পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।
ভবানীপুরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ভোট গণনাকেন্দ্রে সৃষ্ট উত্তেজনার পর এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে খবর দিয়েছে অনলাইন আনন্দবাজার পত্রিকা। এতে বলা হয়, সোমবার দুপুর সাড়ে ৩টার কিছু পরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে পৌঁছেন মমতা। সেখানে আগে থেকেই বিজেপি কর্মীদের জটলা ছিল। মমতা পৌঁছানোর আগেই উত্তেজনা দেখা দেয় সেখানে।
তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছার পর গাড়ির সামনে ‘চোর-চোর’ স্লোগান তুললেন বিজেপির কর্ম-সমর্থকরা। মমতা পৌঁছানোর কিছু আগেই গণনাকেন্দ্রের অদূরে একটি পেট্রল পাম্পে বসেছিলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীও সেখানে ছিলেন।
পরে জানা যায়, পুলিশ তৃণমূল কর্মীদের সেখান থেকে উঠে যেতে বলে। যদিও ওই সময়ে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সেখানে ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। এর কিছু পরেই এজেসি বোস রোড ধরে এগিয়ে আসা বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয় পুলিশের। পরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা তৃণমূলের জমায়েতস্থলে পৌঁছে যান। তৃণমূল কর্মীদের পেতে রাখা চেয়ার ভাঙচুরেরও অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতেই সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে গণনাকেন্দ্রের চত্বরে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয় গণনাকেন্দ্রের কাছে। এর মধ্যেই বিজেপি সমর্থকরা মমতার বিরুদ্ধে ‘চোর-চোর’ স্লোগান তুলতে থাকেন। ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও।
গণনাকেন্দ্রের কাছে মোতায়েন পুলিশকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ওই বিজেপি সমর্থকদের সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। তারা বিজেপির সমর্থকদের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলচত্বর থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যান। ভবানীপুর আসনে মোট ২০ রাউন্ড গণনা রয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত ২০টির মধ্যে ১২টি রাউন্ডের ফল ঘোষণা হয়েছে। গণনাপর্বে সকাল থেকে দৃশ্যত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে ভবানীপুরে। প্রথম দিকে কখনও মমতা, কখনও শুভেন্দু এগিয়ে ছিলেন। তার পরের বেশ কয়েকটি রাউন্ডে এগিয়ে যান মমতা। আবার কিছু রাউন্ডে ব্যবধান কমাতে শুরু করেন শুভেন্দুও। যদিও গণনা শেষ হতে এখনও অনেকটা সময় বাকি।
