মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি’কে গৃহবন্দি হিসেবে স্থানান্তরের পর তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরদার হয়েছে। তার মুক্তি দাবি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। তারা সবাই তার ও অন্য রাজবন্দির অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মা। এতে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ১লা ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে আটক থাকা সু চির ২২ বছরের সাজা কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়েছে। ৩০ এপ্রিল ১৫১৯ জন বন্দির জন্য সাধারণ ক্ষমার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্পষ্ট করেছে- গৃহবন্দিত্ব কোনো সমাধান নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১লা মে জানায়, আমরা তার অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানাচ্ছি। তারা আরও বলেছে, তার স্বাস্থ্যের অবনতির খবরের কারণে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সহিংসতা বন্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন।
ওদিকে, ২০২৬ সালের রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে মিয়ানমার ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৬৬তম স্থানে রয়েছে। এটি ‘অত্যন্ত গুরুতর’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে। এই তালিকার নিচের দিকে রয়েছে- ইরান, চীন ও উত্তর কোরিয়া। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমার বিশ্বে সাংবাদিকদের অন্যতম বড় কারাগারে পরিণত হয়েছে। অন্তত ২০০ সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা চীনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টসের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রতিনিধি শন ক্রিসপিন বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী স্বাধীন গণমাধ্যম দমন করে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের দাবি করতে পারে না।
সাম্প্রতিক সময়ে খনুমথুং মিডিয়া গ্রুপ, চিন ওয়ার্ল্ড ও ম্যাতমাউকখিত নিউজ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর কমপক্ষে ১৫টি স্বাধীন গণমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে। বর্তমানে কমপক্ষে ১৮ জন সাংবাদিক কারাগারে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী মিয়ানমার সাংবাদিক বন্দিত্বে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে।
