হৃদয়ের মন্ত্র ‘অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স’

হৃদয়ের মন্ত্র ‘অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স’

ফন্ট সাইজ:

১২ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটের এক দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। লিটন দাস আউট হওয়ার পর পারভেজ হোসেন ইমন পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। এই প্রসঙ্গে তাওহিদ হৃদয় বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গুটিয়ে থাকলে একদম চলে না, অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স’। ইমনের পরিষ্কার মানসিকতা ও হৃদয়ের পরামর্শ ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে। চার নম্বর পজিশনে নেমে হৃদয় দলের হাল শক্তভাবে ধরেন। দলের দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে, ফলে মাঠে খেলোয়াড়দের মাঝে কোনো চাপের ছাপ দেখা যায়নি। রান তাড়ায় ১৭তম ওভারে ম্যাথু ফিশারের এলোমেলো বোলিংয়ে সমীকরণ একদম সহজ হয়। ওই ওভারে ২৫ রান ওঠে। ন্যাথান স্মিথকে ছক্কা হাঁকান শামীম হোসেন।

কিপারের মাথার ওপর দিয়ে শামীমের মারা ‘নো লুক’ ছক্কা ছিল চোখধাঁধানো এক দৃশ্য। ফিশারের ওভারে নো ও ওয়াইড ছিল চোখে পড়ার মতো। শেষ ৩ ওভারে লক্ষ্য দাঁড়ায় কেবল ৫ রান। এমন দাপুটে জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। চার নম্বরে খেলা হৃদয় নিজের সেরাটা দিয়েছেন। দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলার সুফল পেয়েছে পুরো দল। বাইরে থেকেও কোনো চাপ বোঝা যায়নি।

বেন লিস্টারের বলে দারুণ সিঙ্গেল নিয়ে মাত্র ২৬ বলে দুর্দান্ত ফিফটি পূরণ করেন হৃদয়। ওভারের শেষ বলে তার নেওয়া চমৎকার সিঙ্গেলেই চূড়ান্ত জয় নিশ্চিত হয়। ২৭ বলে ৩টি বিশাল ছক্কা ও ২টি দর্শনীয় চারে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন ডানহাতি এই মারকুটে ব্যাটার। হৃদয়ের সঙ্গে মাত্র ২১ বলে ৪৯ রানের এক অবিচ্ছিন্ন বিধ্বংসী জুটিতে বড় অবদান রাখেন শামীম। ১৩ বলে ২টি ছক্কা ও ৩টি চারে ৩১ রানের এক ঝড়ো ক্যামিও ইনিংস খেলেন এই প্রতিভাবান বাঁহাতি ব্যাটার। ঘরোয়া ক্রিকেট কিংবা ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ খেলার বিশাল অভিজ্ঞতা এই অসামান্য পারফরম্যান্সে দারুণ সাহায্য করেছে। সতীর্থদের নিজ নিজ জায়গা থেকে সেরাটা দেওয়ার অদম্য চেষ্টাই এই জয়ের পথ সহজ করেছে।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ব্যাটাররা স্বাধীনভাবে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা উপহার দিচ্ছেন। ভয়ডরহীন এমন আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত অনায়াস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দল। দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় নিজেদের সামর্থ্যের ওপর গভীর আস্থা রাখেন। বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা তাদের এই দারুণ আত্মবিশ্বাস প্রতিনিয়ত জুগিয়েছে মাঠে। গত আসরে ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম ফরম্যাটে সর্বোচ্চ সংখ্যক ছক্কা হাঁকিয়েছিল জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা। এবারেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দলের এমন দাপুটে জয়ে উচ্ছ্বসিত হৃদয় ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এমন দারুণ ম্যাচ আমরা যত বেশি জেতাতে পারবো, টিমের জন্য তত ভালো এবং সবার আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে নিশ্চিত’।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন