প্রথম ১০ ওভারে ৭৭ রানে নেই টাইগারদের ৩ উইকেট। এমন ব্যাটিং দেখে ভক্ত-সমর্থকদের যেন হৃদয় ভাঙার পরিস্থিতি। কিন্তু সেখান থেকে দারুণ ব্যাটে দলকে জিতিয়ে সত্যিকার অর্থে হৃদয় জিতে নেন তাওহীদ হৃদয়। তাকে যোগ্য সহায়তা দেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। এ দু’জনের ব্যাটে চড়েই চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে ৬ উইকেটের দুর্দান্ত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
শুরুতে বোলিংয়ে নেমে প্রতিপক্ষকে ১৮২ রানে বেঁধে রাখেন স্বাগতিক বোলাররা। এই সফল রান তাড়া দেশের মাটিতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বোচ্চ। ২৭ বলে ৩ ছক্কা ও ২টি চারের ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয়। তার সঙ্গে দারুণ ক্যামিও উপহার দেন পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেন। শামীমের ১৩ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ঝড়ো ইনিংস জয়ের পথ সহজ করে দেয়। এই চমৎকার জয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ।
১৮৩ রানের বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৪৪ রান আসে। সাইফ ১৬ বলে ১৭ করে দ্রুত ফিরে যান। লিটন তিনে নেমে দলের রানের গতি কিছুটা বাড়ানোর চেষ্টা করলেও ইশ সোধির বলে ২১ রানে ফেরেন। এরপর তানজিদ হাসানও পুরোপুরি খোলসবন্দি হয়ে থাকেন। ২৫ বলে মাত্র ২০ রান করে তিনি সাজঘরে ফেরেন। ১১ ওভার শেষে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৯৫ রান। জয় তখন বহুদূরের কঠিন পথ মনে হচ্ছিল। ঠিক এমন অসম্ভব সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য এক পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তাওহীদ ও পারভেজ।
ঘরোয়া টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ কিংবা আন্তর্জাতিক মঞ্চ, সবখানেই নিজের ব্যাটিং সামর্থ্য দারুণভাবে প্রমাণ করেছেন তরুণ পারভেজ। এবার ৫ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি খেললেন ১৪ বলে ২৮ রানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আগ্রাসী এক ইনিংস। ২৮ বলে ৫৭ রানের চমৎকার এই জুটি শেষ পর্যন্ত ভাঙলেও স্বাগতিকদের জয়ের পথ একেবারেই বন্ধ হয়নি। এরপর ক্রিজে এসেই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শামীম রীতিমতো বিধ্বংসী রূপ ধারণ করে বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ওঠেন।
ম্যাচের ১৭তম ওভারে কিউই পেসার ম্যাথু ফিশারের বলে একাই ২৫ রান তুলে নেন তিনি। শামীমের এই ভয়ংকর ব্যাটিং তাণ্ডবের পর ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি স্বাগতিকদের হাতে চলে আসে। ঠিক পরের ওভারেই লিস্টারের বলে একটি সিঙ্গেল নিয়ে তাওহীদ নিজের দুর্দান্ত ফিফটি পূর্ণ করেন এবং দলকে জিতিয়ে মাথা উঁচু করে মাঠ ছাড়েন।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উড়ন্ত সূচনা করে নিউজিল্যান্ড। নিয়মিত অধিনায়ক টম ল্যাথাম চোটের কারণে ছিলেন একাদশের বাইরে। তাই এই কঠিন ম্যাচে কিউইদের নেতৃত্ব দেন নিক কেলি। শুরুতে দ্রুত উইকেট হারালেও রানের স্বাভাবিক গতি একেবারেই কমায়নি সফরকারীরা। তিন নম্বরে নেমে ডেন ক্লেভার অত্যন্ত আগ্রাসী শুরু করেন। পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৬১ রান তুলে নেয় কেলির দল। এরপর ২৮ বলে ৫০ রানের চমৎকার একটি জুটি গড়েন ক্লার্ক এবং ক্লেভার। এর মাঝে ক্যাচ ফস্কে ও রান আউটের সুযোগ নষ্ট হওয়ায় একাধিকবার জীবন পান ক্লার্ক। পারভেজ একটি সহজ রান আউট মিস করেন।
এরপর আম্পায়ার তাকে নিশ্চিত এলবিডব্লিউ দেননি। সাইফ হাসানও একটি সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন। সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে ক্লার্ক ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন ৩৪ বলে। অন্যদিকে ক্লেভার মাত্র ২৭ বলে নিজের ফিফটি পূরণ করেন। তাদের ৫০ বলে ৮৮ রানের ভয়ঙ্কর জুটি শেষ পর্যন্ত ভাঙেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। ক্লেভার ২৮ বলে ৫১ করে বিদায় নেন। একই ওভারে ক্লার্কও আউট হন।
প্রথম ১০ ওভারে ১০০ রান করা দলটি পরের ৫ ওভারে তুলতে পারে মাত্র ৩০ রান। এর মধ্যে মেঘলা আকাশের কারণে ফ্লাডলাইটে বিভ্রাট দেখা দেয়। ফলে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন আম্পায়াররা। খেলা পুনরায় শুরু হলে মেহেদী হাসানের দারুণ এক বলে সরাসরি বোল্ড হন ডিন ফক্সক্রফট। কেলি ২৭ বলে ৩৯ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস খেললেও শরিফুলের বলে তিনিও সাজঘরে ফেরেন। শেষ দিকে জশ ক্লার্কসনের ১৪ বলে অপরাজিত ২৭ রানে ভর করে কিউইরা লড়াইয়ের শক্ত পুঁজি পায়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করে তারা।
