২০৩০-এর শতবর্ষী কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। এদিকে দুই দশক আগের ২০১০ দিল্লি গেমসের আর্থিক ও আইনি জটিলতা আজও পিছু ছাড়েনি। ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এখনও সেই আসরের বকেয়া পরিশোধ করে চলেছে দেশটির সরকার।
ভারতের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিকম সংস্থা এমটিএনএল-এর বকেয়া বাবদ ২৮ কোটি রুপির বেশি পরিশোধ করা হয়েছে। এই পুরনো দায় মেটানোর জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য আরও ৫০ কোটি টাকা আলাদা করে রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি আদালতের অধীনে থাকায় সঠিক দায়ের পরিমাণ নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। দিল্লি গেমসের পর গত ১৬ বছরে আইনি লড়াইয়েও বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, আইনজীবীদের পেছনে ৬.৩৭ কোটি এবং সালিশি ট্রাইব্যুনালের জন্য ৬.৬৩ কোটি—সব মিলিয়ে ১৩ কোটি রুপির বেশি খরচ হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন আদালতে ২৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে ২৪টি ভেন্ডর ও সংস্থা জড়িত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সুইস কোম্পানি ‘নুসলি’ এবং ইলেকট্রনিক্স কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া।
২০১০ সালের সেই আসরটি দুর্নীতির অভিযোগে কলঙ্কিত হয়। কম্পট্রলার অ্যান্ড অডিট জেনারেল অব ইন্ডিয়ার (সিএজি) রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৩ সালে যে আসরের বাজেট ধরা হয়েছিল ২৯৭ কোটি টাকা, ২০১০ সাল নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৫০০ কোটি রুপিরও বেশিতে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৫-এ তৎকালীন আয়োজক কমিটির প্রধান সুরেশ কালমাদিকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তার মৃত্যু হয়।
২০৩০ কমনওয়েলথের জন্য এরই মধ্যে আয়োজক স্বত্ব পেয়েছে আহমেদাবাদ। একই শহরে ২০৩৬ অলিম্পিক গেমস আয়োজনের জন্য বিড করেছে ভারত। খবর বেরিয়েছে, ২০৩৮ এশিয়ান গেমস আয়োজনের জন্যও বিড করবে তারা। তবে এতকিছুর মধ্যে সেই পুরনো দেনার দায় এখনও কাটিয়ে না উঠতে পারার খবর ভারতের জন্য অস্বস্তিরই।
