রাজধানীর অপরাধজগৎ: শীর্ষ সন্ত্রাসীরা মরিয়া আধিপত্য বিস্তারে

সহযোগীদের খবর

রাজধানীর অপরাধজগৎ: শীর্ষ সন্ত্রাসীরা মরিয়া আধিপত্য বিস্তারে

ফন্ট সাইজ:

আজকের পত্রিকা

‘রাজধানীর অপরাধজগৎ: শীর্ষ সন্ত্রাসীরা মরিয়া আধিপত্য বিস্তারে’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজধানী ঢাকার অপরাধজগতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে ‘লড়াই’ আবারও প্রকাশ্যে এল হাজারীবাগের শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। এই হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে অপর দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর। তাঁদের একজন তাঁরই ঘনিষ্ঠজন। কয়েক মাস আগে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈদ মামুন হত্যার নেপথ্যেও ছিল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।
পুলিশের সূত্র বলেছে, দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদপুরের ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল এবং হাজারীবাগের সানজিদুল ইসলাম ইমনের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছিলেন একটি রাজনৈতিক দলের মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডির মধ্যম সারির কয়েকজন নেতা ও এক আইনজীবী। তবে তা সফল হয়নি।
এদিকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এই খুনোখুনিতে চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে। তবে পুলিশ বলছে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরপর দীর্ঘ দিন কারাগারে থাকা সাত শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে মুক্তি পান। গণ-অভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে। খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, দখল ও সহিংসতা বেড়ে যায়। এ সুযোগে শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও অপরাধজগতে নিজেদের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় তৎপর হয়ে ওঠেন। তাঁদের তৎপরতাও আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে ভূমিকা রাখে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকে মানুষ।
গণ-অভ্যুত্থানের পরপর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা হলেন ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, সানজিদুল ইসলাম ইমন, মিরপুরের আব্বাস আলী, তেজগাঁওয়ের শেখ মোহাম্মদ আসলাম ওরফে সুইডেন আসলাম, হাজারীবাগের খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন, খোরশেদ আলম ওরফে ফ্রিডম রাসু ও তারিক সাঈদ মামুন। ফ্রিডম রাসু পরে আবার গ্রেপ্তার হন। অবশ্য বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মগবাজারের শীর্ষ সন্ত্রাসী ত্রিমাতি সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে। তাঁরা কারাগারে আছেন।

পুলিশের সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা মুক্তি পাওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এ ক্ষেত্রে বেশি নাম আসে পিচ্চি হেলাল ও ইমনের।
২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধে সাদিক খান আড়তের সামনে নাসির ও মুন্না নামের দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পিচ্চি হেলালসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়। ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি রাতে নিউ এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার বিপণিবিতানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে ব্যবসায়ী এহতেশামুল হককে কোপানোর ঘটনায় নাম আসে ইমন ও পিচ্চি হেলালের। দুই পক্ষ ঘটনার জন্য পরস্পরকে দায়ী করে। এই দুজনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর পুরান ঢাকায় আদালতের কাছে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈদ মামুনকে। এর আগে ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে তেজগাঁওয়ে বিজি প্রেসের সামনে মামুনকে হত্যার চেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা। তবে সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে নিহত হন সেখান দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়া আইনজীবী ভুবন চন্দ্র শীল। ওই আইনজীবী ও মামুন হত্যার সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের অনুসারীদের সংশ্লিষ্টতার কথা জানান গোয়েন্দারা। তাঁরা বলছেন, ইমনের নির্দেশেই মামুনকে হত্যা করা হয়। শোনা যায়, ইমন বিদেশে অবস্থান করছেন।

পুলিশ বলছে, নিউমার্কেট এলাকায় গত ২৮ এপ্রিল টিটন হত্যার নেপথ্যে বছিলার কোরবানির পশুর হাটের ইজারা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ। নিহত টিটনের ভাই খন্দকার সাইদ আক্তার রিপন নিউমার্কেট থানায় করা হত্যা মামলার এজাহারেও ওই হাটের ইজারা নিয়ে পিচ্চি হেলাল, বাদল ওরফে কিলার বাদল, শাজাহান, রনি ওরফে ভাঙারি রনির সঙ্গে টিটনের ঝামেলার কথা উল্লেখ করেছেন। এজাহারে অজ্ঞাতনামা আট-নয়জনকে আসামি করলেও সন্দেহভাজন হিসেবে এই চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি।

অবশ্য পিচ্চি হেলাল গণমাধ্যমে এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, টিটন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। যে গরুর হাটের ইজারার কথা বলা হয়েছে, সেখানে টিটন শিডিউল কিনেছিলেন কি না, তাও তিনি জানেন না। নিহত টিটনের ভাই কোনো চাপে পড়ে তাঁর নাম বলছেন। টিটনের মোবাইলের ফরেনসিক পরীক্ষা করলেই সব বের হয়ে যাবে। পুলিশ ঘটনাটি সঠিকভাবে তদন্ত করলে আসল রহস্য বের হবে।

পিচ্চি হেলাল তাঁর প্রতিপক্ষ ইমনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, পুরো মিরপুর থেকে মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও পুরান ঢাকা পর্যন্ত ইমনের সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। তারাই সব করছে। তাঁর ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে।
অবশ্য নিহত টিটনের ভাই বলেছেন, টিটনের সঙ্গে ইমনের সম্পর্ক ভালো ছিল। তাঁদের ছোট বোনের স্বামী ইমন।
টিটন হত্যার ঘটনায় পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশ দাবি করেছে, তাঁরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছেন। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন আর্থিক সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে।

সূত্র জানায়, গত শতকের নব্বইয়ের দশকে ইমন, টিটন ও পিচ্চি হেলাল সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ছোট ভাই তোফায়েল আহমেদ জোসেফের সঙ্গে ছিলেন। পরে আলাদা হয়ে ইমন-টিটন একটি গ্রুপ এবং পিচ্চি হেলাল আরেকটি গ্রুপ তৈরি করেন। তখন থেকে তাঁরা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট টিটন কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কিছুটা আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি হাজারীবাগ, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন। এর মধ্যে কিছু এলাকায় ইমনের ও কিছু এলাকায় পিচ্চি হেলালের আধিপত্য রয়েছে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে টিটনের সঙ্গে পিচ্চি হেলাল গ্রুপের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সর্বশেষ বছিলার পশুর হাটের ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়।

২০০১ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন বিএনপি সরকার যে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, তাঁদের মধ্যে দুই নম্বরে ছিল নিহত টিটনের নাম।
একটি সূত্র জানায়, ইমন ও পিচ্চি হেলালের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একের পর এক সংঘাতের ঘটনায় তাঁদের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন একটি রাজনৈতিক দলের ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরের মধ্যম সারির কয়েকজন নেতা। ওই নেতারা তাঁদের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। তবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। একজন আইনজীবীও সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন। সেই উদ্যোগও ভেস্তে যায়। পিচ্চি হেলাল মোহাম্মদপুরের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।

জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে মামুন ও টিটন খুন হয়েছেন। শোনা যায়, ইমনের মতো সুইডেন আসলামও বিদেশে অবস্থান করছেন। তবে সহযোগীদের দিয়ে তাঁরা নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছেন। মিরপুরের আব্বাস সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।

আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পেয়ে ২০১৮ সালের মে মাসে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বিদেশে চলে গেছেন। তবে মোহাম্মদপুরে তাঁর আধিপত্য রয়েছে।
রাজধানীতে অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত ও হত্যাকাণ্ডে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত রাজধানীতে ৬১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২১টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৬টি এবং মার্চে ২৪টি। এপ্রিলের প্রথম ২৮ দিনেই অন্তত ১৫টি খুন হয়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে ৮৫৪টি খুন হয়েছে।
অবশ্য পুলিশ বলেছে, ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম বলেন, সব হত্যা মামলা পুলিশ তদন্ত করছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কেউ পার পাবে না।

প্রথম আলো

‘পরিকল্পনার শুরু থেকেই গলদ’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় এক দশক ধরে চলছে বড় বড় প্রকল্প। খাল খনন, খাল সম্প্রসারণ, রেগুলেটর নির্মাণ, সড়ক, বাঁধ—নানা নামে তিন সরকারি সংস্থার চার প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে খরচ হয়ে গেছে ১০ হাজার কোটি টাকা। লক্ষ্য ছিল, বর্ষা এলেই ডুবে যাওয়া শহরকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্ত করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই আবার ডুবে গেছে চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

গত মঙ্গলবার দুপুরের পর কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে প্রবর্তক, চকবাজার, আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, জিইসি, বহদ্দারহাট, হালিশহর, নিউমার্কেট, তিন পুলের মাথাসহ অন্তত ২০টি এলাকা পানির নিচে চলে যায়। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান, আবার কোথাও বুকপানি জমে। অনেক এলাকায় পানি নামতে লাগে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা। পরদিন বুধবারও প্রবর্তক, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশসহ কয়েকটি এলাকায় একই দুর্ভোগ দেখা যায়।
প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় ব্যয়, এত বছর ধরে কাজ, এত সভা, এত সিদ্ধান্ত—তারপরও কেন চট্টগ্রাম নগর বারবার ডুবছে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার শুরু প্রকল্পের পরিকল্পনাতেই। জলাবদ্ধতার মতো জটিল সংকট সমাধানে যে ধরনের বিস্তৃত মাঠ সমীক্ষা, পানিপ্রবাহ বিশ্লেষণ, জোয়ার-ভাটা বিবেচনা, খাল-নালা-জলাধারের সমন্বিত মূল্যায়ন দরকার ছিল, তা যথাযথভাবে করা হয়নি। নগরের সব খালকে প্রকল্পের আওতায় আনা হয়নি। ১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রস্তাবও বাদ পড়েছে। ফলে প্রকল্প যতই এগোক, পুরো নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসছে না।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪ প্রকল্পে মোট ব্যয় ১৪,২৫৭ কোটি টাকা। খরচ হয়েছে ১০,৪০৮ কোটি টাকা। প্রকল্পগুলো নেওয়া হয় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। শুরু থেকেই প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের নানা আপত্তি ছিল। মাঠ সমীক্ষার ঘাটতি, খাল অন্তর্ভুক্তির সীমাবদ্ধতা ও সমন্বয়ের অভাব নিয়ে সতর্ক করেছিলেন তাঁরা। তবে সেই সময় সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এসব পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। যে কারণে এখনো নগরবাসী দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

গত এক দশকে আওয়ামী লীগ আমলে মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সেবা সংস্থার সমন্বয়ে বড় আকারে অন্তত ৫০টি সভা হয়েছে। নেওয়া হয়েছে দুই শতাধিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু সিদ্ধান্তগুলোর বড় অংশই কাগজে সীমাবদ্ধ থেকেছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারও বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে একাধিক সভা করেছে। উপদেষ্টারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তবু মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন খুব একটা আসেনি। এখন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই বিষয়টি জাতীয় সংসদে আলোচনায় উঠেছে।

গত বুধবার চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান পয়েন্ট অব অর্ডারে জলাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন জলাবদ্ধতা; মানুষ কার্যত পানিতে ভাসছে। তাঁর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, যত দ্রুত সম্ভব এ সমস্যা থেকে মানুষকে মুক্ত করতে সরকার কাজ করছে।

বড় প্রকল্প, অসম্পূর্ণ পাননিষ্কাশন

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমানে চারটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তিনটি সরকারি সংস্থা। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) দুটি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একটি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। গত মার্চ পর্যন্ত এসব প্রকল্পে খরচ হয়েছে ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। কিন্তু কোনো প্রকল্পই এখনো শতভাগ শেষ হয়নি।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প সিডিএর ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’। ২০১৭ সালে অনুমোদিত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। কাগজে-কলমে প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশ। তারপরও নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কেন বারবার বুকসমান পানিতে ডুবছে—এ প্রশ্ন তুলছেন নগরবাসীরা।

সিডিএর তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পে ৩৬টি খাল নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি খালগুলোর বেশির ভাগই শেষ পর্যায়ে। তবে হিজড়া খাল ও জামালখান খালের কাজ এখনো চলমান। এসব খালে কাজের জন্য অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টির সময় ওই বাঁধের কারণে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় বলে সিডিএর কর্মকর্তারাই স্বীকার করছেন।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘পেশাদার পুলিশবাহিনী গড়া অনিশ্চিত: রাজনীতির নিয়ন্ত্রণই শেষ কথা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের ‘নাটাই’ এখনো রাজনীতিকদের হাতে-চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর এমন মন্তব্য অনেকে করতে চান না। বেশির ভাগ মানুষ বিশ্বাস করতে চান-সত্যিই এবার পেশাদার পুলিশবাহিনীর দেখা পাবে জনগণ। কিন্তু বাস্তবতা হলো-পেশাদার পুলিশবাহিনী গড়ে তোলা এখনো অনিশ্চিত গন্তব্যের পথেই হাঁটছে। বর্তমান সরকারের মাত্র আড়াই মাসে এখনই এমন মন্তব্য করার সময় আসেনি বলা হলেও পূর্বাভাস ভালো মনে হচ্ছে না।

সারা দেশে পুলিশের মধ্যে একধরনের নিষ্ক্রিয়তা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যুগান্তরের কাছে এমন মন্তব্য করেন কয়েকজন বিশ্লেষক। তারা বলেন, আমাদের দেশে ঐতিহাসিকভাবে পুলিশকে নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার করে থাকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল। আবার পুলিশের মধ্যেও একশ্রেণির দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তারা রাজনৈতিক পরিচয়ের আশ্রয় নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন।

জুলাইয়ের বর্ষা বিপ্লবের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল-এমন পুলিশ তারা আর দেখতে চান না। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নানা ব্যর্থতা এবং একধরনের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে পুলিশ ওই অর্থে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ওপর। যে কারণে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ২০ মাসে চাঞ্চল্যকর বহু হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিশাল জয় নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনাসহ পুলিশবাহিনীর মেরুদণ্ড আরও সোজা করতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো-পুলিশবাহিনীতে ফের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পুলিশের পদোন্নতি ও পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলছেন, পুলিশের কাউকে চেইন অব কমান্ড ভাঙতে দেওয়া হবে না।
তবে অভিযোগ উঠেছে, ইতোমধ্যে কর্মকর্তাদের কেউ কেউ দলীয় পরিচয় জাহির করে বিশেষ সুবিধা বাগিয়ে নিতে তৎপর। নীরবে একধরনের দলবাজি চলছে পুলিশে। এমনকি বহুল আলোচিত ‘ডিবি হারুন’ কিংবা বেনজীরের মতো ক্ষমতার ছড়ি ঘোরনোর খায়েশ ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মধ্যে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেশাদারির অভাবে অভ্যুত্থানের দীর্ঘ সময় পরও সেভাবে কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না পুলিশবাহিনী। বরং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে প্রকাশ্যে নানা ধরনের অপরাধ ঘটিয়ে দুষ্কৃতকারীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাচ্ছে। থানায় জানালেও যথাসময়ে আইনগত সহায়তা মিলছে না। এছাড়া অস্ত্র, মাদক উদ্ধার এবং তালিকাভুক্ত দাগি অপরাধীদের গ্রেফতারে সেভাবে পুলিশি উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

এত বড় রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের পরও পুলিশকে সম্পূর্ণ পেশাদার বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলা যাচ্ছে না কেন-এমন প্রশ্ন করা হলে পুলিশ সংস্কার কমিশনের অন্যতম সদস্য এবং সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি গোলাম রাসূল বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি। এক্ষেত্রে ব্যক্তিবিশেষের স্বেচ্ছা বিচ্যুতিও কম দায়ী নয়। তবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দলীয় পরিচয় নিয়ে সামনে আসা কর্মকর্তাদের তেমন একটা প্রাধান্য দেন না বলে শুনেছি। এটা আমাদের আশান্বিত করে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন আরও কিছুদিন টিকিয়ে রাখার পক্ষে আমরা মতামত দিয়েছিলাম। এতে সরকার এবং পুলিশ সদর দপ্তরের মধ্যে একটি মনিটরিং ব্যবস্থা চালু থাকত। কিন্তু সেটা হয়নি। তবে সরকার যদি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করে, সেক্ষেত্রে পুলিশবাহিনীতে কিছুটা হলেও সংস্কার হতে পারে। এদিকে কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বলছেন, বর্তমানে পুলিশবাহিনীর এমন দুরবস্থার পেছনে একাধিক বড় কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে পুলিশ হত্যার বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তা। পুলিশ মনে করে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব পুলিশ সদস্য হতাহতের শিকার হয়েছেন, তার বিচার হওয়া উচিত। যেভাবে বিচার হচ্ছে পুলিশের গুলিতে হতাহতের।

তবে পুলিশ হত্যার বিচার নিয়ে খোদ বাহিনীর ভেতরেই দ্বিমত রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকে বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশ নিছক আত্মরক্ষায় গুলি চালিয়েছে-বিষয়টি এমন নয়। বরং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়া লাখো মানুষের বিরুদ্ধে গিয়ে সে সময় পুলিশ নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বুকে গুলি চালাতে এতটুকু দ্বিধা করেনি। তাই এক্ষেত্রে শুধু জানমাল এবং আত্মরক্ষার অজুহাত দিয়ে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

রাজনৈতিক ব্যবহার : সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুলিশবাহিনী কার্যত নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে। পরে যাদের নেতৃত্বের আসনে বসানো হয় তাদের ক্ষেত্রে পেশাদারত্বের বদলে মূলত দলীয় আনুগত্যকে দেওয়া ছিল মুখ্য। ফলে আগস্টের পর তারা উচ্চমানের পেশাদারত্ব নিয়ে বাহিনীকে সেভাবে নেতৃত্ব দিতে পারেননি। এমনকি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ সবাইকে হতাশ ও ব্যথিত করে।

কালের কণ্ঠ

দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘কঠিন শর্তের ঋণে সরকার’। খবরে বলা হয়, সরকারের নিজের আয় কম। রাজস্ব আয়ে ঘাটতি ছাড়িয়েছে লাখ কোটি টাকা। অথচ খরচ থেমে নেই। চলতি বাজেট বাস্তবায়নের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণ, জ্বালানি তেলে বাড়তি খরচসহ নানা কারণে কুলিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার।
এ ছাড়া বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক স্থবিরতার বোঝাও ঘাড়ে পড়েছে। ফলে সব দিক সামাল দিতে সরকারকে ধারকর্জ করতে হচ্ছে। তহবিল সংকট মোকাবেলায় দেশের ভেতর থেকে নেওয়া ঋণের বাইরেও কঠিন শর্তে, উচ্চ সুদে বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার। সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে মোট ১.৯ বিলিয়ন ডলারের পাঁচটি ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

যার মধ্যে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলারই ‘নন-কনসেশনাল’ বা অনমনীয় ঋণ। যেসব ঋণের সুদের হার বেশি, গ্রেস পিরিয়ড কম এবং শর্ত তুলনামূলক কঠোর। এতে স্বল্প মেয়াদে বাজেট ঘাটতি সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত মঙ্গলবার শেরেবাংলানগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত নন-কনসেশনাল ঋণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভায় এসব ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদিত ঋণের বড় অংশ প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা হিসেবে ব্যবহার করা হবে। মূলত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ এবং রাজস্ব ঘাটতির প্রেক্ষাপটে এই তহবিল তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেবে ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সরকারের জন্য গলার কাঁটা হতে পারে।

এই বাজেট সহায়তা প্যাকেজে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার। এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি) থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার।

তবে এসব ঋণের সুদের হার ৩ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে, যা প্রচলিত কনসেশনাল ঋণের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এডিবির ‘স্ট্রেংদেনিং ইকোনমিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স’ কর্মসূচির আওতায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার অনমনীয় ঋণ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। এই অংশে সুদের হার প্রায় ৪.১৩ শতাংশ এবং গ্রান্ট এলিমেন্ট মাত্র ৬.৬১ শতাংশ, যা এটিকে ব্যয়বহুল ঋণ হিসেবে চিহ্নিত করে। একইভাবে এআইআইবির ঋণে সুদের হার প্রায় ৫.০৮ শতাংশ এবং গ্রান্ট এলিমেন্ট ঋণাত্মক, যা ঋণটিকে আরো কঠিন করে তুলেছে। জাইকার ঋণে সুদের হার তুলনামূলক কম হলেও সেটিও পুরোপুরি স্বল্পসুদী নয়।
বাজেট সহায়তার পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট করিডর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এডিবির আরো ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। প্রায় ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পে মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা এবং সার্ভিস লেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখানেও ঋণের কার্যকর সুদের হার ৪ শতাংশের বেশি, যা ভবিষ্যতের দায় বাড়াবে।
এমন প্রেক্ষাপটে সরকার নীতিগতভাবে কিছু সীমা নির্ধারণ করেছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনমনীয় বৈদেশিক ঋণের বার্ষিক পরিশোধ ব্যয় রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ বা সরকারি রাজস্বের ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি মোট অনমনীয় ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১০ শতাংশের নিচে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কেবল যেখানে কনসেশনাল ঋণ পাওয়া সম্ভব নয়, সেখানেই এ ধরনের ঋণ নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সমকাল

জনপ্রিয় নয়, আমাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে’-এটি দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রিত্ব বা সরকারপ্রধানের চেয়ার দূর থেকে দেখতে খুব আরামদায়ক মনে হলেও এটি আরামের নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নিজের আসনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দেখলে মনে হয় এই চেয়ারে বসতে আরাম। কিন্তু এই চেয়ারটাতে বসলে মনে হয়, প্রতি মুহূর্তে আগুনের তাপ আসছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই চেয়ার আমাকে বলে, আমি সব সময় পপুলার (জনপ্রিয়) কথা বলতে পারি না। এই চেয়ার বলে, জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নয়, আমাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় সরকারি দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বিরোধী দলের অনেক সদস্যও টেবিল চাপড়ান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে সংসদ বা জনসভায় অনেক জনপ্রিয় কথা বলে হাততালি কুড়ানোর সুযোগ থাকলেও দায়িত্বের চেয়ার তাঁকে সেই অনুমতি দেয় না। জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের পেছনে ছুটলে সাময়িক বাহবা মিললেও দীর্ঘ মেয়াদে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে সংসদ নেতা বলেন, ডেপুটি স্পিকার পদটি আপনাদের জন্য দেওয়ার প্রস্তাব এখনও উন্মুক্ত রয়েছে। রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে মানুষের ক্ষুধার অন্ন ও অসুস্থ শিশুর চিকিৎসার মতো বাস্তব সমস্যার সমাধানে সরকারি ও বিরোধী দলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।

অতীতের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ১৭৩ দিনের হরতালের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই ক্ষতির মাশুল আজও আমাদের টানতে হচ্ছে। স্থিতিশীল সরকার ও সংসদ ছাড়া সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।
সংসদ নেতা বলেন, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক। জনগণের প্রতিটি সমস্যা লাঘব করা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা এই সরকারের প্রথম ও প্রধান কাজ।
বিরোধী দলের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, 'আপনারা ব্যর্থ হওয়া মানেই আমি ব্যর্থ হওয়া, আর আমাদের কেউ একজন ব্যর্থ হলে পুরো বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে।

ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘পাঁচ বছরে ইউরোপে ২০ লাখ জনশক্তি রপ্তানির টার্গেট’। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির প্রধান ক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য। দেশের মোট প্রবাসী কর্মীর ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশই কর্মরত মধ্যপ্রাচ্যে। এই অঞ্চলে কয়েক বছর পরপরই যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। সবশেষ দুই দফায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্য-নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাজার খোঁজার তাগিদে অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল অঞ্চল ইউরোপের শ্রমবাজারে নতুন এবং দক্ষ কর্মী পাঠানোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দক্ষ কর্মীর চাহিদা তৈরি হওয়ায়, সরকার সেখানে নিরাপদ ও বৈধ পথে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। সরকার মনে করছে—সঠিক পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন এবং চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে অন্তত ২০ লাখ জনশক্তি পাঠানো সম্ভব। নতুন বাজার খোঁজার এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন— নতুন দেশগুলো থেকে সাড়া পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট অঞ্চলের শ্রমবাজারের ওপর চাপ কমবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ ১৬ হাজার ৩৯৯ জন অভিবাসীর মধ্যে প্রায় ৮২ দশমিক ৪ শতাংশ (৯ লাখ ১৯ হাজার ৯৮১ জন) গেছেন মধ্যপ্রাচ্যে বা গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) দেশগুলোতে। এর মধ্যে সৌদি আরব একাই ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কর্মীর গন্তব্য। মোট রেমিট্যান্সেরও ৬০ শতাংশের বেশি আসে এই অঞ্চল থেকে, যা শ্রমবাজারের একমুখী নির্ভরতার চিত্র তুলে ধরে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি এড়াতে ইউরোপের শ্রমবাজারকে একটি বড় বিকল্প হিসেবে দেখছে সরকার। এ লক্ষ্যে ইউরোপের অন্তত এক ডজন দেশে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে সেসব দেশে বাংলাদেশিকর্মী পাঠানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে ইতালি, ফ্রান্স, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল, রাশিয়া, মাল্টা, স্পেন, অস্ট্রিয়া, আলবেনিয়ার মতো দেশগুলোতে ব্যাপক শ্রমবাজারের চাহিদা তৈরি হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইউরোপের চাহিদা অনুযায়ী অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মী পাঠানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জীবন বিপন্ন করে অবৈধ পথে ইউরোপে না গিয়ে সরকারি ও বৈধ মাধ্যমে দক্ষ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মসংস্থান অনুবিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, শ্রমবাজার সমপ্রসারণের লক্ষ্যে বিগত কয়েক মাসে আমরা প্রায় ১৭ দেশে এমওইউ পাঠিয়েছি। বিশেষ করে ইউরোপের প্রায় এক ডজন দেশে পাঠানো হয়েছে। এই কর্মকর্তা বলেন, ‌‌সব দেশ থেকেই আমরা মোটামুটি পজিটিভ রেসপন্স আশা করছি। অনেক দেশের সঙ্গে এমওইউ আছে, তবে ডিমান্ড লেটার পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক তত্পরতা চালাচ্ছি। হাইকমিশনের মাধ্যমে এই কাজগুলো করা হয়। গত বছর ইতালির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক হয়েছে। একটা বিষয় হলো—এসব দেশ মধ্যপ্রাচ্যের মতো নয়, যে চাইলে ডিমান্ড লেটার দেবে। অনেক দেশ অবৈধ শ্রমিকদের ফেরত আনার শর্তে ডিমান্ড দিতে চায়। আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

নয়া দিগন্ত

‘হাওরপাড়ে কৃষকের হাহাকার’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরাঞ্চলে আবারো প্রকৃতির নির্মম আঘাত নেমে এসেছে। টানা অতিবৃষ্টি, বজ্রঝড় এবং উজানের পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান। বছরের একমাত্র ফসল হারানোর আশঙ্কায় কৃষকদের চোখে এখন শুধু হতাশাÑ হাওরজুড়ে যেন এক নিঃশব্দ আর্তনাদ।

হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবিকা প্রায় পুরোপুরি নির্ভর করে একমাত্র বোরো ফসলের ওপর। সারা বছর ঋণ, শ্রম ও আশা নিয়ে চাষ করা সেই ধান এখন চোখের সামনেই পানির নিচে হারিয়ে যাচ্ছে। ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে এসে হাওরের পানি দ্রুত বাড়িয়ে দিয়েছে। এর সাথে স্থানীয় টানা বর্ষণ মিলিয়ে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ধানতে তলিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে।

উৎপাদনের ভাণ্ডার এখন বিপর্যস্ত: কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে চলতি মৌসুমে প্রায় দুই লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার ল্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। তবে মৌসুমের শেষভাগে এসে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল তিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি হিসাবে ৫৬ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে বলা হলেও কৃষকদের দাবি, বাস্তবে তা ৩০-৪০ শতাংশের বেশি নয়। এখনো বিশাল অংশের ধান মাঠেই পড়ে আছে, যার অনেকটাই ইতোমধ্যে পানির নিচে।

জলাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ জমিতে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বুকসমান পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটতে হচ্ছে কৃষকদের।
শ্রমিক সঙ্কট পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক কৃষক দ্বিগুণ খরচে ধান কাটছেন, আবার কেউ কেউ খরচের চাপ সামলাতে না পেরে ধান কাটাই বন্ধ রেখেছেন।

খলায় পচছে কাটা ধান, বাঁধ ভেঙে নতুন বিপর্যয় : যেসব ধান কাটা হয়েছে, সেগুলোও নিরাপদ নয়। টানা বৃষ্টির কারণে রোদ না থাকায় খলায় রাখা ধান শুকানো যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ধানে অঙ্কুরোদগম শুরু হয়েছে। ফলে বাজারমূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জামালগঞ্জের কৃষক তোফায়েল আলম চৌধুরী বলেন, ‘সারা বছর কষ্ট করেও এখনো এক মুঠো ধান ঘরে তুলতে পারিনি। সংসার চালাব কিভাবে বুঝতে পারছি না।’
মধ্যনগরের ইকরাছই হাওরে মনাই নদীর পানি ঢুকে প্রায় ১১৪ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে নির্মিত একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, বাঁধটি সঠিকভাবে রণাবেণ করা হয়নি। ফলে প্রবল পানির চাপে তা ভেঙে পড়ে এবং কয়েকটি গ্রামের হাজারো কৃষক তিগ্রস্ত হন।

ঝুঁকিতে ফসল রা বাঁধ, অবকাঠামোগত দুর্বলতা

টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় ফসল রা বাঁধ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উজান থেকে আরো ঢল নামলে অনেক বাঁধ টিকবে কি নাÑ তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জামালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পে প্রায় ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করেছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, অনেক বাঁধ অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এবং যথাসময়ে সংস্কার করা হয়নি। পাশাপাশি নদী-নালা খননের অভাব জলাবদ্ধতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
কিশোরগঞ্জেও একই চিত্র
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিকলী, মিঠামইনসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক লাখ ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক ধান কাটা হলেও য়তির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘১৪ উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করল বিমান’। খবরে বলা হয়, জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১০টি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও চারটি ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ কিনছে।
গতকাল মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের এ উড়োজাহাজগুলো কিনতে চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিঘি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিপত্রে সই করেন।
রাজধানীর একটি হোটেলে এ চুক্তি সই হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম। বিশেষ সম্মানিত অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বিমানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তিমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)।

নতুন উড়োজাহাজগুলো কবে নাগাদ বিমানের বহরে যুক্ত হতে শুরু করবে এ বিষয়ে গতকালের অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট করে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। অবশ্য এর আগে বিমানের কর্মকর্তারা বণিক বার্তাকে জানিয়েছিলেন, ‌বোয়িংয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী ২০৩১ সালের নভেম্বরে উড়োজাহাজগুলোর প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌঁছবে এবং ২০৩৫ সালের অক্টোবরে সর্বশেষ উড়োজাহাজটি বিমানকে বুঝিয়ে দেয়া হবে।

বিমানের জন্য উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে গত তিন বছর বোয়িং ও ইউরোপভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা সংস্থা এয়ারবাসের মধ্যে ব্যাপক প্রতিযোগিতা হয়। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তন এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ দিকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) চুক্তির ফলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। শুল্ক চুক্তিতে বিমানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত উড়োজাহাজ, এর যন্ত্রাংশ ও সেবা ক্রয় বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ ছিল। এর অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করল বিমান।

ক্রয় চুক্তি সম্পন্ন হওয়া ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের মধ্যে আটটি ৭৮৭-১০ ও দুটি ৭৮৭-৯ মডেলের। গতকালের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিঘি বলেন, ‘‌এ চুক্তির মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ বিশ্বের অল্প কয়েকটি উড়োজাহাজ সংস্থার একটি হতে যাচ্ছে যারা ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের পুরো ফ্যামিলি (৭৮৭-৮, ৭৮৭-৯ ও ৭৮৭-১০) পরিচালনা করবে।’ অন্যদিকে চুক্তির বোয়িং ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো ৭৩৭-৮ মডেলের।

বিমানের ১৪ উড়োজাহাজ কেনায় যুক্তরাষ্ট্রের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অর্থায়ন করছে বলে গতকাল অনুষ্ঠানে জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অর্থায়নের শর্তগুলো এমনভাবে সাজিয়েছে, যাতে বিমানের ওপর একবারে বড় কোনো আর্থিক চাপ না পড়ে এবং উড়োজাহাজ হাতে পাওয়ার সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে টাকা পরিশোধ করা যায়।

অনুষ্ঠানের দেয়া বক্তব্যে ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার শুল্ক চুক্তির প্রসঙ্গেরও অবতারণা করেন। তিনি বলেন, এ চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড বা এআরটির (পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি) সুফল বা ‘‌উইন উইন’ প্রকৃতিরও প্রতিফলন ঘটায়। এই এআরটি আমাদের একটি আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ দেয়, যার অনেকগুলো ধারা দুই দেশের জন্যই সুবিধাজনক।’

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘হাওরে কৃষকের সর্বনাশ’। খবরে বলা হয়, উৎসবের আবহে শুরু হয়েছিল হাওরের ধান কাটা। তবে উৎসব মিলিয়ে যেতে সময় নেয়নি। এখন হাওরে আনন্দ নেই, আছে শুধু কৃষকের আর্তনাদ ও চোখের নোনাজল। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল আর বন্যায় তলিয়ে গেছে শত শত কৃষকের কষ্টের ফসল। হাওরজুড়ে এখন শুধুই হাহাকার। এ অবস্থায় তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সংকট। একদিকে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আবার যারা কোনোরকমে ধান কাটছেন, তারা বাজারে দাম পাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাবে প্রতি মণ ধানের দাম কমেছে অন্তত ২০০ টাকা।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তিন মাসের সহযোগিতা প্যাকেজ তৈরির কাজ শুরু করেছে সরকার। জানা গেছে, প্রথম মাসে সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে দেওয়া হতে পারে সাড়ে ৭ হাজার টাকার সহযোগিতা।

কৃষি বিভাগ বলছে, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ হাওরভুক্ত ৭টি জেলায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে কাটা হয়েছে অর্ধেক ধান। হাওরভুক্ত জেলাগুলোর ৬টি জেলার অন্তত ১৭ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। তারা বলছেন, ক্ষতি শুধু কৃষকেরই নয়, এটা খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। অতীতের উদাহরণ টেনে তারা বলছেন, ২০১৭ সালে বন্যায় হাওরের প্রায় ২০ লাখ টন ধানের উৎপাদন ক্ষতির মুখে পড়েছিল। ফলে ভোক্তাকে ওই সময় সারা বছর চড়া দামে চাল কিনতে হয়েছে। জানা গেছে, প্রতি বছর বোরো মৌসুমে সোয়া দুই কোটি টন চাল উৎপাদন হয় যা সারা বছরের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখে। এই উৎপাদনের ২০ শতাংশের বেশি আসে হাওর থেকে।

হাওরাঞ্চলের কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যা এবং বজ্রপাতের কারণে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পানির নিচে পাকা ধান থাকলেও তা কাটতে সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা। আর শ্রমিক মিললেও তারা প্রতি কাঠা জমির ধান কাটতে পারিশ্রমিক দাবি করছেন এক থেকে দেড় হাজার টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ধান শুকানোর জায়গার অভাব ও ধানের দাম পড়ে যাওয়া। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতে যেখানে প্রতি মণ ধান ৭শ থেকে ৮শ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেখানে এখন তা নেমে এসেছে ৫ থেকে ৬শ টাকায়।

নেত্রকোনা জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, জেলার ১৩০টির বেশি হাওরের ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। যার মধ্যে এখন ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে। জেলার আটপাড়া উপজেলার বাগরার হাওরের কৃষক সেলিম মিয়া দুই একর জমিতে ধানের আবাদ করেছিলেন। এক একর জমির ধান ঘরে তুললেও বাকি ধান পানির নিচে তলিয়ে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেটুকু কাটছি তারও দাম নাই।’ শ্রমিক না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান কাটছেন জেলার মদন উপজেলার কৃষক শাহজাহান মিয়া। ২৮ শতাংশ জমিতে ধান আবাদ করলেও পুরোটাই এখন পানির নিচে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটুকুই সম্বলসবটাই এখন পানির নিচে।’

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘উজানের ঢলে হঠাৎ পানি বাড়ায় নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান জলমগ্ন হয়েছে। নতুন করে বৃষ্টি না হলে এবং পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করছি।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন