পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনে ভোটের ফল গণনা চলছে। একটি আসনে স্থগিত করা হয়েছে। দীর্ঘ ও উত্তেজনাপূর্ণ নির্বাচনী প্রচারণার পর আজ নির্ধারিত হচ্ছে কারা ক্ষমতায় আসবে। মূল প্রশ্ন- অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস কি ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে, নাকি ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি বড় ধরনের অগ্রগতি করবে। প্রাথমিক হিসেবে বিজেপি ৯৫টি আসনে এগিয়ে আছে এবং তৃণমূল ৩৪টি আসনে এগিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে এগিয়ে আছেন। আর বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকে এগিয়ে।
ভোট গণনায় কড়া নিরাপত্তা
৭৭টি গণনা কেন্দ্রে বহুস্তরীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভোট গণনা চলছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী, সিসিটিভি নজরদারি এবং বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু থাকে। ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ইভিএম রাখা স্ট্রংরুমগুলো ২৪ ঘণ্টা কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে এবং কারচুপির অভিযোগ নাকচ করা হয়েছে।
রেকর্ড ভোটার উপস্থিতি
২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ, স্বাধীনতার পর যা সর্বোচ্চ। কিছু কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণেও ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গেছে। তবে এই ভোটের হারকে দেখা হচ্ছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের প্রেক্ষাপটে। যার ফলে প্রায় ৯০ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে। এটি চূড়ান্ত ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
জোরালো প্রচারণা
নির্বাচনী প্রচারণায় বিজেপির শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দলকে দুর্নীতি, শাসনব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে আক্রমণ করেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রচারণায় কল্যাণমূলক প্রকল্প, আঞ্চলিক পরিচয় এবং এসআইআরের সমালোচনাকে গুরুত্ব দেয়।
বিরোধীদের অবস্থান
দুটি প্রধান দলের বাইরে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআইএম) ও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (কংগ্রেস) আগের নির্বাচনের দুর্বল ফল কাটিয়ে পুনরায় শক্ত অবস্থান গড়ার চেষ্টা করছে।
২৯৩টি আসনের ফল আজ
ফলতা আসনে ভোটগ্রহণ বাতিল হওয়ায় সেখানে পরে ভোট হবে। তাই আজ ২৯৩টি আসনের ফল ঘোষণা করা হচ্ছে। উচ্চ ভোটার উপস্থিতি ও তীব্র রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে। এ পর্যন্ত পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ফলগুলো হলো- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে ৩,৬৬৬ ভোটে এগিয়ে আছেন। তিনি ১৯৯৬ ভোটে লিড ধরে রেখেছেন। আহমেদ জাভেদ খান কাসবায় ২০,৬৪৭ ভোটে এগিয়ে আছেন। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বালিগঞ্জে ৮২৫৭ ভোটে এগিয়ে আছেন। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় চৌরঙ্গীতে ৩১১৮ ভোটে এগিয়ে আছেন।
হাওড়া ও মধ্যবঙ্গে সন্দীপন সাহা এন্টালিতে ১৪,১৬৫ ভোটে এগিয়ে আছেন। কুনাল ঘোষ বেলেঘাটায় ৩৫২৪ ভোটে এগিয়ে আছেন। নন্দিতা চৌধুরী হাওড়া দক্ষিণে ৭,৫২৯ ভোটে এগিয়ে আছেন। বেচারাম মান্না সিঙ্গুরে ৪৭৩৯ ভোটে এগিয়ে আছেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বুরহানুল মোকাদ্দিম বাদুড়িয়ায় ৪,৬২০ ভোটে এগিয়ে আছেন। আনিসুর রহমান বিদেশ দেগঙ্গায় ৫৫৪৬ ভোটে এগিয়ে। মন্টুরাম পাখিরা কাকদ্বীপে ৬,০৩৩ ভোটে এগিয়ে। পরেশ রাম দাস ক্যানিং পশ্চিমে ৮৪৩৯ ভোটে বড় লিড।
মালদা অঞ্চলে আব্দুর রহিম বক্সী মালতীপুরে ৭৯৭২ ভোটে এগিয়ে আছেন। ইসলাম নজরুল মোথাবাড়িতে ৪,৮৭২ ভোটে এগিয়ে। সাবিনা ইয়াসমিন সুজাপুরে ৬,৪৫২ ভোটে এগিয়ে। রেয়াত হোসেন সরকার ভগবানগোলায় ৭,৬৯২ ভোটে এগিয়ে।
উত্তরবঙ্গে সঙ্গীতা রায় সিতাইয়ে ৫,৩০৫ ভোটে এগিয়ে। তোরাফ হোসেন মন্ডল কুমারগঞ্জে ৬,৬৮২ ভোটে এগিয়ে। গৌতম দাস গঙ্গারামপুরে ৫,৩২৩ ভোটে এগিয়ে আছেন।
