লাল বাটন চেপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উদ্বোধনের পর পরই উৎসবে যোগ হয় নতুন মাত্রা। মাঠের এক কোণে বসে ১২-১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সেই উদ্দীপনা দেখেছেন বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে জাতীয় দলে জার্সি গায়ে জড়ানো ৩২ ক্রীড়াবিদ। জাতীয় দলের এ তারকাদের চোখে নতুন কুঁড়ি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে পাইপলাইন তৈরির নতুন প্ল্যাটফরম। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার প্রয়াসে গতকাল সিলেট থেকে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর মাঠের চারপাশে ক্রীড়া উৎসব শুরু হয়। খেলা শেষে উপস্থিত জাতীয় দলের তারকারা খুদে শিশু-কিশোরদের দিক নির্দেশনা দেন। জাতীয় দলের অভিজ্ঞ নারী ক্রিকেটার ফারজানা হক পিংকির মতে, গ্রাম ও মফস্বল পর্যায়ে প্রতিভার কমতি নেই। তবে সঠিক নির্দেশনার অভাব দেখছেন তিনি।
৩৩ বছর বয়সী এ টপ অর্ডার ব্যাটার বলেন, ‘এখান থেকে স্কুল, গ্রামাঞ্চল থেকে অনেক ট্যালেন্টেড ছেলে মেয়ে বের হয়ে আসবে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত শিক্ষক ও ভালো সুযোগ-সুবিধা। শিক্ষক যদি ভালো গাইডলাইন দিতে পারেন তবে আরো মেধাবি ক্রীড়াবিদ বের হবে। শুধু দেখানোর জন্য না করে সঠিক পরিচর্যা পেলে নতুন কুঁড়ি থেকে অনেক অনেক ট্যালেন্ট বের হবে। যারা দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে।’ পাইপলাইন সমৃদ্ধ করতে এ প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম বড় ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস পিংকির। তিনি বলেন, ‘সাঁতার, বাস্কেটবল কিংবা ক্রিকেটের কথা ধরুন না কেন প্রতিটি খেলায় অনেক প্রতিভা রয়েছে। আমি একজন প্লেয়ার, ক্রীড়াকে ভালোবাসি, খেলাধুলাকে ভালোবাসি। সেই হিসাবে আমি মনে করি যে এই উদ্যোগগুলো যেন শুধু দেখানোর জন্য না হয়। এর মাধ্যমে যেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ভিত শক্ত হয়।’ ঠাকুরগাঁওয়ের রাঙাটুঙ্গি গ্রাম থেকে উঠে আসা জাতীয় দলের ফুটবলার রানী আক্তারও আশাবাদী নতুন কুড়ি স্পোর্টস নিয়ে। তৃণমূল পর্যায়ের এ উদ্যোগ আগামী দিনের তারকা তৈরি করবে বলে আশাবাদী তিনিও।
বিশেষ করে গ্রামের দরিদ্র প্রতিভাবান শিশুরা যারা সুযোগ-সুবিধার অভাবে হারিয়ে যেতো, তারা এখন স্বপ্ন দেখার সাহস পাচ্ছে। জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখা তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আসলেই ভালো কিছু করতে হলে অনেক কষ্ট পরিশ্রম করতে হয়। তারা যদি একাডেমিতে ঠিকমতো প্র্যাকটিস করে এবং সবকিছু ডিসিপ্লিনের মধ্যে থাকে, তাহলে ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে ভালো কিছু করতে পারবে।’ ব্যাডমিন্টন তারকা উর্মী আক্তার মনে করেন, বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আমূল পরিবর্তন আনবে। তিনি বলেন, আগে আমাদের অনেক ভাবনা-চিন্তা করতে হতো যে খেলাধুলা করবো নাকি লেখাপড়া করবো, এখন আর ওই ডিসিশনে ভুগতে হয় না।
যেহেতু খেলাকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তাই একজন খেলোয়াড় শুরু থেকে সাপোর্ট পেলে তার অন্য কোনো চিন্তা থাকবে না; তার লক্ষ্য থাকবে দেশের জন্য ভালো কিছু করার।’ জাতীয় কারাতে দলের খেলোয়াড় আহাদ ইসলাম আরমান মনে করেন জীবনকে সুশৃঙ্খল করতে আত্মরক্ষার কৌশল জানার বিকল্প নেই। এটিকে সুশৃঙ্খল জীবনের শক্তিশালী একটি মাধ্যম হিসেবে দেখছেন তিনি। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে আরমান বলেন, ‘মার্শাল আর্ট, কারাতে বা জুডো শুধু মারামারি নয়। এটি সবাইকে ডিসিপ্লিনের ভেতরে নিয়ে আসে। বাচ্চাকে শুধু ফুটবল-ক্রিকেট বা পড়াশোনার জন্য চাপ না দিয়ে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে মার্শাল আর্ট শিখতে উদ্বুদ্ধ করুন।’
