পশুর হাট ঘিরে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বসতে যাওয়া পশুর হাট ঘিরে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটের সার্বিক ব্যবস্থা ও গাবতলী বাস টার্মিনালে প্রবেশের নতুন রাস্তা নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। সরকারের পক্ষ থেকে তারা নিশ্চয়তা দিতে পারেন যে রাস্তাঘাটে কোরবানির গরু বা পশু আনা-নেয়ার সময় চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটবে না। হাটগুলোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশের পাশাপাশি র?্যাব ও সেনাবাহিনীও মাঠে থাকবে। পাশাপাশি ইজারাদারদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক (ভলেন্টিয়ার) দল থাকবে, যারা হাট ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করবে। চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর হাতে দমন করবে। এ ছাড়াও বিভিন্ন পক্ষ থেকে পাওয়া কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং সে অনুযায়ী ইজারাদার ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করবে। হাট এলাকায় ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ নকল টাকা ব্যবহার রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশের পাশাপাশি পশুর হাটগুলোতে সেনাবাহিনী, র?্যাব, প্রয়োজনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও মোতায়েন করা হবে। বিজিবি’র সদস্যরাও থাকবেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ক্যাম্পও বসানো হবে।

তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী যানজট নিরসন, পশুর হাটের ব্যবস্থাপনা, মহাসড়ক-রেলপথ-নৌঘাটের ব্যবস্থাপনাসহ চামড়ার মূল্য নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘ সভা হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু অনুশাসন জারি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে- রেললাইন ও মহাসড়কের মধ্যে কোনো পশুর হাট বসানো যাবে না। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নির্ধারিত স্থানের বাইরে যেখানে-সেখানে কোনো হাট বসবে না। ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস উঠানোর ক্ষেত্রে প্রথমে যাত্রীদের নামিয়ে তারপর পরিবহন ফেরিতে উঠাতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিটি করপোরেশন পদক্ষেপ নেবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর গাবতলী হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয় ও আনা-নেয়ার সময় বড় ধরনের যানজট তৈরি হয়। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় সড়কে অপেক্ষায় থাকতে হয়।

গাড়ির সময়সূচিতে বিপর্যয় ঘটে। এই সমস্যা নিরসনে ডিএমপি, সিটি করপোরেশনের কিছু পরামর্শ-সুপারিশ নেয়া হয়েছে। সেগুলো বিবেচনায় রেখে ইজারাদার, ডিএমপি ও সিটি করপোরেশনকে কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী তারা কাজ করবে। ঈদের ৭ থেকে ১০ দিন আগে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও হাটের ইজারাদারেরা আবার বৈঠক করবেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নির্বিঘ্নে পশু কেনাবেচা নিশ্চিত করাসহ যানজট নিরসনের চেষ্টা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, এখানে একটি নতুন রাস্তা হচ্ছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এটির কাজ শেষ হবে।

এটিকে বাইপাস রাস্তা বা সার্ভিস রোডও বলতে পারি। রাস্তার কাজ সম্পন্ন হলে গাবতলী-আমিন বাজারের যানজট অনেকাংশে কমে যাবে। আশা করি, ঈদুল আজহার পশুর হাট এবং দেশবাসীর ঢাকা ছেড়ে যাওয়া ও আসার রাস্তাগুলো নির্বিঘ্ন থাকবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সজাগ আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান প্রমুখ।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন