ইরানের দেয়া নতুন ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার তিনি এ প্রস্তাবের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, গত ৪৭ বছরে নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য তেহরান এখনো যথেষ্ট বড় মূল্য দেয়নি। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, তিনি ভাবতেই পারছেন না যে, ইরানের এই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তিনি লিখেছেন, ইরান আমাদের কাছে যে পরিকল্পনা পাঠিয়েছে, আমি খুব শিগগিরই তা পর্যালোচনা করবো। তবে মনে হচ্ছে না এটি গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ গত ৪৭ বছরে মানবতা ও বিশ্বের প্রতি তারা যা করেছে, তার জন্য তারা এখনো যথেষ্ট বড় মূল্য দেয়নি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
এরপর ফ্লোরিডায় গণমাধ্যমের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি ইরানের ওপর আবার হামলা শুরু করবেন কিনা। জবাবে তিনি বলেন, তেহরান খারাপ কিছু করলে হামলা পুনরায় শুরু হতে পারে। তবে ঠিক কী ঘটলে এমন পদক্ষেপ নেয়া হবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তিনি বলেন, যদি তারা খারাপ আচরণ করে, যদি তারা খারাপ কিছু করে, তাহলে (হামলা) হতে পারে। আপাতত দেখা যাক। তবে এমনটা ঘটার সম্ভাবনা অবশ্যই আছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উদ্যোগে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে শুরু হওয়া যুদ্ধটি ৮ই এপ্রিল থেকে স্থগিত রয়েছে। পাকিস্তানে একদফা ব্যর্থ শান্তি আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ইরান আবারো ১৪ দফা নতুন শান্তি প্রস্তাব মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের কাছে জমা দিয়েছে, যা ট্রাম্প পর্যালোচনা করবেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রস্তাবে সব ফ্রন্টে সংঘাতের অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির জন্য নতুন কাঠামো তৈরির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে ট্রাম্প ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, তিনি এতে সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে তারা যা প্রস্তাব দিচ্ছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট নই। আমরা কি গিয়ে তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়ে চিরতরে শেষ করে দেবো, নাকি একটি চুক্তির চেষ্টা করবো? মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমি প্রথম বিকল্পটি নিতে চাই না। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবে অসন্তোষ প্রকাশ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার উচ্চ আশঙ্কা আছে। মোহাম্মদ জাফর আসাদি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ও বক্তব্য মূলত গণমাধ্যমকেন্দ্রিক। যার উদ্দেশ্য একদিকে তেলের দাম কমে যাওয়া ঠেকানো এবং অন্যদিকে নিজেদের তৈরি করা পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা। তিনি বলেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ ও বক্তব্য মূলত মিডিয়াকেন্দ্রিক। প্রথমত, তেলের দাম কমে যাওয়া ঠেকাতে এবং দ্বিতীয়ত, তারা যে পরিস্থিতি তৈরি করেছে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। মার্কিনিদের যেকোনো নতুন দুঃসাহসিকতা বা বোকামির জবাব দিতে আমাদের সশস্ত্রবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি তেহরানে কূটনীতিকদের বলেন, কূটনীতির পথ বেছে নেয়া নাকি সংঘাত চালিয়ে যাওয়া, এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার পালা যুক্তরাষ্ট্রের। তিনি আরও বলেন, আমরা উভয় পথের জন্যই প্রস্তুত।
