বাংলাদেশে অনলাইনে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার ক্রমবর্ধমান বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিটিজেন’স ফোরাম, বাংলাদেশ (সিএফবি)। সংগঠনটির মতে, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মিথ্যা তথ্যের বিস্তার জাতীয় ঐক্য, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।
সোমবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘ফলস ন্যারেটিভস, প্রোপাগান্ডা অ্যান্ড ডিসইউনিটি: থ্রেটস টু স্ট্যাবিলিটি’- শীর্ষক এক গোল টেবিল আলোচনা সভায় এ উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার এখন উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে এবং তা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইপিজিএডি’র চেয়ারম্যান ড. ইশারফ হোসেন।
আলোচনায় বক্তারা উল্লেখ করেন, দেশের চলমান জ্বালানি সংকট, ছাত্ররাজনীতির বিভিন্ন পর্যায় এবং নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ সূচনা বক্তব্যে বলেন, সমন্বিত অপপ্রচারের কারণে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো ইতিমধ্যেই অস্থির হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভুয়া তথ্যের বিস্তার বন্ধ করা না গেলে দেশ আবারও অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে। তিনি বলেন, শুধু প্রোপাগান্ডাই ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থির ও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক মাহফুজ কবির বলেন, ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো এখন সময়ের দাবি। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে তথ্য যাচাই ও প্রতিবাদ জানাতে যে সময় লাগছে, তা ভুয়া তথ্যের বিস্তারের গতির সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
উদাহরণ হিসেবে তিনি সামপ্রতিক একটি গুজবের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে দাবি করা হয়-বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে অর্থায়ন করতে নতুন নোট ছাপাচ্ছে। তিনি জানান, ওই গুজব খণ্ডন করতে সাতদিন সময় লেগেছিল। যার মধ্যে বহু মানুষ সেটিকে সত্য বলে বিশ্বাস করে ফেলেছে। তার মতে, এ ধরনের বিলম্বের সুযোগে মিথ্যা তথ্য জনমনে গভীর প্রভাব ফেলে। তাই দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান অভিযোগ করে বলেন, আগে যারা গোপনে অপপ্রচার চালাত, তারা এখন প্রকাশ্যে তা করছে। তার দাবি, সংগঠিত ‘বট বাহিনীর’ পেজগুলোর মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী সব পক্ষকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তি পরিহার করে সত্যকে গ্রহণ করার আহ্বান জানান এবং জাতীয় স্বার্থে নীতিগত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
