ইউরোপের দেশ স্লোভেনিয়ায় দূতাবাস খুলেছে ইসরাইল। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি দেশটির নাগরিকেরা। রাজধানী লুবলিয়ানায় জড়ো হন হাজারো স্লোভেকিয়ান। তারা গাজায় গণহত্যার জন্য ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামেন। বিক্ষোভে তারা ‘আমরা শান্তি ও ফিলিস্তিনের সঙ্গে আছি,’ ‘গণহত্যা আত্মরক্ষা নয়’ সহ বিভিন্ন ব্যানার বহন করেন ও স্লোগান দেন। একই সঙ্গে তারা দেশটিতে ইসরাইলের দূতাবাস খোলায় তীব্র প্রতিবাদ জানান। ইসরাইলঘেঁষা পররাষ্ট্রনীতির অভিযোগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইয়ানেস ইয়ানশার অভিশংসন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোনে কাইজারের অপসারণ দাবি করেছে বিরোধী দলগুলো। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলোবের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ফ্রিডম মুভমেন্ট এবং লেফট পার্টি পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী ইয়ানশাকে অভিশংসনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারের এই পররাষ্ট্রনীতি কেবল ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করছে এবং নির্বাচনে ইসরাইলের কথিত সমর্থনের প্রতিদান হিসেবেই এই দূতাবাস খোলার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এর আগে গোলোবের নেতৃত্বাধীন সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং ইসরাইলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইয়ানশা দায়িত্ব নিয়েই সরকারি ভবন থেকে ফিলিস্তিনের পতাকা নামিয়ে ফেলেন এবং ইসরাইলবিরোধী সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করেন। দৈনিক ডেলো পত্রিকার এক সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, স্লোভেনিয়ার ৫৬ শতাংশ মানুষ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বিপক্ষে এবং মাত্র ১৪ শতাংশ পক্ষে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই নীতি পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের সিংহভাগ মানুষের মতামতের কোনো মিল নেই।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার একে একটি ‘ঐতিহাসিক দিন’ আখ্যা দিয়ে স্লোভেনিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এমন এক সময়ে দূতাবাসটি উদ্বোধন হলো, যখন পশ্চিমতীরে অবৈধ বসতি স্থাপনের দায়ে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার মতো মিত্র দেশগুলো ইসরাইলের ওপর নতুন করে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।
