বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, দেশে বন্ধ ও কম ব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাই করতে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার (ফিজিবিলিটি স্টাডি) উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ আকাশপথে সংযোগ জোরদার এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে ভারসাম্য আনার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর, নেভিগেশন সেবা প্রদানকারী স্থাপনা, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ব্যবহৃত ঘাঁটি এবং পুরনো স্বল্প দূরত্বে উড্ডয়ন-অবতরণ (এসটিওএল) সুবিধাসহ মোট ১৭টি বিমানবন্দর রয়েছে। তিনি জানান, তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর- হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ঢাকা), শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (চট্টগ্রাম) এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (সিলেট) আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ধরনের ফ্লাইট পরিচালনা করে। এ ছাড়া সৈয়দপুর, শাহ্ মখদুম (রাজশাহী), যশোর, বরিশাল ও কক্সবাজার বিমানবন্দর শুধু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে।
পুরনো অবকাঠামোর বিষয়ে তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, শমশেরনগর, কুমিল্লা ও পটুয়াখালী-এই ৬টি এসটিওএল বিমানবন্দর বর্তমানে বন্ধ বা কম ব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। তবে, কুমিল্লা বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক ফ্লাইট না থাকলেও এটি বিদেশি উড়োজাহাজের নেভিগেশন সেবা প্রদান করছে। মন্ত্রী আরও জানান, ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর যাত্রীসেবা প্রদান করে না এবং বর্তমানে এটি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পরিচালনা করছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ছোট বিমানবন্দর ও এয়ারস্ট্রিপ উন্নয়নের মাধ্যমে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোকে ধাপে ধাপে আকাশপথে সংযুক্ত করে একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, জনচাহিদার প্রেক্ষিতে স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বন্ধ বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ে ইতিমধ্যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বগুড়া বিমানবন্দর স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে ভারসাম্য আসবে।
মেগা পরিকল্পনা: ২০৪০ সালের মধ্যে ৫.৫৭ কোটি পর্যটক আকর্ষণ ও ২.১৯ কোটি কর্মসংস্থান:
সংসদে জামালপুর-২ আসনের সদস্য সরকারি দলের এ.ই. সুলতান মাহমুদ বাবুর তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছেন, ২০৪০ সালের মধ্যে ৫ কোটি ৫৭ লাখ পর্যটক আকর্ষণ এবং ২ কোটি ১৯ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার একটি পর্যটন মেগা পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, পর্যটন মেগা পরিকল্পনার আওতায় ২০৪০ সালের মধ্যে ৫৫.৭ মিলিয়ন পর্যটক আকর্ষণ এবং ২.১৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, পর্যটন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ, স্বল্প সুদের ঋণ সুবিধা এবং নীতিগত সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার পর্যটন খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৬-২০৪০ মেয়াদি ‘ট্যুরিজম মেগা প্ল্যান’Ñ প্রণয়ন করা হচ্ছে, যেখানে খাতটির জন্য একটি সুস্পষ্ট বিনিয়োগ রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
