৪৪ বছর পর ফাইনালে অ্যাস্টন ভিলা

৪৪ বছর পর ফাইনালে অ্যাস্টন ভিলা

ফন্ট সাইজ:

উয়েফা ইউরোপা লীগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল অ্যাস্টন ভিলা। তবে বৃহস্পতিবার ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে নটিংহ্যামকে চূর্ণ করে ফাইনাল নিশ্চিত করলো ভিলা। দ্বিতীয় লেগে ইংলিশ ক্লাবটির জয় ৪-০ গোলে।

১৯৮২ সালে ইউরোপিয়ান কাপ জেতার পর এবারই প্রথম কোনো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠলো বার্মিংহ্যামের ক্লাবটি। অন্যদিকে, ১৯৯৬ সালের লীগ কাপ জয়ের পর প্রথম বড় শিরোপার স্বাদ পাওয়া থেকে স্রেফ এক ম্যাচ দূরে উনাই এমেরির দল।
ইউরোপা লীগে এমেরির এটি ষষ্ঠ ফাইনাল। আগের পাঁচ ফাইনালের চারবারই ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন তিনি। তার অধীনে ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ আসরে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতে সেভিয়া। পরে ২০২১-এ শিরোপা জেতান ভিয়ারিয়ালকে। মাঝে ২০১৯-এ কেবল আর্সেনালের দায়িত্বে থাকার সময় হার দেখেন চেলসির কাছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে ভিলার দায়িত্ব বুঝে নিয়ে শিরোপা জেতার ঘোষণা দেন এমেরি। তিন বছরের মাথায় সেই স্বপ্ন এখন হাতের নাগালে। জন ম্যাকগিনের জোড়া গোল এবং ওলি ওয়াটকিন্স ও এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়ার লক্ষ্যভেদে নটিংহ্যামকে পাত্তাই দেয়নি ভিলা। গ্যালারিতে ছিল রাজকীয় উপস্থিতি, প্রিন্স উইলিয়ামকে দেখা যায় সাধারণ ভক্তদের মতো গলা ফাটাতে। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে গিয়ে খেলোয়াড়দের অভিনন্দনও জানান তিনি। আগামী ২০শে মে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তারা মুখোমুখি হবে জার্মানির ফ্রেইবুর্গের।

ম্যাচের পর এমেরি বলেন, ‘এটি বিশেষ ছিল। সমর্থকরা বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন এবং একটি অসাধারণ পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। তারা আমাদের সঙ্গেই খেলছিলেন, তাদের শক্তি ও আকাঙ্ক্ষা আমাদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন। আর এই প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য নিজেদের ইচ্ছা এবং আকাঙ্ক্ষা প্রদর্শন করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি। খেলোয়াড়রা চমৎকার সাড়া দিয়েছে।’ অধিনায়ক ম্যাকগিন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছি, এমনকি (লীগ থেকে) অবনমনের গ্লানিও সয়েছি। তবে এখন সময় হয়েছে কিংবদন্তিদের কাতারে নাম লেখানোর।’

ফ্রেইবুর্গের রূপকথা
অন্য সেমিফাইনালে, ইউরোপিয়ান ফুটবলে নতুন রূপকথার জন্ম দেয় জার্মানির ক্লাব এসসি ফ্রেইবুর্গ। প্রথম লেগে পর্তুগিজ ক্লাব ব্রাগার বিপক্ষে ২-১ গোলের হার দেখে ক্লাবটি। তবে ফিরতি লেগে ৩-১ গোলের প্রত্যাবর্তনে ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার ফাইনালে পৌঁছায় তারা।

ম্যাচের শুরুতেই দেখা যায় নাটক। সাত মিনিটের মাথায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রাগার মারিও ডরজেলেস। দশ জনের ব্রাগাকে চেপে ধরতে সময় নেয়নি ফ্রাইবুর্গ। ১৯তম মিনিটে লুকাস কুবলারের গোলে সমতায় ফেরে তারা। বিরতির ঠিক আগে জোহান মাঞ্জাম্বির দুর্দান্ত এক বাঁকানো শট যখন জালে জড়ায়, পুরো স্টেডিয়ামে যেন উল্লাসে ফেটে পড়ে। ৭২তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন কুবলার। শেষ দিকে পাউ ভিক্টর ব্রাগার হয়ে একটি গোল শোধ দিলেও তা কেবল ব্যবধানই কমায়।

ম্যাচের পর ফ্রেইবুর্গের কোচ জুলিয়ান শুস্টার আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা জানতাম আমাদের সক্ষমতা কতটুকু। এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন