ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (সিপিএল) নিজের প্রথম ম্যাচেই বল হাতে জাদু দেখালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বাইরের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ছন্দে না থাকার খরা কাটিয়ে সিপিএল অভিষেকেই ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান খরচায় ৩ উইকেট নিলেন এ টাইগার স্পিনার। প্রভিডেন্সে তার এই ঘূর্ণি জাদুতে পথ হারিয়ে সেন্ট লুসিয়া কিংস গুটিয়ে গেল মাত্র ১১৯ রানে। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিলো গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স।
এর আগে লঙ্কা প্রিমিয়ার লীগে (এলপিএল) চার ম্যাচ খেলে একটিও উইকেট না পাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল মিরাজের। তবে এবার জাতীয় দলের উদ্দেশ্যে টুর্নামেন্ট ছেড়ে যাওয়া আফগান তারকা মোহাম্মদ নবীর বদলি হিসেবে গায়ানায় যোগ দিয়ে শুরুতেই বাজিমাত করলেন তিনি। ইনিংসের সপ্তম ওভারে নিজের প্রথম বলেই জন ক্যাম্পবেলকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন মিরাজ। এরপর একই ওভারে কেমল স্যাভরি ও লঙ্কান ব্যাটার চারিথ আসালাঙ্কাকে আউট করে নিজের বোলিং ফিগার আরও সমৃদ্ধ করেন তিনি।
মিরাজের চেয়েও ভয়ংকর রূপ ধারণ করেন গায়ানার ৪৭ বছর বয়সী অধিনায়ক ইমরান তাহির। মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি বয়সে পাঁচ উইকেট নেয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েন এই অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার। দুজনের স্পিন ফাঁদে পড়ে সেন্ট লুসিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ ধসে পড়ে। ওবাস পিয়ারের ২৮ বলে ৩৫ রানের ইনিংসে ভর করে কোনোমতে ১১৯ রান তুলতে পারে তারা।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গায়ানার টপ অর্ডারও কিছুটা চাপে পড়ে। ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি মিরাজও, করেন মাত্র ১ রান। তবে শেষদিকে কুয়েন্টিন স্যাম্পসনের ১১ বলে ৫ ছক্কায় অনবদ্য ৩৭ রানের ঝড়ো ইনিংসে ৯ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে গায়ানা।
ম্যাচ শেষে তরুণ সতীর্থ মিরাজকে প্রশংসায় ভাসান তাহির। ম্যাচসেরার পুরস্কার নেয়ার সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে নবী ছিল, সে আমাদের সেরা বোলার ও শীর্ষ ক্রিকেটার। তবে মিরাজ এসে ঠিক যেভাবে বোলিং করেছে, তা সত্যিই অসাধারণ। তাকে দলে পাওয়া দারুণ ব্যাপার। সে একজন বিশ্বমানের স্পিনার যে আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বজুড়ে পারফর্ম করে আসছে।’
