অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতেই নাকানিচুবানি খাইয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের কাছে সেই ৯ উইকেটের পরাজয়ের ক্ষত এখনো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান শিবিরকে। ক্রিকেটভিত্তিক পডকাস্ট ‘কিপিন ইট ক্রিকেট’-এ প্যাট কামিন্সের মুখে আবারো ফিরে এলো সেই সিরিজ হারের প্রসঙ্গ। তবে অজুহাত খুঁজতে নারাজ অজি টেস্ট অধিনায়ক পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে হারে কোনো প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল না। বরং মাঠের ক্রিকেটে টাইগারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কাছেই হার মানতে হয়েছে তাদের।
সাংবাদিক অ্যাডাম পিকক ও অস্ট্রেলিয়ার নারী দলের সাবেক অধিনায়ক অ্যালিসা হিলির সঞ্চালনায় পডকাস্টে কামিন্স খোলামেলা কথা বলেন। ২০০৩ সালের পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নামা বাংলাদেশ দল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অ্যাশেজের টেস্ট হোক কিংবা বাংলাদেশের সিরিজ, আমার মনে হয় আমরা একইভাবে প্রস্তুতি নিতাম। সিরিজ শুরুর আগে আমরা বেশ ভালো জায়গায় ছিলাম, সবাই ফিট ও প্রস্তুত ছিল।’ অপ্রত্যাশিত এই হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কামিন্স সরাসরি স্বীকার করেন, ‘আমরা ব্রিসবেনে অনেক ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমার মনে হয় না প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি ছিল। আমরা শুধু নিজেদের সেরাটা দিতে পারিনি। অন্যদিকে বাংলাদেশ দুর্দান্ত খেলেছে এবং আমাদের ম্যাচে ঢোকার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগই দেয়নি।’ উল্লেখ্য, ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটসহ ম্যাচে ৯টি এবং মেহেদী হাসান মিরাজের চোখ জুড়ানো বোলিংয়ের সুবাদে অস্ট্রেলিয়াকে পাত্তাই দেয়নি বাংলাদেশ।
ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি টাইগারদের ঐতিহাসিক জয় এনে দেয়। মিচেল স্টার্ক, কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডদের নিয়ে গড়া পেস আক্রমণ নিয়েও সেই ম্যাচে নাস্তানাবুদ হয় অস্ট্রেলিয়ান দল। যদিও পরের ম্যাচে ম্যাকাইতে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে ১-১ ব্যবধানে সিরিজ ড্র করে অস্ট্রেলিয়া। এদিকে ডারউইনের সেই স্মৃতি পেছনে ফেলে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের পরবর্তী মিশন দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১৮ সালের আলোচিত ‘স্যান্ডপেপারগেট’ কেলেঙ্কারির পর এই প্রথম প্রোটিয়াদের মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে কামিন্সরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই তিন ম্যাচের সিরিজ নিয়ে বলতে গিয়ে অজি অধিনায়ক বলেন, ‘হয়তো সেখানে কিছুটা বৈরিতা বা উত্তেজনা থাকবে। তবে তা অ্যাশেজ সিরিজের চেয়ে বেশি কিছু হবে না।’
