আরিফ খান জয়ের পর দ্বিতীয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হলেন আমিনুল হক। সাবেক তারকা ক্রীড়াবিদ ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হওয়ায় ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সবাই বেশ খুশি। আমিনুলের মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনের ইতিবাচক পরিবর্তন চান সবাই। উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘আমিনুলকে ক্রীড়ামন্ত্রী (প্রতিমন্ত্রী) করায় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ। কারণ তিনি ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে যোগ্য লোককে দায়িত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাদেক হোসেন খোকা ছাড়া ক্রীড়াঙ্গনের কোনো লোক ক্রীড়াঙ্গনে সেভাবে দায়িত্ব নেয়নি এবং কাজও করেনি। আরিফ খান জয় উপমন্ত্রী থাকলেও সবাইকে হতাশ করেছেন। আমি চাই আমিনুল দেশের ইতিহাসে সেরা ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।’ বাংলাদেশে সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর। এই পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ডের পরই সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান হয়। এই পাঁচ বছরে আমিনুল ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এমন কিছু করবেন যা তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে জানিয়ে নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘আমিনুলের একটা ভিশন রয়েছে। ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তিনি অনেক দিন থেকেই কাজ করছেন। কোথায় সমস্যা, কোনটা সম্ভাবনা সবই তিনি ভালোভাবে জানেন। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী আমিনুল সেরা মন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।’ আমিনুলের এক সময়ের মাঠের সতীর্থ সাবেক জাতীয় ফুটবলার জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘তার একটা ভিশন আছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে নিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। আমার বিশ্বাস আমিনুল ভাই সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা পাল্টে যাবে।’ জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ কামরুন নাহার ডানা পাঁচ দশকের বেশি সময় ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমিনুল হক ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ভালো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রীড়া একটি বিশেষায়িত বিষয়। এই সম্পর্কে যাদের ধারণা রয়েছে, তারা দায়িত্ব পেলে ভালো হয়। আমিনুল একজন বড় মাপের খেলোয়াড় ছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতৃত্ব তার সাংগঠনিক দক্ষতা প্রমাণ দিয়েছে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অবশ্যই এগিয়ে যাবে এই আশা করাই যায়।’ আমিনুল এই মুহূর্তে ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন গতানুগতিকভাবে চলছে অনেক দিন থেকে। ঝিমিয়ে পড়া এই ক্রীড়াঙ্গনে একটি বিপ্লব বা পরিবর্তন দরকার। আশা করি আমিনুল সেটা করতে পারবে’। ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম প্রতিবাদী কন্ঠস্বর আন্তর্জাতিক স্বর্ণজয়ী শুটার শারমিন আক্তার রত্না। নারী নিপীড়ন নিয়ে তিনি বেশ কয়েক মাস ধরেই আন্দোলন করছিলেন। আমিনুল আসায় বেশ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রত্না বলেন, ‘আমিনুল ভাই ক্রীড়াঙ্গনের সকল বিষয়ে অত্যন্ত অবগত। বিশেষ করে গত এক দেড় বছরে যা ঘটেছে তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। আমিনুল ভাই আসায় আমরা আশা করি ক্রীড়াবিদরা সকল বিষয়ে সকল ন্যায্য অধিকার পাবে এবং অন্যায়কীরাদের যথাযথ শাস্তি হবে।’ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য ও সাবেক জাতীয় ফুটবলার গোলাম গাউসও খুশি আমিনুল ক্রীড়াঙ্গনের দায়িত্ব নেয়ায়। তিনি বলেন, ‘আমিনুল দীর্ঘদিন লাল-সবুজের জার্সিতে ফুটবল খেলেছে। একযুগের বেশি সময় ধরে রাজপথে রাজনীতি করেছে। ও ক্রীড়াঙ্গনের সবকিছু জানে বোঝে। ও ঠিকমতো কাজ করতে পারলে ক্রীড়াঙ্গনে গুণগত পরিবর্তন আসবে।’
‘এবার ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা পাল্টে যাবে’
স্পোর্টস রিপোর্টার
১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
