গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম কমিশন গঠনের লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় একটি পরামর্শ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এই কমিটি গঠন করা হবে সকল পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে এবং প্রয়োজন হলে সময় নিয়েই একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা হবে। রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি পরামর্শ কমিটি চাই, যেটি সবার মতামতের প্রতিফলন ঘটাবে। সময় লাগলেও সমস্যা নেই, তবে এটি অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হতে হবে। এই গ্রহণযোগ্যতার ধারাবাহিকতায়ই একটি কার্যকর গণমাধ্যম কমিশনের জন্ম হবে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টেক জায়ান্টদের বাইরে অন্য কারো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। বিটিআরসির ক্ষমতা মূলত বন্ধ করে দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। অথচ সমস্যার প্রকৃতি ডিজিটাল, কিন্তু আমাদের কাঠামো এখনও বাটন ফোনের মতো পুরোনো।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশও এখন পর্যন্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জটিল সমস্যার কার্যকর সমাধান করতে পারেনি। আমরা ডিজিটাল হ্যাজার্ড নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করতেও পারছি না।
গণমাধ্যম কমিশনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকার নিজেও একটি পক্ষ, তাই অভিভাবকের ভূমিকায় থাকা সম্ভব নয়। এই বাস্তবতায় একটি স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন অপরিহার্য।
বর্তমান গণমাধ্যমের পরিমাপ পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। টেলিভিশনের টিআরপি নির্ধারণ এবং পত্রিকার ছাপার সংখ্যা নিয়ে প্রচলিত পদ্ধতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সামান্য কয়েকটি বক্স দিয়ে পুরো দেশের টিআরপি নির্ধারণ করা হয়, যা বাস্তবতার প্রতিফলন নয়। একইভাবে পত্রিকার সার্কুলেশন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে একটি অপ্রমাণিত ধারণা চালু রয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এই প্যারামিটারগুলো দেখলেই বোঝা যায় রাষ্ট্র, সমাজ এবং গণমাধ্যম সবখানেই সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। অনুষ্ঠানে নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী, সম্পাদক পরিষদ সভাপতি নূরুল কবীরসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
