‘আমিনুল ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী’ দলের সিদ্ধান্তে খুশি লবি

‘আমিনুল ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী’ দলের সিদ্ধান্তে খুশি লবি

ফন্ট সাইজ:

অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন নতুন অভিভাবক পেয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। সবশেষ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনে জয়লাভ করতে না পারায় তার মন্ত্রী হওয়া নিয়ে শুরুতে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু গতকাল দুপুরে দল থেকে আকস্মিক ডাক আসার পর সব অনিশ্চয়তা কেটে যায়; টেকনোক্রেট কোটায় তাকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এর আগে ক্রীড়াঙ্গনে জোরালো গুঞ্জন ছিল যে, সাবেক বিসিবি সভাপতি ও খুলনা-৫ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি আলী আসগর লবি এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দল সাবেক এই ফুটবল তারকার ওপরই আস্থা রেখেছে। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নাম থাকলেও দলের সিদ্ধান্তে পূর্ণ সংহতি জানিয়েছেন আলী আসগর লবি। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব না পাওয়ায় তার আক্ষেপ নেই। দৈনিক মানবজমিনকে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তার ব্যক্তিগত কোনো অবস্থান নেই। আলী আজগর বলেন, ‘আমি এখন এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারবো না। আমি নেই এটুকু এখন বলতে পারি। আমার দলের সিদ্ধান্ত যেটা সেটা আমি একসেপ্ট করে নিয়েছি। এবং দল যা বলবে আমি তাই করবো।’


এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের শীর্ষ নেতৃত্বে একজন প্রকৃত মাঠের মানুষের অভিষেক হলো। দীর্ঘদিন পর একজন সাবেক খেলোয়াড় এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় ক্রীড়া মহলে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্রীড়াঙ্গনে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে আমিনুলের অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। অভিজ্ঞ এই ক্রীড়াবিদকে ঘিরে এখন নতুন স্বপ্নের জাল বুনছে ফেডারেশন ও সংগঠনগুলো। অন্যদিকে আলী আসগর লবি মন্ত্রী না হলেও তিনি আবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দায়িত্বে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। যদিও এই বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে নারাজ আলী আজগর। ক্রিকেট বোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আপাতত তিনি দলের দেয়া অন্যান্য দায়িত্ব নিয়েই থাকতে চান। বিসিবি প্রসঙ্গে তার অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনই ভাবছি না। দলের প্রতিটি সিদ্ধান্তে আমার আস্থা আছে। দল যা বলবে তাই করবো, এটাই বলতে পারি।’


এ ছাড়া আমিনুল হকের এই নতুন যাত্রাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সহ বিভিন্ন সংস্থা। বিসিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, একজন দক্ষ ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের নেতৃত্বে দেশের তরুণ ক্রীড়াবিদরা অনুপ্রাণিত হবেন। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, ফুটবল মাঠের অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা তাকে খেলোয়াড়দের বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা দেবে। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ক্রিকেট বোর্ডের গত নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ দায়িত্ব পাওয়ার আগে থেকেই আমিনুল হক বিসিবি’র বর্তমান কাঠামোর সমালোচনা করে আসছিলেন। এখন তিনি নিজেই নীতিনির্ধারক হওয়ায় বোর্ডের সংস্কার বা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই সবার নজর। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন এই নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী। তার মতে, একজন ক্রীড়াবিদ যখন ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হন, তখন প্রয়োজনগুলো বুঝতে পারা সহজ হয়। ক্রীড়া সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন এবং বর্তমান বিসিবি পরিচালকদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমিনুল হককে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সবার প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবেন।আমিনুল হকের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের বিভিন্ন ফেডারেশনে বিরাজমান স্থবিরতা দূর করা। গত কয়েক মাস যাবৎ ক্রীড়াঙ্গনে যে প্রশাসনিক অস্থিরতা ছিল, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং পরবর্তী সময়ে ড. আসিফ নজরুলের দায়িত্ব পালনের সময় ক্রীড়াঙ্গনে সংস্কারের দাবি উঠেছিল। আমিনুল হকের নিয়োগ সেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবে বলে সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করছেন। বিসিবি ইতোমধ্যে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য ধারাবাহিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা এখন মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন অংশীজনরা মনে করেন, আমিনুলের পেশাদারিত্ব এবং মাঠের অভিজ্ঞতা তাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। সব মিলিয়ে অভিজ্ঞ ও নবীন নেতৃত্বের এই সমন্বয় বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে আমিনুল হকের বলিষ্ঠ নেতৃত্বই পারে ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত করতে। দেশের ফুটবল, ক্রিকেটসহ অন্যান্য জনপ্রিয় খেলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনাই হবে তার মেয়াদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন