হেন্টা ভাইরাস সংক্রমণে সমুদ্রে প্রমোদভ্রমণে ৩ মৃত্যু

হেন্টা ভাইরাস সংক্রমণে সমুদ্রে প্রমোদভ্রমণে ৩ মৃত্যু

ফন্ট সাইজ:

সমুদ্রে প্রমোদভ্রমণের সময় হেন্টা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন। এছাড়াও এ ঘটনায় অসুস্থ আছেন আরো ৩ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোববার জানিয়েছে, প্রমোদতরীটি আটলান্টিক সাগরে ভ্রমণকালে হেন্টা ভাইরাস ছড়িয়ে পরে। মৃত ৩ ব্যক্তিই জাহাজটির যাত্রী ছিলেন বলে জানায় ক্রুজ শিপটির পরিচালনা কোম্পানি ওশানওয়াইড এক্সপেডিশন্স।

এমভি হন্ডিয়ুস নামের জাহাজটি এখন আফ্রিকা উপকূলের দ্বীপ রাষ্ট্র কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়াতে নোঙ্গর করা রয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা অব্দি কোনো যাত্রীকে কূলে নামার অনুমতি দেয়নি কেপ ভার্দে কর্তৃপক্ষ। তবে জাহাজটি চিকিৎসক এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিদর্শন করেছেন। আক্রান্ত ২ ব্যক্তির জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা।

হেন্টা ভাইরাস সংক্রমণ মরণঘাতী হতে পারে। গত বছর এই ভাইরাসের আক্রমণে প্রয়াত অভিনেতা জেন হ্যাকম্যানের স্ত্রী বেটসী আরাকাওয়া মারা যান। ইঁদুর ও মূষিকের মতো তীক্ষ্ণদন্তের প্রাণীর মূত্র, লালার মাধ্যমে হেন্টা ভাইরাসে সংক্রমণিত হয় মানুষ এমনটা জানিয়েছে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)। রোগটির প্রাদুর্ভাব সীমিত হলেও আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য এটি প্রাণঘাতী রূপ নেয়। মানুষের মাধ্যমে রোগটি ছড়ানো সম্ভব হলেও তার পরিমাণ খুবই কম বলে জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আক্রান্ত জাহাজটি ডাচ পতাকাবাহী যাত্রীবাহী প্রমোদতরী।

সাত সপ্তাহ পূর্বে এটি আর্জেন্টিনার ইউশুয়াইয়া থেকে রওনা হয়। যাত্রা পথে জাহাজটি অ্যান্টার্কটিকা এবং বৃটিশ মালিকানাধীন দ্বীপ সেন্ট হেলেনায় যাত্রাবিরতি করে। মোট ১৭০ জন যাত্রী এবং ৭১ জন ক্রু নিয়ে যাত্রা করে এমভি হন্ডিয়ুস। জাহাজটিতে একজন ডাক্তার ছিলেন বলে জানায় ওশান এক্সপেডিটেশন। ল্যাবে পরীক্ষার পর এখন অব্দি আক্রান্ত ৬ ব্যক্তির ভেতর একজনের শরীরে হেন্টা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। সংক্রমণ কিভাবে ছড়িয়েছে এ বিষয়ে কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। নিহতদের ভেতর ২ জন ডাচ নাগরিক এবং অপরজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হেন্টা ভাইরাস সাধারণত পশ্চিমাঞ্চলে দেখা যায়।

এই ভাইরাসের আক্রমণে প্লৌমারি সিনড্রোম হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, অবসাদ, দৃষ্টিবিভ্রম এবং পেট খারাপের সমস্যা দেখা দেয়। পরবর্তীতে কাশি, শ্বাসকষ্ট ও দমবন্ধ লাগার মতো লক্ষণ সমূহ প্রকাশ পায়। এশিয়া এবং ইউরোপ অঞ্চলে হেন্টা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে কিডনী ড্যামেজ দেখা যায়। সিডিসি জানিয়েছে হেন্টা ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক নেই। লক্ষণে যে সকল রোগ প্রকাশ পায় সে সকল রোগের চিকিৎসা করা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না। পূর্ণ লক্ষণ প্রকাশপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩৮ ভাগ ব্যক্তি মারা যান বলেও জানায় সিডিসি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন