বাশারের ‘আগ্রাসী’ টেস্ট মিশন

বাশারের ‘আগ্রাসী’ টেস্ট মিশন

ফন্ট সাইজ:

ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশকে। আসন্ন সিরিজের প্রথম ম্যাচের জন্য রোববার রাতে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আগামী ৮ই মে থেকে শুরু হবে এই সিরিজ। এরপর ১৬ই মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গড়াবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নতুন চমক নিয়ে মাঠে নামছে স্বাগতিকরা। সাদা পোশাকের দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম এবং অমিত হাসান।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন জাকের আলী, হাসান মাহমুদ, হাসান মুরাদ এবং খালেদ আহমেদ। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় বিবেচনা করা হয়নি হাসান মাহমুদকে। অন্যদিকে বোলিং আক্রমণে ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও নাঈম হাসান। নয়া প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন টেস্টেও নতুন যুগের সূচনা করতে চাইছেন। সামনে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে যেমন পরিকল্পনা সাজিয়েছেন তেমনি টেস্ট নিয়েও আছে মহাপরিকল্পনা। বাশার দলের নতুন রণকৌশল নিয়ে বলেন, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা এখনো গর্ব করার মতো কিছু করতে পারিনি।

আমাদের লক্ষ্য এই চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো করা এবং নিজেদের অবস্থান আরও উপরে নিয়ে যাওয়া। এর জন্য আমরা ভিন্ন ধাঁচের, কিছুটা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে পারি।’ টেস্ট দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারেরই সাদা বলের ফরম্যাটে জায়গা হয় না। সারা বছর তাদের টেস্ট প্রস্তুতি নিতে হয় ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে। এই ক্রিকেটারদের নিয়ে জাতীয় দলের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করেছে ক্রিকেট বোর্ড।

নতুন চক্রে মোট ১২টি ম্যাচ খেলবে দল। এর মধ্যে তিনটি সিরিজ হবে নিজেদের মাঠে এবং তিনটি হবে প্রতিপক্ষের ডেরায়। টানা খেলার এই ব্যস্ত সূচিতে ক্রিকেটারদের প্রস্তুত রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যারা প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন না, তাদেরও খেলার মধ্যেই রাখতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। স্কোয়াডের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের নিয়ে নির্বাচক বলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটের মান এখন আগের চেয়ে অনেক উন্নত এবং উইকেটে পরিবর্তন এসেছে। এখন স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হয়।

ব্যাটারদের রান করা কঠিন, বোলাররাও দারুণ বোলিং করেন। আমরা জাতীয় ক্রিকেট লীগ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ খেলছি। জিম্বাবুয়ে সফরে চারদিনের ম্যাচ আছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া সফরেও বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ রয়েছে। তাই দলের বাইরে থাকা খেলোয়াড়রা সারা বছরই খেলার সুযোগ পাবেন।’ এই পরিকল্পনার ফলে ক্রিকেটাররা নিয়মিত ম্যাচ অনুশীলনের ভেতরেই থাকবেন। ঘরোয়া আসরগুলোতে নিজেদের প্রমাণ করে আবারো মূল দলে ঢোকার দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে।

দলের খোলনলচে বদলে ফেলার নেপথ্যে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কৌশল। পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের কথা মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছে আক্রমণভাগ। প্রতিপক্ষ শিবিরে বেশ কয়েকজন বাঁহাতি ব্যাটার থাকায় মুরাদের বদলে অফ স্পিনার নাঈমকে সুযোগ দেয়া হয়েছে। পেস বোলিংয়ে নিখুঁত লাইন ও লেন্থের অধিকারী খালেদের চেয়ে এবাদত হোসেনের আগ্রাসী মানসিকতাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছে নির্বাচক প্যানেল।

অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন অনেকদিন বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ না খেললেও পুরোপুরি ফিট রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাকে সব সংস্করণেই খেলানোর একটি দীর্ঘমেয়াদি ছক কষা হয়েছে। এদিকে ব্যাটিং লাইনআপে গতি আনতে দলে ভেড়ানো হয়েছে তানজিদকে। সাদা বলে নিয়মিত মুখ তানজিদ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দারুণ ছন্দে রয়েছেন। পঁচিশ ম্যাচ খেলে তার ঝুলিতে রয়েছে পাঁচটি শতক। তাকে মূলত তার স্বাভাবিক ও ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ের জন্যই বেছে নেয়া হয়েছে। রক্ষণাত্মক খোলস ছেড়ে তিনি টেস্টেও সফল হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে মিডল অর্ডারে গভীরতা বাড়াতে ব্যাকআপ উইকেটরক্ষক হিসেবে এসেছেন অমিত। ঘরোয়া লীগে নিয়মিত পারফর্ম করে তিনি নিজের জায়গা পাকা করেছেন। পয়েন্ট তালিকার বর্তমান চিত্র খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। মাত্র ১৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের আট নম্বরে ধুঁকছে বাংলাদেশ। শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ৮৭.০৫ শতাংশ। ফাইনালে ওঠার দৌড়ে টিকে থাকতে হলে ঘরের মাঠে জয়ের কোনো বিকল্প নেই।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন