সংবিধান সংস্কার, জুলাই সনদ নিয়ে জনগণকে ভুল বোঝানো হচ্ছে

সংবিধান সংস্কার, জুলাই সনদ নিয়ে জনগণকে ভুল বোঝানো হচ্ছে

ফন্ট সাইজ:

সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ নিয়ে জনগণকে ভুল বোঝানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান তৎপরতা দেশকে অস্থির করার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রখ্যাত চক্ষু চিকিৎসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণে এক সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। স্মরণসভা শেষে দোয়া ও মোনাজাতে মরহুম অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, যারা নির্বাচিত হবেন তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ করবেন- এমন সিদ্ধান্তে বিএনপি কখনোই একমত ছিল না। তারা জনগণকে ভুল বোঝাচ্ছে। আর সংসদের শেষ দিনে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দিতে বলা হয়েছে এবং তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি জায়গায় আমরা ছিলাম। কিছু জায়গায় নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি, স্বাক্ষরও করেছি। এখন অবলীলায় বলা হচ্ছে, সবটাই করতে হবে। উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে আমরা একমত হইনি। সব কিছু সংসদের মাধ্যমেই করতে হবে। জুলাই সনদ ও সংবিধান নিয়ে বিতর্ক স্বাভাবিক হলেও তা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সংস্কারবিরোধী এমন প্রচারণা বিভ্রান্তিকর। জিয়াউর রহমানই দেশে প্রথম সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

বিতর্কে সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনীতিকে ঠিক করা। এ অবস্থার উত্তরণে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। ফ্যাসিস্ট আমলে ৮০ লাখ কোটি টাকা দেনা রেখে গেছে। ফ্যাসিস্টের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে ফেলে পুনর্গঠন করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলবাজি করা যাবে না মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ছাত্র-রাজনীতিতে মেধাবীদের সম্পৃক্ত করে তা সঠিক খাতে প্রবাহিত করতে হবে, না হলে অতীতে যেমন ক্ষতি হয়েছে, ভবিষ্যতেও তেমন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন একজন আদর্শবান, সৎ ও নিরহংকার মানুষ, যিনি ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি দেশের জন্য যেমন কাজ করেছেন, তেমনি একজন চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তার জীবন আমাদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

ফখরুল বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমরা তাকে বেশিদিন আমাদের মাঝে ধরে রাখতে পারিনি। তবে তার আদর্শ, নীতি ও কর্ম আমাদের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবে। নতুন প্রজন্মের উচিত তার জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা।

জিয়া পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আবদুল লতিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন