ফৌজদারি অপরাধ, মাদক, জালিয়াতি, ভিসা লঙ্ঘন এবং অসহযোগিতার অভিযোগে ১১ জন ভারতীয় নাগরিককে বহিষ্কার করেছে অস্ট্রেলিয়া অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কৃতরা ভারতের পাঞ্জাবের ১০ জন এবং হায়দ্রাবাদের একজন নাগরিক। তাদেরকে নাউরু এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি অবতরণ করে।
অস্ট্রেলিয়া টুডে সূত্রে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কার করার আগে নির্বাসিতদের বেশিরভাগকেই অস্ট্রেলিয়া জুড়ে বিভিন্ন অভিবাসন আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। এই ১১ জন ভারতীয় নাগরিককে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ইয়োঙ্গা হিল অভিবাসন আটক কেন্দ্র, ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্ন অভিবাসন আটক কেন্দ্র এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের ভিলাউড অভিবাসন আটক কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে আটক রাখা হয়েছিল। নির্বাসিত ১১ জনের মধ্যে মাত্র দুজনের বৈধ পাসপোর্ট ছিল। বাকি নয়জনকে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনের জারি করা জরুরি সনদ ব্যবহার করে বিমানে করে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়। আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজনকে 'অবাধ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী' হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
যার ফলে সাধারণ যাত্রীদের সাথে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে তাদের নির্বাসিত করা কঠিন ও অনিরাপদ ছিল। তাই অস্ট্রেলীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ চার্টার ফ্লাইট ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই কার্যক্রমে বিমানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তা, চিকিৎসা কর্মী এবং এসকর্ট অন্তর্ভুক্ত ছিল। কর্মকর্তারা বলেছেন, আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজন নির্বাসন প্রক্রিয়ায় বাধা দিয়েছিল এবং কনস্যুলার সহায়তা নিতে অস্বীকার করেছিল।
অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কৃত ৩৪ বছর বয়সী যশবন্ত সিং, ইয়োঙ্গা হিলে আটক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি অস্ত্র, মাদক-সংক্রান্ত সরঞ্জাম, বারবার জামিনের শর্ত লঙ্ঘন, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের মতো অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন। এর আগে তাকে নির্বাসিত করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ইয়োঙ্গা হিলে আটক আরেকজন, ৩২ বছর বয়সী আংরেজ সিং। তিনি কনস্যুলার সহায়তা নিতে অস্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক জালিয়াতি, মাদক সংক্রান্ত অপরাধ, অনধিকার প্রবেশ এবং চোরাই মাল রাখার অভিযোগ রয়েছে।
ইয়োঙ্গা হিল থেকে আটক ৩৫ বছর বয়সী জগজিৎ সিং সিধু চুরি, যানবাহন চুরি, জাল নথি ব্যবহার এবং চোরাই মাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করেছে, নির্বাসন প্রক্রিয়ার সময় তিনি সহযোগিতা করেননি।
৩৫ বছর বয়সী রঞ্জিত সিং, যাকে ইয়োঙ্গা হিলে আটক রাখা হয়েছিল, তাকে এর আগেও দেশ থেকে বহিষ্কারের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তিনি হেরোইন ও মেথামফেটামিন রাখা, চুরি এবং বারবার জামিনের শর্ত ভঙ্গের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
মেলবোর্ন ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ৩১ বছর বয়সী সতিন্দরজিৎ সিং শেরগিলের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার আদেশ বারবার লঙ্ঘন, হামলা এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
মেলবোর্ন থেকে আটক করা হয় ৩৭ বছর বয়সী জসপ্রীত সিংককে। তার বিরুদ্ধে কোনো নিশ্চিত দণ্ডাদেশ না থাকলেও, অভিযোগ রয়েছে- তিনি দোকান থেকে চুরি, মাদক রাখা, হামলা, জামিনের শর্ত লঙ্ঘন এবং পারিবারিক সহিংসতা-সম্পর্কিত অপরাধসহ বেশ কিছু গুরুতর বিচারাধীন অভিযোগের সম্মুখীন ছিলেন।
৪১ বছর বয়সী হরপ্রীত সিং মেলবোর্ন কেন্দ্রে আটক ছিলেন এবং তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে, তার বিরুদ্ধে পুলিশকে আক্রমণ, পেছন থেকে ধাওয়া, ভয় দেখানো, নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ লঙ্ঘন এবং শিশু-সম্পর্কিত যৌন অপরাধসহ গুরুতর অভিযোগ ছিল।
সিডনির ভিলাউডে আটক ৩০ বছর বয়সী হরপ্রীত সিং সিধুকে অসহযোগী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মেথামফেটামিন রাখা, জালিয়াতি, চুরি, অনধিকার প্রবেশ, জামিনের শর্ত লঙ্ঘন এবং পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
সিডনির ভিলাউড থেকে আটক করা হয় ২৭ বছর বয়সী কানওয়ালজিৎ সিংককে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, মাদক রাখা, ২,০০০ ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য চুরি, যানবাহন চুরি, প্রকাশ্যে ছুরি বহন এবং হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা।
সিডনির ভিলাউড থেকে আটক করা হয় ৪৫ বছর বয়সী শ্রুতি শর্মাকে। অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক অসহযোগিতার কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
সিডনির ভিলাউডে আটক রাখা হয় ৩১ বছর বয়সী আবদুল্লাহ সালেহ বাহাতাবকে। তার বিরুদ্ধে শারীরিক ক্ষতি করার হুমকি, ধাওয়া এবং ভয় দেখানোর মতো অভিযোগ ছিল।
কর্মকর্তারা বলেছেন, এই নির্বাসনটি সেইসব বিদেশি নাগরিকদের প্রতি অস্ট্রেলিয়ার কঠোর মনোভাবের প্রতিফলন। যারা ভিসার নিয়ম লঙ্ঘন করে বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

Miah
১ মাস আগেIndians are rool of shit and they like 5o sgit everywhere. Reason why they do not like to spend money on shit house. Aussie therefore removed these shit birds.