অমিত শাহ এবং বিজেপির ঐতিহাসিক বঙ্গ জয়ের ৫ স্থপতি

অমিত শাহ এবং বিজেপির ঐতিহাসিক বঙ্গ জয়ের ৫ স্থপতি

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে রয়েছে দলের ‘চাণক্য’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সূক্ষ্ম কৌশল ও বিশাল অভিজ্ঞতা। তিনি ১৪ দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করে দলের কার্যক্রম সমন্বয় করেন এবং দিকনির্দেশনা দেন। কৌশলকে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে তিনি গভীর রাত পর্যন্ত দলের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক সাংগঠনিক বৈঠক করেন। দিনের বেলায় তিনি সমাবেশ ও রোডশোতে অংশ নেন। এমন কমপক্ষে ৫০টি কর্মসূচি তিনি পশ্চিমবঙ্গজুড়ে করেন। এই সময়ে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন, যেমন বিজেপি ক্ষমতায় এলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন (সেভেন্থ পে কমিশন) বাস্তবায়ন এবং ‘দুষ্কৃিত ও অনুপ্রবেশকারীদের’ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

প্রথম দফার ভোটের পর তিনি দাবি করেন, ওই পর্বেই বিজেপি ১১০টির বেশি আসন নিশ্চিত করেছে, যা দ্বিতীয় দফায় আরও সাফল্যের পথ তৈরি করে। এতে জনগণের মধ্যে বিজেপির জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। বিশেষ করে দ্বিতীয় দফা, যেটি আগে দলের জন্য কঠিন বলে মনে করা হচ্ছিল। ফলস্বরূপ, বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি ভেদ করতে সক্ষম হয়।

অমিত শাহের পাশাপাশি আরও পাঁচজন কেন্দ্রীয় নেতার কৌশলগত ভূমিকা এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সাংগঠনিক কাজ থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবস্থাপনা, সব ক্ষেত্রেই তারা একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করেন। তারা হলেন-

ধর্মেন্দ্র প্রধান: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পুরো নির্বাচনী প্রচারের প্রধান কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করেন। বিভিন্ন সম্প্রদায় ও সামাজিক স্তরের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাই ছিল তার মূল দায়িত্ব। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও রাজ্য ইউনিটের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে তিনি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর সুচারুভাবে পরিচালনা করেন।

ভূপেন্দ্র যাদব: সাংগঠনিক দক্ষতায় পারদর্শী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব মাইক্রো-ম্যানেজমেন্টে জোর দেন এবং বুথ স্তর পর্যন্ত কর্মীদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জটিল আইনি দিকগুলোও তিনি দক্ষতার সঙ্গে সামলান। বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে তার অভিজ্ঞতা বাংলার কঠিন নির্বাচনী পরিবেশে বিশেষভাবে কাজে লাগে।

সুনীল বানসাল: বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বানসাল আগে উত্তরপ্রদেশে দলকে অভূতপূর্ব সাফল্যে পৌঁছে দিয়েছিলেন। বাংলায় তিনি তৃণমূলের ক্যাডারভিত্তিক সংগঠনের মোকাবিলায় শক্তিশালী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলেন। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে ‘পন্না প্রধান’ (বুথ স্তরের সমন্বয়কারী)-এর একটি শক্তিশালী বাহিনী তৈরি করেন।

বিপ্লব দেব: ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব নিজের রাজ্যে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে ক্ষমতা দখলের অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলায় কাজ করেন। তিনি বিশেষ করে সেইসব অঞ্চলে সক্রিয় ছিলেন, যেখানে সংস্কৃতি ও ভাষা ত্রিপুরার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। স্থানীয় কর্মীদের সক্রিয় করা এবং আক্রমণাত্মক প্রচার কৌশল গড়ে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

অমিত মালব্য: বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য ডিজিটাল ক্ষেত্রে বর্ণনার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। সন্দেশখালি থেকে আরজি কর মেডিকেল কলেজের ঘটনা পর্যন্ত নানা বিষয় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষের সামনে তুলে ধরে তিনি শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করেন। ডিজিটাল মাধ্যমে তৃণমূলের প্রচারযন্ত্রের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি।

Mohsin

২ মাস আগে

তৃনমুল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছে তার কাছ থেকে বিজেপি ১০০টি আসন লুট করেছে আপাতদৃষ্টিতে মমতার কথায় যুক্তি আছে কারণ বিজেপির একজন প্রতাপশালী নেতা এবং ভারতের মতো একটি বিশাল দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ তার রুটিন কাজ কর্ম ত্যাগ করে কলকাতায় ২ সপ্তাহ অবস্থান করা ইহা কিসের ইঙ্গিত বহন করে কারণ ভোট একই সময়ে ভারতের অন্যান রাজ্যেই হচ্ছে সুতরাং এখানে পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে বিজেপির সরকার সুক্ষভাবে ভোট ইন্জিনিয়ারিং করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে হারানোর মাধ্যমে তাদের অনেক দিনের আশা পশ্চিমবঙ্গে উগ্র হিন্দুত্ববাদী শাসনের বীজ বপন করা সেক্ষেত্রে তারা সফল তাই আমি প্রার্থনা করছি আল্লাহ সোবহানাল্লাহ তালা যেন পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের হেপাজত করেন।

মন্তব্য করুন