মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে গতকাল বল হাতে মায়াবী ঘূর্ণি জাদু দেখিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ট্রু উইকেটে পাকিস্তানি ব্যাটারদের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে স্বাগতিকদের ম্যাচে ফিরিয়েছেন এই প্রতিভাবান অলরাউন্ডার। দিনের প্রথম সেশনে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা কিছুটা খেই হারালেও দ্বিতীয় সেশন থেকে টাইট বোলিংয়ে সফরকারীদের রীতিমতো নাভিশ্বাস তোলে শান্তর দল। উইকেট থেকে আকাশচুম্বী বাড়তি সুবিধা না পেলেও শৃঙ্খলা আর ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষায় দারুণ সফল মিরাজ।
বিশেষ করে অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদের সঙ্গে তার করা বোলিং পার্টনারশিপ ছিল চোখে পড়ার মতো। এক প্রান্ত থেকে তাসকিন গতির ঝড় তুলে প্রবল চাপ তৈরি করেছেন, অন্য প্রান্তে মিরাজ বুনেছেন ধূর্ত ঘূর্ণির মায়াজাল। নিজের সফল উইকেট পাওয়ার রহস্য ফাঁস করে মিরাজ বলেন, ‘আমি জাস্ট ভালো জায়গায় বল করার চেষ্টা করেছি। কিছু বল স্বাভাবিকের চেয়ে স্পিন করেছে, যা ব্যাটসম্যানের মনে গভীর সংশয় তৈরি করেছিল। এর ফলে উইকেট পাওয়া সহজ হয়েছে।’ প্রতিপক্ষের হিমালয়সম পার্টনারশিপ ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক-থ্রু এনে দিয়েছেন নাহিদ রানা। বোলাররা পরবর্তীতে মিরাজের নিপুণ পরামর্শে জেগেছে।
দ্বিতীয় ইনিংসে লিড বাড়িয়ে নেয়ার মিশনে আজ মাঠে নামবে টাইগাররা। মিরপুরের রহস্যময় উইকেটে চতুর্থ ও পঞ্চম দিন ব্যাটিং করা সব সময়ই কঠিন চ্যালেঞ্জ। জয়ের জন্য কতো রান যথেষ্ট হবে এমন প্রশ্নে মিরাজ বলেন, ‘মিরপুরে কতো রান নিরাপদ তা বলা কঠিন। তবে আমাদের ৩০০ রান টার্গেট করা উচিত। পঞ্চম দিনে যারা ব্যাটিং করবে তারা বিপদে পড়বে।’ বর্তমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ লীগ টেবিলে ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে টিম বাংলাদেশের সামনে এই জয়ের জন্য হাতে কোনো বিকল্প এখন নেই।
ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যে বেশি মনোযোগী এই অফস্পিনার। মোশতাক আহমেদের অধীনে বোলিংয়ে বৈচিত্র্য এনে এখন অনেক বেশি
আত্মবিশ্বাসী তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সেই জয়ের স্মৃতি টেনে মিরাজ যোগ করেন, ‘টানা পাঁচ দিন পরিশ্রম করে ম্যাচ জেতার অনুভূতি অন্যরকম। পাকিস্তান সিরিজে আমরা দারুণ খুশি হয়েছিলাম। এখানেও জয় পেতে আমরা মরিয়া।’ লিডের আগেই প্রতিপক্ষকে আটকে দেয়া বোলারদের কৃতিত্ব দিয়ে মিরাজ এখন ব্যাটারদের ওপর পূর্ণ দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে জয়ের জন্য মাঠে নামার অপেক্ষায় পরম দিন গুনছেন স্বাগতিকরা।
