ব্যাটিং ব্যর্থতার খেসারত দিলো বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে বৃষ্টিবিঘ্নিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ডাকওয়ার্থ লুইস স্টার্ন বা ডিএলএস পদ্ধতিতে ৬ উইকেটে হেরেছে স্বাগতিকরা। এই হারের ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হলো। প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয় পেয়েছিল স্বাগতিক দলটি। দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পুরোপুরি পরিত্যক্ত হয়। গতকাল টস হেরে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই দিক হারায় লিটন কুমার দাসের দল। বৃষ্টির কারণে কমিয়ে ১৫ ওভার নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু স্বাগতিক ব্যাটাররা এই অল্প ওভারও টিকতে পারেননি। চার বল বাকি থাকতেই মাত্র ১০২ রানে গুটিয়ে যায় তারা। সহজ লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে কিউইরা চাপে পড়লেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র ৩৩ রানে চার উইকেট হারালেও বেভন জ্যাকবসের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে সব হিসাব পাল্টে যায়। তার অসাধারণ এক পাল্টা আক্রমণে খেই হারিয়ে ফেলে স্বাগতিক বোলাররা।
জ্যাকবসের দারুণ এক ফিফটিতে ভর করে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় সফরকারী নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসের শুরুটা ছিল ধীর। পাওয়ার প্লের শেষ দিকে কিউই পেসার নাথান স্মিথের তোপে মারাত্মক ধাক্কা খায় লিটনের দল। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে পরপর দুই বলে স্মিথের শিকার হন তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন। এর আগে অভিষেক হওয়া কিউই স্পিনার জেডেন লেনক্স নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম বলেই তুলে নেন সাইফ হাসানের উইকেট। শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক লিটন এবং মিডল অর্ডারের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়। লিটন ১৭ বলে ২৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তার ইনিংসে ছিল তিনটি দৃষ্টিনন্দন চার এবং একটি ছক্কা। এরপর পুরো দলের ভার নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন হৃদয়। তবে সতীর্থদের ব্যর্থতার মিছিলে তিনিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ২১ বলে ৩৩ রান করে আউট হন হৃদয়। এই জুটির বিদায়ের পর দলের আর কেউই বলার মতো রান করতে পারেননি।
শামীম হোসেন, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন কেউই দুই অঙ্কের কোটা ছুঁতে ব্যর্থ হন। ফলে ১৪ ওভার ২ বলে মাত্র ১০২ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। জশ ক্লার্কসন মাত্র ৯ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। মাত্র ১০৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং ধসের মুখে পড়ে সফরকারীরা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে শরিফুল ইসলাম বল হাতে রীতিমতো আগুন ঝরান। দুর্দান্ত সুইং এবং পেস দিয়ে তিনি বোকা বানান কিউই ব্যাটারদের। দ্বিতীয় ওভারেই তিনি কট বিহাইন্ড করে সাজঘরে ফেরান কাটেনে ক্লার্ককে। এক বল পরেই ডেন ক্লেভারকেও একই কায়দায় আউট করেন শরিফুল। এরপর চতুর্থ ওভারে এসে ভয়ংকর হয়ে ওঠা টিম রবিনসনকেও বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান তিনি। রবিনসন ১৪ বলে ২৩ রান করে আউট হন। পঞ্চম ওভারে শেখ মেহেদি হাসান বোলিংয়ে এসে নিউজিল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিক কেলিকে ফিরিয়ে দিলে বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। ৩৩ রানে চার উইকেট হারিয়ে সফরকারীরা তখন ভীষণ চাপে পড়ে যায়। শরিফুল ৩ ওভার বল করে মাত্র ১৯ রান দিয়ে তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ ৩টি উইকেট।
মনে হচ্ছিল বোলাররা দারুণ এক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। স্বাগতিক দর্শকদের মনে তখন সিরিজ জয়ের ক্ষীণ আশা জাগতে শুরু করেছিল। তবে জ্যাকবস ৩১ বলে পাঁচটি চার ও তিনটি বিশাল ছক্কায় অপরাজিত ৬২ রান করেন। স্বাগতিক ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের মহড়ায় দুবার সহজ ক্যাচ দিয়েও জীবন পান তিনি। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের বলে টানা ছক্কা এবং চার হাঁকিয়ে ১১ ওভার ৪ বলে দলের জয় নিশ্চিত করেন জ্যাকবস।
