কিউইদের বিপক্ষে আরেকটি সিরিজ জয়ের হাতছানি

কিউইদের বিপক্ষে আরেকটি সিরিজ জয়ের হাতছানি

ফন্ট সাইজ:

সাগরিকায় আজ প্রবল বৃষ্টির শঙ্কা। তবে বৃষ্টি বাধা না হলে কিউইদের বিপক্ষে আজ বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাস বদলানোর দারুণ সুযোগ। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত রান তাড়া করে পাওয়া রোমাঞ্চকর জয় স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়েছে। দলের প্রধান লক্ষ্য এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করা। এখন পর্যন্ত দেশে খেলা ২৮টি টি-টোয়েন্টি সিরিজের মধ্যে ১৩টিতে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। তবে কিউইদের বিপক্ষে অতীত পরিসংখ্যান বেশ হতাশাজনক। দেশের মাটিতে তাদের বিপক্ষে খেলা আগের তিনটি সিরিজের মধ্যে মাত্র একটিতে জয়ের দেখা পেয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

তাই এবারের চলমান লড়াইটি দলের জন্য পুরোনো ইতিহাস বদলানোর এক দারুণ সুযোগ। যদিও এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বন্দরনগরীর বৈরী আবহাওয়া। গতকাল থেকেই আকাশে মেঘের আনাগোনা। টানা বৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃষ্টি বাধা থাকলেও দলের তরুণ মিডল অর্ডারের অনবদ্য ফর্ম এবং আগ্রাসী ব্যাটিং স্বাগতিক শিবিরকে বেশ নির্ভার রাখছে।

প্রথম ম্যাচে তানজিদ হাসান তামীম ও সাইফ হাসান দলকে ভালো শুরু এনে দিতে ব্যর্থ হন। তবে তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেনের দুর্দান্ত ব্যাটিং দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলে। বিশেষ করে শামীমের ১৩ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ইনিংসটি ছিল নজরকাড়া। উইকেটরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে হাঁকানো তার একটি ছক্কা সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তুলেছে।

মূলত তাদের পাল্টা আক্রমণের মুখেই নিউজিল্যান্ড দিশেহারা হয়ে পড়ে। টাইগারদের এমন আগ্রাসী ক্রিকেট গত এক বছরে খুব একটা দেখা যায়নি। পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৫৭টি সিরিজ খেলেছে টাইগাররা। সেখানে জয় মিলেছে ২০টিতে এবং ড্র হয়েছে ৮টি সিরিজ। বিদেশের মাটিতে ২৯টি সিরিজের মধ্যে মাত্র ৭টিতে জিতেছে তারা। তবে ঘরের মাটিতে বাংলাদেশের রেকর্ড তুলনামূলক ভালো। সামপ্রতিক সময়ে আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ জিতেছে দলটি। আবার দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার তিক্ত স্মৃতিও আছে।

দলের ব্যাটিং নিয়ে স্বস্তি থাকলেও বোলিং লাইনআপ নিয়ে স্বাগতিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ রয়েছে। প্রথম খেলায় বোলাররা ছিলেন অতিরিক্ত খরুচে। অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক মানসিকতা দেখাতে গিয়ে তারা রান আটকে রাখতে পারেননি। উল্টোদিকে ম্যাচ হারলেও কিউই ব্যাটাররা নিজেদের ছন্দের প্রমাণ রেখেছেন। বিশেষ করে ডেন ক্লিভার এবং কাটেনে ক্লার্কের দুর্দান্ত জোড়া হাফ সেঞ্চুরি স্বাগতিক বোলারদের জন্য কড়া সতর্কবার্তা। টম ল্যাথাম চোটের কারণে প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলতে পারেননি। তিনি সেরে না উঠলে এই ম্যাচেও কিউইদের নেতৃত্ব দেবেন নিক কেলি।

এছাড়া একাদশ সাজাতে গিয়ে বাঁহাতি স্পিনার জেডেন লেনক্সকে সুযোগ দিতে পারে সফরকারীরা। অন্যদিকে বাংলাদেশ তাদের জয়ী অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামার কথা ভাবছে। হারলেও প্রতিপক্ষ বেশ আত্মবিশ্বাসী। প্রথম ম্যাচের পর কিউই ব্যাটার ক্লিভার বলেছিলেন, ‘প্রথম খেলায় আমাদের বেশ কিছু ইতিবাচক দিক ছিল। আমরা জয়ের খুব কাছাকাছি আছি। শেষের দিকে ব্যাটিংয়ে আমাদের সামান্য কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। এছাড়া নিজেদের খেলা নতুন করে আবিষ্কার করার মতো খুব বেশি কিছু করার দরকার নেই।’

ঘরোয়া লীগ খেলা তরুণদের নিয়ে দল গড়া হলেও নিউজিল্যান্ড এই সিরিজে বেশ লড়াকু মনোভাব দেখাচ্ছে। কিউইদের জন্য এখন সিরিজ বাঁচানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে লিটন দাসের দল চাইছে দেশের মাটিতে নিজেদের অতীত পরিসংখ্যান সমৃদ্ধ করতে। আজকের ম্যাচে জয় পেলে লাল-সবুজের ক্রিকেট ইতিহাসে যুক্ত হবে নতুন একটি সাফল্যের পালক।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন