আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে সারাদেশে ব্যাপক ও সমন্বিত বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদক উদ্ধারে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অপরাধ দমনে সড়ক ও মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং দিন-রাত টহল জোরদার করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে দৃশ্যমান পুলিশ টহল বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওপেন হাউজ ডে কার্যক্রমের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো হয়েছে, যাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।

মন্ত্রী জানান, অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সহায়তা করছে। এছাড়া দেশ-বিদেশে আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, কেস ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) ব্যবহার করে মামলা ও অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা তদন্ত কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে সরকার ব্যাপক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে সামগ্রিক নিরাপত্তা ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে, নিরাপত্তা সেবা আরো উন্নত করতে বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করছে। অধিবেশনে নোয়াখালী-৫ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরের প্রবেশ ও প্রস্থান পথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং পুরো এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহু স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা সেবা আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নজরদারি ব্যবস্থার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং স্ক্যানিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো নিষিদ্ধ বস্তু বিমানবন্দর এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে।
মন্ত্রী জানান, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাগেজ সিস্টেম চালু, ইমিগ্রেশন কাউন্টার বৃদ্ধি, উন্নত স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন, জনবল বৃদ্ধি ও পুনর্বিন্যাস এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যাত্রীদের হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি চালু করা হয়েছে এবং যাত্রীদের সহায়তার জন্য বিমানবন্দরে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে বহুমুখী অভিযান জোরদার, কিশোর গ্যাং ও অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগ:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে বহুমুখী অভিযান জোরদার এবং কিশোর গ্যাং ও অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে মাদকের বিস্তার শুধু ব্যক্তিজীবন নয়, বরং সামগ্রিক সমাজব্যবস্থার জন্যও গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংসদে পটুয়াখালী-২ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. শফিকুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকের প্রভাবে কিশোর গ্যাং, চুরি, ছিনতাই ও রাহাজানির মতো অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং তথ্যভিত্তিক নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। সড়ক ও মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দিন-রাত টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, স্পর্শকাতর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও যাত্রীদের তল্লাশি করা হচ্ছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের কার্যক্রম চালু রয়েছে।
পুলিশের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারও এই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন সভা, সেমিনার, কর্মশালা, উঠান বৈঠক, কমিউনিটি পুলিশিং ও ওপেন হাউজ ডে আয়োজন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিট পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমেও স্থানীয় পর্যায়ে মাদকবিরোধী নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি জানান। মন্ত্রী জানান, এপ্রিল ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে বিজিবি বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করেছে এবং ১ হাজার ৯২২ জনকে আটক করে ১ হাজার ৭৭১টি মামলা দায়ের করেছে। তিনি বলেন, জব্দকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে এক কোটির বেশি ইয়াবা, বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল, গাঁজা, বিদেশি মদ, বিয়ার, ক্রিস্টাল মেথ, কোকেন ও এলএসডি।মন্ত্রী আরও বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করেছে।

প্রতিটি জেলায় মাদকবিরোধী কর্মশালা ও গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের জন্য মানসিক চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ওদিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও কিশোরদের পুনর্বাসনে কাজ করছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে পথশিশুদের আশ্রয়, শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তারা অপরাধমুখী পথ থেকে ফিরে আসতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, মাদক ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়-এর জন্য প্রয়োজন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ।

থানায় মামলা করতে গিয়ে হয়রানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ থানায় মামলা বা জিডি করতে গিয়ে যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই পদক্ষেপ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে। অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ থানায় মামলা বা জিডি করতে গিয়ে যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে।

পরিকল্পনাগুলো হলো- থানাগুলোতে অনলাইন পদ্ধতিতে অভিযোগ দায়েরের সুযোগ সৃষ্টি করে ফৌজদারি বিচার প্রত্যাশীদের আইনের নিরাপত্তা পাওয়ার পথ সুগম করা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অন্যতম লক্ষ্য। দেশের সকল থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষ ও থানা প্রাঙ্গনকে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে থানার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিং এর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে দেশের সকল থানায় অনলাইনে সকল ধরনের সাধারণ ডায়েরির আবেদন গ্রহন করে আইনগত সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ থানায় না গিয়েও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে অনলাইনে সহজে সাধারণ ডায়েরি করতে পারছেন। সাধারণ ডায়েরির অনলাইন সফটওয়্যারে ধর্তব্য অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযোগকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে এসএমএস প্রেরণ করে বিস্তারিত তথ্যসহ থানায় আসার জন্য অনুরোধ করা হয়। যার ভিত্তিতে পরবর্তীতে অভিযোগকারী নিয়মিত মামলা রুজু করতে পারেন।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন