সেই বোলাররাই ম্যাচে ফেরালো বাংলাদেশকে

সেই বোলাররাই ম্যাচে ফেরালো বাংলাদেশকে

ফন্ট সাইজ:

জমে উঠেছে মিরপুর টেস্ট! পাকিস্তানের বিপক্ষে বোলারদের ব্যর্থতায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাতে বসেছিল বাংলাদেশ। সেই বোলাররাই গতকাল ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে নিয়েছে। বিশেষ করে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি জাদুতে সফরকারীদের ৩৮৬ রানে অল-আউট করে মূল্যবান ২৭ রানের লিড পেয়েছে স্বাগতিক দল। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল চরম নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে পাকিস্তান সিরিজের প্রথম টেস্ট। বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতায় বাধাগ্রস্ত তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল বল হাতে ভেলকি দেখান ডানহাতি অফ স্পিনার মিরাজ।

টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্দশবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকারের অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। তার নিখুঁত লেংথের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার। সকালে জোড়া আঘাত হেনে প্রতিপক্ষ শিবিরে রীতিমতো কাঁপন ধরিয়ে দেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তাদের চমৎকার যুগলবন্দিতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্বাগতিকরা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে কোনো বিপদ ছাড়াই দিন পার করেন দলের দুই ওপেনার। সব মিলিয়ে তৃতীয় দিন শেষে ৩৪ রানের লিড নেয় বাংলাদেশ। আগের দিন মাত্র এক উইকেট হারানো সফরকারীরা সকালে বেশ সাবলীলভাবেই খেলা শুরু করেছিল।

আগের দিনের রেশ ধরে রেখে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি তুলে নেন দলের তরুণ অভিষিক্ত আজান আওয়াইস। তার সঙ্গী হিসেবে ক্রিজে থাকা আরেক অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান আব্দুল্লাহ ফাজালও দারুণ খেলতে থাকেন। তাদের শতরানের জুটি ভাঙার পরই মূলত বড় ধস নামে সফরকারী শিবিরে। একশ তিন রান করা আজানকে স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন তাসকিন। এই উইকেটের মাধ্যমেই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ লীগ-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজের পঞ্চাশতম শিকারের দারুণ মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এরপর ক্রিজে আসা অধিনায়ক শান মাসুদকেও খুব দ্রুত ফেরান তাসকিন। ফাজাল ষাট রান করে মিরাজের শিকার হন। শূন্য রানে আউট হন সাউদ শাকিল। মাত্র কুড়ি রানের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে যায় সফরকারী দলটি।

তীব্র বিপর্যয়ের মুখে দলের হাল ধরেন সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। নো বলের কল্যাণে সালমান বাঁচলে এই জুটি রীতিমতো চোখ রাঙাতে শুরু করে স্বাগতিক বোলারদের। সাবলীল ব্যাটিংয়ে দুজনে মিলে শতরানের গুরুত্বপূর্ণ এক জুটি গড়ে তোলেন। শেষ পর্যন্ত ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসা রিজওয়ানকে ৫৯ রানে ফিরিয়ে এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। এরপরই বৃষ্টির কারণে দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকে। খেলা পুনরায় মাঠে গড়ালে পেসার নাহিদ রানা ৫৮ রান করা সালমানকে সাজঘরে ফেরান।

এরপর বল হাতে আবারও ভেলকি দেখান মিরাজ। নোমান আলি ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকে দ্রুত প্যাভিলিয়নে পাঠান তিনি। শেষ ব্যাটারকে আউট করে ৩৮৬ রানে প্রতিপক্ষের ইনিংস গুটিয়ে দেন তাইজুল। শেষ বিকালের মরে আসা আলোয় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামেন স্বাগতিক দলের ওপেনাররা। ১.৫ ওভার খেলার পরই আলোকস্বল্পতার কারণে আম্পায়াররা দিনের খেলা শেষের ঘোষণা দেন। যদিও ফ্লাডলাইটের আলোয় খেলা চালিয়ে যেতে সফরকারী দলের খেলোয়াড়রা বারবার আম্পায়ারদের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছিলেন। কিন্তু আম্পায়াররা লাইট মিটার পরীক্ষা করে নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন