যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে ‘সাবেক’ স্ত্রীর করা মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আইন অনুবিভাগের উপসচিব (আইন) মো. ছানাউল্ল্যাহ। গত ৩০শে এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মো. ছানাউল্ল্যাহ এর আগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছানাউল্ল্যাহর বিরুদ্ধে গত ১৩ই জানুয়ারি ডিএমপি’র বনানী থানায় মামলা করেন তার ‘সাবেক’ স্ত্রী নাসরিন আক্তার মৌ। তদন্ত শেষে গত ৩০শে এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছেন ডিএমপি’র উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহানাজ বেগম।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মামলার বাদী নাসরিন আক্তার মৌ প্রতিষ্ঠিত গাড়ি ব্যবসায়ী। তিনি তালাকপ্রাপ্তা এবং তিন সন্তানের জননী। তিনি সন্তানদের নিয়ে গুলশানের একটি বাসায় থাকেন। ব্যবসায়িক লেনদেনের পাওনা টাকা আদায়ে আইনি সহায়তার সূত্র ধরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ছানাউল্ল্যাহর সঙ্গে পরিচয় হয় মৌর। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে তার সঙ্গে ছানাউল্ল্যাহর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বছরের ২২শে সেপ্টেম্বর তারা বিয়ে করেন। মৌ তার সন্তানদের নিয়ে গুলশানের নিজ বাসায় থাকলেও ছানাউল্ল্যাহর সঙ্গে সংসার করতে উভয়ে বনানী এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। স্বামীর কথামতো বাসাভাড়ার টাকা পরিশোধ এবং বাসার জিনিসপত্র কেনেন তিনি। স্বামী ছানাউল্ল্যাহ ওই বাসায় মাঝে মাঝে আসা-যাওয়া করতেন এবং বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে টাকা নিতেন। এ ছাড়া গাড়ি ও জমি কিনে দিতেও চাপ সৃষ্টি করতেন ছানাউল্ল্যাহ।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, গত বছরের ২৭শে নভেম্বর সন্ধ্যায় বনানীর বাসায় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ছানাউল্ল্যাহ স্ত্রী মৌ’র কাছে যৌতুক হিসেবে গাড়ি ও জমি কিনে দেয়ার দাবি করেন। মৌ রাজি না হলে ছানাউল্ল্যাহ তাকে মারধর করে জখম করেন। মামলার তদন্ত ও মেডিকেল সনদপত্র পর্যালোচনা করে ছানাউল্ল্যাহর বিরুদ্ধে এসব অপরাধ সত্য প্রমাণিত হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
