সিলেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শততম টি-টোয়েন্টি খেলার মাইলফলক ছুঁলেন নাহিদা আক্তার। বাংলাদেশের দ্বিতীয় নারী ক্রিকেটার হিসেবে শততম ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েন এ বাঁহাতি স্পিনার। তবে এ আনন্দ মিলিয়ে গেছে ব্যর্থতায়।
ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা নারী দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খোয়ানোর পর গতকাল ক্যাচ মিসের মহড়া দিয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২৫ রানে হারে বাংলাদেশ। লঙ্কানদের দেয়া ১৬২ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৩৬ রানে থামে টাইগ্রেসদের ইনিংস।
এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা। একই মাঠে আগামীকাল সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি মাঠে গড়াবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড বাংলাদেশের। ২০২৩ সালে কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবে (এসএসসি) লঙ্কানদের দেয়া ১৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৬ উইকেটে জিতে টাইগ্রেসরা। তিন বছর পর বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে পুরনো সেই রেকর্ড ভাঙার সুযোগ ছিল। সেটা করে দেখাতে পারেনি নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
রান তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু পায় টাইগ্রেসরা। উদ্বোধনী জুটিতে দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস মিলে ৩.৩ ওভারে ৩৯ রান তুলে ফেলেন। কিন্তু এরপরই টাইগ্রেসদের ব্যাটিংয়ে ধস নামে। মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি গোল্ডেন ডাক (০) মেরে সাজঘরে ফেরেন। ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারানো দলকে সোবহানা মোস্তারিও (১৬) পথ দেখাতে পারেননি। এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করেন স্বর্ণা আক্তার।
ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে ৩৯ বলে ৬০ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন তিনি। এ ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৪টি ছক্কার মার। তবে স্বর্ণার লড়াকু ইনিংস কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। শ্রীলঙ্কার পক্ষে মালকি মাদারা ও অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু ২টি করে উইকেট নেন। এর আগে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জ্যোতি।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই হাসিনি পেরেরাকে হারালেও চামারি আতাপাত্তু (৩২) ও ইমেশা দুলানির (৫৫) ব্যাটে বড় সংগ্রহের ভিত পায় লঙ্কানরা। তবে সফরকারীদের বড় সংগ্রহের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রাখেন হার্শিতা সামারাবিক্রমা। মাত্র ৩৫ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। লঙ্কানদের ইনিংস থামে ১৬১ রানে। বাংলাদেশের সুলতানা খাতুন ২৯ রানে ২ উইকেট শিকার করেন। মারুফা আক্তার ও নাহিদা আক্তার পান একটি করে উইকেট।
