সিলেটের বালাগঞ্জে চরম আকারে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন। জেলা শহরগুলোতে লোডশেডিং তুলনামূলক কম হলেও গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকছে না বিদ্যুৎ। এতে একদিকে তীব্র গরম, অপরদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম কষ্টে আছে মানুষ। বিদ্যুৎ-সংশ্লিষ্টদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত টানা সাতদিন বালাগঞ্জে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছেন উপজেলাবাসী। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বলে ইচ্ছা করেই দিনের পর দিন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। সাতদিন বিদ্যুৎহীন থাকায় পুকুর বা নদীর পানি খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বালাগঞ্জে বিগত একমাস ধরে বিদ্যুতের লোডশেডিং শুরু হলে দিনে বা রাতে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে তিন-চার ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে।
বিদ্যুতের এমন বিপর্যয়ে বিগত দিনের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। ধান মাড়াই-ঝাড়াইয়ে কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এই পরিস্থিতির অন্যতম বড় ভুক্তভোগী। এদিকে, এই অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি তীব্র তাপদাহে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ির জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে, মানুষজনকে তীব্র কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকার ফলে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। তীব্র লোডশেডিংয়ে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হাট-বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। করাত কল, ধান, আটাসহ মসলা ভাঙার মিলগুলো বন্ধ রয়েছে। বেশি লোকসানে পড়েছেন বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা।
নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে রক্ষিত ফ্রিজের মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন বালাগঞ্জ সাব জোনাল অফিসের এজিএম আশরাফ হায়দার বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাতদিন উপজেলার একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভব হয়নি। দিনের বেলায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের বিভিন্ন অংশে কাজ করায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সাময়িক বন্ধ থাকে। আর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ায় রাতে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
