রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় কিশোরগঞ্জের রিয়াদ নিহত

ফন্ট সাইজ:

দেড় বছর আগে একটি কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের যুবক মো. রিয়াদ রশিদ (২৮)। কিন্তু দালাল চক্রের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে তাকে যোগ দিতে হয় রুশ সেনাবাহিনীতে। মাত্র এক মাস আগে গত ৭ই এপ্রিল আরও অনেক বাংলাদেশির সঙ্গে মো. রিয়াদ রশিদ রুশ সেনাবাহিনীতে নাম লেখান। সেই যোগদানই নিভিয়ে দিয়েছে তার জীবনপ্রদীপ। ইউক্রেনের ড্রোন হামলা প্রাণটাই কেড়ে নিয়েছে তার। গত ২রা মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলার এই ঘটনায় মো. রিয়াদ রশিদসহ দু’জন বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরিয়ান সৈন্য নিহত হন। আহত হন আরও তিনজন। আহতদের একজন নরসিংদীর লিমন দত্ত শুক্রবার সন্ধ্যায় রিয়াদের পরিবারকে জানান মর্মন্তুদ এই ঘটনাটি। দূর প্রবাসে রিয়াদ রশিদের নিহত হওয়ার বিষয়টি জানার পর থেকে পরিবারটিতে চলছে শোকের মাতম। নিহত রিয়াদ রশিদ কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রশিদের ছেলে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে রিয়াদ রশিদ ছিলেন চতুর্থ এবং অবিবাহিত। পরিবারের সুখের আশায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি কোম্পানির চাকরি নিয়ে রাশিয়ায় যান। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর মোহভঙ্গ হয় তার। চাকরি খুঁজতে থাকেন অন্যত্র। দালাল চক্রের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে গত ৭ই এপ্রিল রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন রিয়াদ রশিদ। তার ব্যাচ নম্বর ৭৩৫। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রিয়াদ রশিদের বন্ধু লিমন দত্ত ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে তার মৃত্যুর সংবাদ জানান। লিমন দত্ত রাশিয়াতে রিয়াদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একই ক্যাম্পে চাকরি করতেন। তার দেশের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। লিমন দত্ত জানান, গত ২রা মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দু’জন বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরিয়ান সৈন্য নিহত হন। আহত হন আরও তিনজন। হামলায় লিমন দত্ত নিজেও একটি পা হারিয়ে সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। শুক্রবার তিনি রিয়াদ রশিদের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারকে জানান।

নিহত রিয়াদ রশিদের চাচাতো ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ গত ২৮শে এপ্রিল রিয়াদ রশিদের সঙ্গে তার পরিবারের শেষবারের মতো কথা হয়। আর ম্যাসেঞ্জারে তাকে অনলাইনে দেখা গেছে ২৯শে এপ্রিল রাত ১০টা পর্যন্ত। রিয়াদ রশিদের লাশের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায় কী করণীয় তারা কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। রিয়াদ রশিদের বাবা জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সেনাবাহিনীতে যোগদানের কথা আমাকে জানায়নি। জানলে আমি আমার ছেলেকে কখনই যোগদান করতে দিতাম না। ছেলের লাশের সন্ধান পাচ্ছি না। ড্রোন হামলায় নাকি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বাবা হিসেবে এ কষ্ট কেমন করে সহ্য করবো!

জাফরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, রিয়াদ রশিদ আমার স্নেহের ছোট ভাই। ঘটনাটি জানার পর তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতার সুযোগ থাকলে সে ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন