চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সিঙ্গাপুর থেকে আসা দু’টি কন্টেইনারবাহী জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাজ দু’টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুর্ঘটনার ফলে বিভিন্ন আমদানিকারকের প্রায় ২ হাজার ৮০০ একক (টিইইউএস) কন্টেইনার পণ্য খালাসে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে আমদানিকারক ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। ঘটনা তদন্তে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে বহির্নোঙর থেকে জাহাজ দু’টি বন্দরের জেটিতে আনার প্রস্তুতিকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল জাহাজ দু’টি। এর মধ্যে একটি বিশ্বের শীর্ষ শিপিং কোম্পানি ‘মায়ারস্ক’-এর এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান এইচ আর লাইনের মালিকানাধীন ‘এইচ আর তুরাগ’। বর্তমানে জাহাজ দু’টি বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ রয়েছে। শিপিং সূত্রে জানা যায়, সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে জাহাজ দু’টি গতকাল শুক্রবার (১লা মে) চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে আসার শিডিউল ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ দু’টির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সংঘর্ষের ফলে জাহাজ দু’টির পানির নিচের অংশ এবং পার্শ্বদেশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। শুক্রবার সকালে জাহাজ দু’টিকে চালিয়ে জেটিতে আনতে গিয়েছিলেন বন্দরের দুই অভিজ্ঞ পাইলট ক্যাপ্টেন মো. আতাউল হাকিম সিদ্দিকী ও ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন। কিন্তু জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখে তারা ঝুঁকি নিতে রাজি হননি। ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, ‘আমরা জাহাজে ওঠার আগেই দুর্ঘটনা ঘটে যায়।
পরে জাহাজে উঠে দেখি দু’টিরই মূল অংশ ক্ষতিগ্রস্ত। পানির নিচে কোনো সূক্ষ্ম ছিদ্র বা বড় ধরনের ঝুঁকি আছে কি না, তা কারিগরি তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। এই অবস্থায় জাহাজগুলো জেটিতে আনতে গেলে চ্যানেলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই আমরা ফিরে এসেছি।’ এদিকে, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঘটনার পর থেকে বন্দরের বহির্নোঙরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। জাহাজ দু’টি কবে নাগাদ নিরাপদে বন্দরে পৌঁছাবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে বন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ জালাল উদ্দিন গাজী জানিয়েছেন, ‘আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় তদন্ত দল এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কারিগরি তদন্ত শুরু হবে এবং জাহাজ দু’টি চলাচলের উপযোগী কি না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ আমদানিপণ্য নিয়ে সাগরেই ভাসতে হচ্ছে জাহাজ দু’টিকে।’
