনতে আসতেন ওই পরিবারের লোকজন। তিনি রাত ১০টার মধ্যে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান।

দুপুর দেড়টার দিকে ওই বাড়িতে আসে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অনেকেই। তারা বাড়িটি ঘুরে ঘুরে দেখছিল। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনা দেশের মানুষের আবেগকে নাড়িয়ে দিয়েছে। একজন বাবা কীভাবে এমন কাজ করতে পারে আমরা বুঝতে পারছি না। দুপুর ১২টা থেকে আশপাশের উৎসুক বাসিন্দাদেরও সেখানে আসতে দেখা গেছে।

বাড়ির সামনের সড়কে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা মোসা. শ্রাবণী নামের এক নারীর সঙ্গে।
ঘটনার খবর পেয়ে সকালে শুরুর দিকে ঘরের ভেতর গিয়েছিলেন তিনি। তিনি বলেন, এই ঘটনা একা ঘটিয়েছে বলে মনে হয় না। আমি খবর শুনে ঘরের ভেতর গিয়ে বীভৎস পরিস্থিতি দেখেছি। একটি ঘরে বিছানার পাশে জানালার সঙ্গে শারমিন আক্তারকে দুই হাত বেঁধে রাখা হয়েছে। শরীরে নতুন শাড়ি। মুখে টেপ প্যাঁচানো, মুখের বেশির ভাগ কালো কাপড় দিয়ে প্যাঁচানো, পিঠের পেছনে দেয়ালে রক্তের দাগ। জীবনে এমন হত্যাকাণ্ড দেখিনি।

নূর নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এই ঘটনার পর আমরা নিজেরা ভয়ে আছি, আতঙ্কে আছি। বাবা নিজের তিন সন্তানকে তো মেরেছেনই, নিজের স্ত্রীকেও মেরেছেন। এটা তো কল্পনাও করা যায় না। তিনি বলেন, স্বামীর কাছে যদি স্ত্রী-সন্তান নিরাপদ না থাকে, তাহলে আর কোথায় নিরাপদ থাকবে। বাবার পরে স্বামীই একজন নারীর আশ্রয়স্থল। এটার যদি বিচার না হয়, তাহলে দেশে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) যুবায়ের আহমেদ জানান, এখনো মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে চেষ্টা চলছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন