দেশের ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকবো না

দেশের ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকবো না

ফন্ট সাইজ:

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমরা সহযোগিতা করবো। কিন্তু দেশের কোনো ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকবো না। গতকাল জাপান সফর শেষে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব কথা জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের কোনো ভুল হলে তাদের তা ধরিয়ে দেয়া আমাদের দায়িত্ব। সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরা সহযোগিতা করবো। কিন্তু যদি দেশের ক্ষতি হয়, আমরা নীরবে বসে থাকবো না। আমরা আওয়াজ তুলবো, প্রতিবাদ করবো, প্রয়োজনে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। এটাই হবে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কাজ।

জাপান বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক চিন্তা করে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ বিগত সংসদের থেকে ব্যতিক্রম বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। বিরোধী দল যেমন সরকারের সমালোচনা করছে তেমনই তাদের সহযোগিতাও করছে। এভাবে যদি সবাই দেশকে ভালোবাসে তাহলে জাপানও বাংলাদেশের প্রতি সৌহার্দ্য আরও বাড়িয়ে দেবে।

জামায়াত আমীর বলেন, আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক ক্যান্সারের রোগী আছে, বাংলাদেশে তাদের ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা করতে পারিনি। আমাদের যে দুই একটি ডেডিকেটেড ক্যান্সার হাসপাতাল রয়েছে, সেগুলো যথেষ্ট স্কিল্ড না হওয়ায় সঠিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে অধিকাংশ রোগীকে অনেক কষ্ট শিকার করে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হয়। আর যাদের বিদেশ যাওয়ার সামর্থ্য নেই, ধীরে ধীরে তারা মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ে। ফলে জাপানকে আমরা আহ্বান জানিয়েছি তারা যেন আমাদের দেশে একটি ক্যান্সার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল গড়ে তোলে।

হাসপাতালের বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, শুধু যদি হাসপাতাল হয় তাহলে আমদের দেশের মানুষরা জানার সুযোগ পাবে না। তবে যদি ইন্সটিটিউট হয় তাহলে উচ্চশিক্ষার দরজা খুলে যাবে এবং স্কিল্ড হয়ে গড়ে উঠবে। জাপান এই বিষয়টিকে সক্রিয় বিবেচনায় নিয়েছে। আমরা আশা করছি এই বিষয়ে তারা (জাপান) ইতিবাচকভাবেই আগাবেন।
জুলাইযোদ্ধাদের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, থাইল্যান্ডে এখন জুলাইযোদ্ধাদের ৬৪ জন অবস্থান করছেন, আগে অনেক বেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ এক বছর, কেউ দশ মাস, কেউ এগারো মাস সময়ব্যাপী তারা সেখানে অবস্থান করছেন। আমাদের নৈতিক দায়বদ্ধতা, নাগরিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও মানবিকতার জায়গা থেকে তাদের দেখতে গিয়েছিলাম। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিরোধীদলীয় নেতা আহত জুলাইযোদ্ধাদের সাহস ও আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তাদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করেন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন- সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকারসহ নেতাকর্মীরা।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন