ভারতের চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোট গণনা চললেও গোটা দেশের নজর পশ্চিমবঙ্গের দিকে। সর্বত্রই রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা। বিজেপি কি ইতিহাস রচনা করতে পারবে নাকি তৃণমূল কংগ্রেসই ক্ষমতায় ফিরে আসবে। পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় ও চায়ের দোকানে জয় পরাজয়ের নানা অঙ্ক নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠছে।
সোমবার সকাল থেকে ভোট গণনা শুরুর প্রথম দু'ঘন্টার মধ্যে প্রাথমিক ফলাফলের যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে তাতে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে বেশি আসনে এগিয়ে আছে। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। রাজ্যের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রাথমিক ফলাফলের প্রথম পর্যায়ে শুভেন্দু এগিয়ে থাকলেও প্রথম রাউন্ড গণনার পর শুভেন্দু পিছিয়ে রয়েছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মমতা এগিয়ে রয়েছেন ১৯৯৬ ভোটে। তবে পর্যবেক্ষক মহলের মতে, ঘন্টায় ঘন্টায় এ ধরণের ফলের অদলবদল হওয়া অসম্ভব নয়। অবশ্য নন্দীগ্রামে শুভেন্দু এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভারতীয় সময় বেলা ১১টায় প্রাথমিক ভোট গণনার পরে ফলের যে গতিপ্রকৃতি জানা যাচ্ছে তাতে বিজেপি ১৫৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ১২৩টি আসনে। এদিকে এবারই শূণ্য আসনের তকমা ঘুচিয়ে কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট খাতা খুলতে চলেছে। সিপিআইএম ২টি আসনে এবং কংগ্রেস ২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। কংগ্রেসের মৌসম বেনজির নূর এগিয়ে থাকলেও তিন দশক পরে রাজ্য রাজনীতিতে ফিরে আসা অধীর রঞ্জন চৌধুরি পিছিয়ে আছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক উল্লেখযোগ্য প্রার্থী এ পর্যন্ত পিছিয়ে রয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেবাশীষ কুমার, গৌতম দেব, শশী পাজাঁ, উদয়ন গুহ, পরেশ অধিকারী প্রমুখ।
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনঃনির্বাচনের সিদ্ধান্ত হওয়ায় সোমবার ভোট গণনা চলছে ২৯৩টি আসনে। এর মধ্যে ১৪৭ টি আসনে যে দল পৌঁছে যাবে তারাই ম্যাজিক সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলবে। সব রাজনৈতিক দলের নেতারা গণনার দিকে তীক্ষ্ণ নজর রেখেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায় সকাল থেকেই কালীঘাটের বাড়িতে বসে সব গণনা কেন্দ্রের দিকে নজর রেখে চলেছেন।
