ট্রাম্পের অধীনে ‘স্পোর্টসওয়াশিং’ বিশ্বকাপ নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হুঁশিয়ারি

ট্রাম্পের অধীনে ‘স্পোর্টসওয়াশিং’ বিশ্বকাপ নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হুঁশিয়ারি

ফন্ট সাইজ:

মাঠের লড়াই শুরু হতে বাকি মাত্র ছয় সপ্তাহ। তবে তার আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপের আকাশে ঘনীভূত হয়ে উঠছে রাজনীতির কালো ধোঁয়া। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, আসন্ন এই বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ‘স্পোর্টসওয়াশিং’-এর এক বিশাল মহোৎসব। অভিযোগ উঠেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ফুটবলকে ব্যবহার করে তাদের বিতর্কিত অভিবাসন নীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো নিয়ে গঠিত ‘স্পোর্ট অ্যান্ড রাইটস অ্যালায়েন্স’ (এসআরএ) এবারের আসর নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এইচআরডব্লিউ-এর মিনকি ওয়ার্ডেন ‘স্পোর্টসওয়াশিং’-এর সংজ্ঞায় বলেন, ‘স্পোর্টসওয়াশিং হলো একটি জনপ্রিয় ক্রীড়া ইভেন্টকে ব্যবহার করে ভক্ত ও ইতিবাচক প্রচার আকর্ষণ করা, যা আসলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ঢেকে দেয়ার কাজ করে।’ তিনি দাবি করেন, ডনাল্ড ট্রাম্প খেলাধুলাকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছেন, যাতে তার কঠোর অভিবাসন নীতি আড়াল করা যায়। ওয়ার্ডেন স্পষ্ট হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘আমাদের আজকের বার্তা হলোএই বিশ্বকাপ নিরাপদও নয়, আর খুব একটা মজাদারও হবে না। আমরা যে চ্যালেঞ্জগুলো দেখছি তা নজিরবিহীন।’

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং স্টেডিয়ামের আশেপাশে প্রতিবাদের মুখে মার্কিন পুলিশের কঠোর অবস্থান নিয়ে শঙ্কিত সমর্থক গোষ্ঠীগুলোও। ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’-এর প্রধান মার্টিন এন্ডেম্যান হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘মানুষ আসলে কী আশা করবে তা জানে না। স্টেডিয়ামের ভেতরে বা বাইরে প্রথম প্রতিবাদের পর কী ঘটবে, সে সম্পর্কে আমার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। আমেরিকান পুলিশ ছোটখাটো অপরাধে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তাও অজানা।’

ট্রাম্পের ‘শান্তি পুরষ্কার’ বাতিলের দাবি নরওয়ের ফুটবলপ্রধানের

বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে দেয়া ফিফার শান্তি পুরস্কার নিয়েও কঠোর সমালোচনা শুরু হয়েছে। নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের (এনএফএফ) প্রধান লিজ ক্লাভেনেস এই পুরস্কার বাতিলের দাবি তুলেছেন। তার মতে, কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে শান্তি পুরস্কার দেয়া ফিফার কাজ নয়।

ক্লাভেনেস বলেন, ‘আমরা চাই এই পুরস্কার বিলুপ্ত করা হোক। আমরা মনে করি ফিফার ম্যান্ডেটে এমন পুরস্কার দেয়ার কোনো জায়গা নে। এই কাজের জন্য নোবেল ইনস্টিটিউট আগে থেকেই স্বাধীনভাবে কাজ করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফিফার ফেডারেশন, কনফেডারেশন ও ফিফাকেও এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে হবে, যেখানে রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে নিরপেক্ষ দূরত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্বাধীনভাবে পরিচালনার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা, অভিজ্ঞতা, নির্দিষ্ট মানদণ্ড ও নিরপেক্ষ বিচারক প্যানেল না থাকলে এমন পুরস্কার সাধারণত রাজনৈতিক হয়ে যায়।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন