ইমরান খানের সুচিকিৎসায় কিংবদন্তিদের যৌথ বিবৃতি

ইমরান খানের সুচিকিৎসায় কিংবদন্তিদের যৌথ বিবৃতি

ফন্ট সাইজ:

পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের সমর্থনে একত্র হয়েছেন ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৪ জন কিংবদন্তি অধিনায়ক। এক যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তান সরকারের কাছে ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক, পরিবেশগত ও সামাজিক সুস্থতারও আবেদন করেছেন সাবেক অধিনায়করা। অনেক দিন ধরেই রাজনৈতিক কারণে কারাবাস করছেন পাকিস্তানকে ১৯৯২ আইসিসি বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক ইমরান। সম্প্রতি খবর ছড়ায়, কারাগারে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পথে একসময়ের এ তারকা ক্রিকেটার। এ খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে বিবৃতিতে দেন তারা। যৌথ এই বিবৃতি বা আবেদনে সাক্ষরকারীরা হলেন সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, গ্রেগ চ্যাপেল, মাইকেল আথারটন, অ্যালান বর্ডার, মাইকেল ব্রেয়ারলি, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডার ক্লার্ক, ডেভিড গাওয়ার, কিম হিউজ, নাসের হুসাইন, স্যার ক্লাইভ লয়েড, স্টিভ ওয়াহ ও জন রাইট।
দীর্ঘদিন কারাবন্দি অবস্থায় থাকা ইমরানের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ক্রিকেটের এ সাবেক ১৪ অধিনায়ক। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কারাবন্দি অবস্থায় ইমরানের দৃষ্টিশক্তির অবনতির খবরসহ সামপ্রতিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রতিবেদন আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।’ এক পাতার আবেদনে পাকিস্তান সরকারের প্রতি কয়েকটি সুস্পষ্ট দাবি তোলা হয়। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম, ইমরান খানের কথিত স্বাস্থ্যসমস্যার জন্য তার পছন্দযোগ্য বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে অবিলম্বে এবং ধারাবাহিক চিকিৎসা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মানবিক ও সম্মানজনক কারাবাস, পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ, আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও অযথা বিলম্ব বা বাধা ছাড়া ন্যায়বিচারের সুযোগ। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা আরও বলেন, ‘সতীর্থ ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের বিশ্বাস, ইমরান খানের মতো একজন জাতীয় নেতা ও বৈশ্বিক ক্রীড়া আইকনের মতো একজন ব্যক্তিত্ব ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা পাওয়ার দাবি রাখেন। তার নেতৃত্ব, দৃঢ?তা ও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতা সীমান্ত পেরিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে।’ ক্রিকেটের বাইরে তার রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলেও লেখা হয়, ‘রাজনৈতিক মতভেদ যা-ই থাকুক না কেন, তিনি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সম্মান অস্বীকার করা যায় না।’ আবেদনের শেষ দিকে সাবেকরা বলেন, ‘ক্রিকেট সবসময়ই দেশগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ হলেও পারস্পরিক সম্মান অটুট থাকে। ইমরান তার ক্যারিয়ারজুড়ে সেই চেতনার প্রতীক ছিলেন। এখন পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের উচিত ন্যায় ও শালীনতার নীতিকে সম্মান জানানো।’




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন