এশিয়ান কাপকে সামনে রেখে সবার পরে প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। তারপরেও মূল আসরে নামার আগে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা হচ্ছে না পিটার বাটলারের শিষ্যদের। কোচের আপত্তির কারণেই কোনো প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যবস্থা করছে না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। প্রস্তুতি শুরু করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে দলও ঘোষণা করেননি এই বৃটিশ কোচ। এর মাঝেই কোচ পিটার বাটলার সম্প্রতি ফিফাকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা এবং আকাশছোঁয়া স্বপ্নের কথা। ফিফাকে বাটলার বলেন, ‘এশিয়ান কাপে জায়গা করে নেয়া আমাদের জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি। গত তিন বছরে মেয়েরা যে পরিশ্রম আর উন্নতি দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’ তিনি মনে করেন, এই টুর্নামেন্টটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সামর্থ্য প্রমাণের সেরা প্ল্যাটফর্ম। তবে বাটলারের পরিকল্পনা কেবল এশিয়ান কাপেই সীমাবদ্ধ নয়। তার মূল লক্ষ্য ২০২৭ ফিফা নারী বিশ্বকাপ। তিনি বিশ্বাস করেন, এশিয়ান কাপে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। বাটলারের ভাষায়, ‘স্বপ্ন দেখাটা জরুরি। আমরা যদি সেরাটা দিতে পারি, তবে ফুটবলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’ বাংলাদেশে কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে এই ইংলিশ কোচ বলেন, এখানকার মেয়েদের শেখার আগ্রহ প্রবল। দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল দলকে শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং কৌশলগতভাবে আধুনিক ফুটবলের উপযোগী করে তোলা। তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে তিনি বাফুফে ও সমর্থকদের মেয়েদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৬ সালের মার্চে এশিয়ান কাপের মঞ্চে বাংলাদেশের পদার্পণ হবে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের অগ্রযাত্রার এক বলিষ্ঠ প্রতীক। আর সেই অদম্য যাত্রায় নাবিকের ভূমিকায় অবিচল থেকে স্বপ্ন বুনে চলেছেন পিটার বাটলার।’ এবারের আসরে ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ খেলবে চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। ৩রা মার্চ চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে লাল-সবুজদের মিশন। ৬রা মার্চ দ্বিতীয় ম্যাচের প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া। দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে। ৯ই মার্চ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচ হবে পার্থের রেক্ট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে। টুর্নামেন্টে তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে মোট ১২টি দল অংশ নেবে। প্রত্যেক গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুদল সরাসরি যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। তবে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে সেরা দু’দলও সুযোগ পাবে শেষ আটে। কোয়ার্টার ফাইনালে জয়ী চার দল ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নেবে। আর হেরে যাওয়া চার দল নিজেদের মধ্যে দুটি প্লে-ইন ম্যাচ খেলবে, যেখানে জয়ী দুই দল বিশ্বকাপের মূল পর্বে যাবে। বাকি দুই দলকে নামতে হবে কঠিন আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে। বাংলাদেশের গ্রুপে তিন দলের মধ্যে চীন ও উত্তর কোরিয়া অনেক শক্তিশালী। তাদের বিপক্ষে আফঈদাদের জয় পাওয়া প্রায় অসম্ভব। একমাত্র সুযোগ উজবেকিস্তানকে হারানোর। তাদের হারাতেও পারলেও গ্রুপের তৃতীয় হওয়ার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের। তবে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৪৯তম স্থানে থাকা দলটিকে হারানোর জন্য যে প্রস্তুতি দরকার মেয়েদের, তার কতটুকু পাচ্ছে তারা। সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
এশিয়ান কাপ ছাপিয়ে বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাটলারের
স্পোর্টস রিপোর্টার
১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
