বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, প্রচ্ছদ একটি বই প্রকাশের জন্য উদ্বুদ্ধ করে। এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যে, বইয়ের ভেতরটা ছাপা হয়ে গেছে কিন্তু প্রচ্ছদ প্রস্তুত না হওয়ার কারণে বই প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও শিশু সাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের ‘প্রিয়জন আপনজন’ গ্রন্থের প্রচ্ছদ উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
১০০ জন প্রিয় মানুষকে নিয়ে ফরিদুর রেজা সাগর লিখেছেন ‘প্রিয়জন আপনজন’ নামে একটি গ্রন্থ। অনুষ্ঠানে দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী, কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, সাংবাদিক আনিস আলমগীর, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার ও টক-শো ‘তৃতীয় মাত্রা’র উপস্থাপক জিল্লুর রহমান, হাবিবুর রহমান খান, ফেরদৌস আরা, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসান সারওয়ার্দীসহ শিল্পসাহিত্য অনুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ফারজানা ব্রাউনিয়া। নানা আয়োজনে বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠান পরিণত হয় বিশিষ্টজনদের মিলনমেলায়।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, মানুষকে টিকিয়ে রাখে তার যোগ্যতা ও কাজ, ওয়েবসাইট নয়। তিনি বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তো কোনো ওয়েবসাইট ছিল না। তারপরও আমরা তার জীবনের খুঁটিনাটি জানি। কারণ, তিনি যোগ্য ছিলেন। মানুষ যোগ্য হলে তাকে মনে রাখবেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক পরিবেশ নিয়ে আবু সায়ীদ বলেন, বাংলাদেশে শুভেচ্ছা কামনা এখন দুর্লভতম বিষয়। বিশেষ করে ফেসবুকে গেলে সেটা বোঝা যায়।
লেখালেখির জন্য আলাদা জীবন প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদাহরণ টেনে বলেন, নিরিবিলি পরিবেশ ও দীর্ঘ সময়ের মনোনিবেশ একজন লেখককে বড় করে তোলে। লেখা এমন একটি কাজ, যার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সময় দরকার। প্রচ্ছদের গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, প্রচ্ছদ ডাক দেয়, টেনে নেয়। পাঠকের সঙ্গে বইয়ের প্রথম পরিচয়ই ঘটে প্রচ্ছদের মাধ্যমে।
লেখক ফরিদুর রেজা সাগর প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, কেউ লেখক হওয়ার পরে লেখে আর কেউ লিখতে লিখতে লেখক হয়। কিছু মানুষের ভেতরে আগে থেকেই লেখার রসদ তৈরি থাকে, পরে সেটি বই হয়ে প্রকাশ পায়। ফরিদুর রেজা সাগর তেমনই একজন।
‘প্রিয়জন আপনজন’ বইটি সম্পর্কে লেখক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, বইটিতে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের বিখ্যাত ১০০ জন মানুষের কথা বলা হয়েছে। যার মধ্যে ৯৮ জন মানুষই এখানে রয়েছেন। শিল্পী আফজাল হোসেন প্রায় ৩০টি বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন। তবে প্রায় প্রতিটি কাজেই আফজাল হোসেনের দেরি করার অভ্যাস ছিল। তবে এবারের অভিজ্ঞতা ছিল উল্টো। বই লেখা শেষ হওয়ার আগেই আফজাল হোসেন একাধিক প্রচ্ছদ তৈরি করে ফেলেছিলেন। তাই প্রচ্ছদটাই প্রথম সবার সামনে নিয়ে আসা।
কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, আমি সেই সৌভাগ্যবান মানুষ যে, আমার চারপাশে বহু বিখ্যাত মানুষ পেয়েছি। যারা নিজে নিজে তৈরি হয়েছে। যেমন সাগর-আফজাল আমরা সবাই একসঙ্গেই দাঁড়াবার চেষ্টা করেছি।
বইটির প্রচ্ছদ শিল্পী আফজাল হোসেন বলেন, বই প্রকাশের আগেই প্রচ্ছদ উন্মোচন বাংলাদেশের জন্য নতুন ঘটনা। বইয়ের প্রচ্ছদকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন হওয়ায় ভালো লাগছে। একটি ভালো বইয়ের জন্য ভালো প্রচ্ছদও গুরুত্বপূর্ণ।
ফরিদুর রেজা সাগরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি অনেক মানুষকে চিনেছেন এবং তাদের নিয়ে লেখার কথা ভেবেছেন, যাতে একটি সময়কে ধরে রাখা যায়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অন্য প্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম। গান পরিবেশন করেন নজরুল সংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরা।
