টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর নজরদারির অভাবে এমনটাই হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
সরজমিন উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড এলাকায় ‘সৈদামপুর কাঁঠালতলী বাজার কুরাতলী ভায়া প্রাইমারি স্কুল সড়কের গার্ডার ব্রিজে’ গিয়ে দেখা যায়, সংযোগ সড়কে ফাটলের ভয়াবহ চিত্র। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে ব্রিজের পূর্ব দক্ষিণ পাশে পিচঢালাই করায় বৃষ্টির পানির তোড়ে ফাটল ও ধসের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ যেখানে রোলার দিয়ে সংযোগ সড়কের মাটি রোলিং করার কথা সেখানে ভেকুর চাকা দিয়ে রোলিং করেছে ঠিকাদার। তারা আরও অভিযোগ করেন,পূর্বপাশে ব্রিজের নির্ধারিত ঢালুর চেয়ে প্রায় ৩০ ফিটের বেশি জায়গা বাদ দিয়ে অ্যাপ্রোচের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী অফিসসূত্রে জানা যায়, ৭০ মিটার দৈর্ঘ আরসিসি গার্ডার ব্রিজটি নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বাছেদ প্রকৌশলীকে। চার কোটি ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭১৮ টাকা ব্যয়ে এই সেতু ২০২১ সালের ১৩ই এপ্রিল ১ বছরের সময় নিয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ১২ই এপ্রিল। কিন্তু পরে সেতুর নির্মাণকাজের মেয়াদ আরও চার বছর বাড়ানো হলেও উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।
ব্রিজের উপকারভোগী স্থানীয় বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক ইসহাক, রমেশ চন্দ্র সরকার, সাবেক জনপ্রতিনিধি সিদ্দিক সিকদার, লুৎফর রহমানসহ ২৫/৩০ জন এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, রাস্তায় মাটি ফেলার সময় প্রয়োজনমতো পেটানো হয় নাই, রোলার দিয়েও পেটানো হয় নাই। দায়সারা গোছের হালকা পেটানো দিয়েই কার্পেটিং করা হয়েছে। যার কারণেই ফাটল ধরেছে। ভালোভাবে রাস্তার কাজটি করা উচিত ছিল। মাত্র কয়েকদিনেই সামান্য বৃষ্টিতেই এমন ফাটল ধরেছে। তাছাড়া সব জায়গায় ব্লক বসায় নি। ধস ও ফাটলের পর দুই একদিনের ভেতর যে সকল ব্লকগুলো বসানো হচ্ছে সেগুলোও নিম্নমানের। পায়ের চাপেই ভেঙে যায়।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘বাছেদ প্রকৌশলী’র ম্যানেজার নুরনবী বলেন, আমাদের ব্লক মজুত ছিল। ব্রিজের সংযোগ সড়কে ব্লকের কাজ চলমান ছিল। বৃষ্টিপাতের কারণে আমরা ব্লক নিয়ে বসাতে পারিনি। ব্রিজের সংযোগ রাস্তায় ঈদের আগে নতুন মাটিতে কার্পেটিং করা হয়। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও মালবাহী ট্রাক্টর গাড়ি রাস্তা দিয়ে চলাচল করায় রাস্তার কিছু অংশ ফাটল দেখা দিয়েছে। যেখান দিয়ে ফাটল ধরেছে তা মেরামত করে দেয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, বাসাইলের সৈদামপুরে ব্রিজের কাজ চলমান আছে। ব্রিজের অ্যাপ্রোচের কিছু অংশ যেখানে ব্লক বসানো হয়নি সেখানে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ভারী যানবাহনের কারণে মাটি সরে গেছে বলে অ্যাপ্রোচের রাস্তায় ভাঙন দেখা গেছে। এই কাজের ঠিকাদার ‘বাছেদ প্রকৌশলী’। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা ভাঙন জায়গা ঠিক করে দেবে। ব্রিজের সংযোগ সড়কের কাজের টাকা এখনো দেয়া হয়নি। যে জায়গাগুলোতে সমস্যা হয়েছে, তারা মেরামত করে দেবে।
